র‍্যাগ ডে নয়, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই: মাদক-কিশোর গ্যাং ঠেকাতে মাউশির কঠোর নির্দেশনা

মাদকবিরোধী প্রচার, ইভটিজিং প্রতিরোধ ও রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | News For Justice

মাদক, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং ও ‘র‍্যাগ ডে’র নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মাউশির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক অফিস আদেশে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, ইভটিজিং বন্ধ এবং ‘র‍্যাগ ডে’র নামে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের নির্দেশ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৈরি মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি ও থিম সং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইভটিজিং প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ

নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের রাতে পড়াশোনায় মনোযোগী করতে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ, সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রচারণাপত্র বিতরণের মাধ্যমেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে বলা হয়েছে।

২৬ অক্টোবরের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন

মাউশির নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসগুলোকে আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক অগ্রগতি নির্ধারিত ছকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে থাকবে—

  • আওতাধীন মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা;
  • কতটি প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে;
  • ইভটিজিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না;
  • কতটি প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ হয়েছে;
  • রাতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব তথ্য সংকলন করে আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসব হোক শৃঙ্খলায়

শিক্ষার্থীদের আনন্দ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও তার আড়ালে যেন মাদক, হয়রানি, কিশোর গ্যাং বা বিশৃঙ্খলা জায়গা না পায়—মাউশির সাম্প্রতিক নির্দেশনায় সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, মাদকমুক্ত পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থী—সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার ওপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ