
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | News For Justice
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে কারাগারের পরিবর্তে নিজ বাসায় থেকে বর্তমান সাজা ভোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা পেতে তাকে ৫০ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরিজ পারডনস বোর্ডের বৈঠকে দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিমের অনুমোদনের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০২৮ সাল পর্যন্ত বাসায় সাজা
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, নাজিব রাজাককে ২৩ আগস্ট ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার বর্তমান সাজা বাসায় থেকে ভোগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি নিঃশর্ত মুক্তি নয়; এটি একটি শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমা।
নাজিবকে নির্ধারিত ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধের পাশাপাশি পারডনস বোর্ডের আরোপ করা সব শর্ত মেনে চলতে হবে। কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে এই সুবিধা বাতিল হয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হবে।
দুর্নীতি মামলায় কারাগারে ছিলেন নাজিব
৭৩ বছর বয়সী নাজিব রাজাক ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিল 1Malaysia Development Berhad (1MDB)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ কেলেঙ্কারির একটি মামলায় তিনি দণ্ডিত হন।
২০২০ সালে SRC International-সংক্রান্ত মামলায় তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ২১০ মিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছিল। ২০২২ সালের আগস্টে আপিলের শেষ ধাপ ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি কারাগারে সাজা ভোগ শুরু করেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তার সাজা কমিয়ে ছয় বছর করা হয় এবং জরিমানাও কমিয়ে ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে সেই সাজাই তিনি ভোগ করছেন।
নতুন মামলায় আরও বড় সাজা
তবে নাজিব রাজাকের আইনি জটিলতা এখানেই শেষ হচ্ছে না।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে 1MDB-সংশ্লিষ্ট আরেকটি মামলায় তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১.৩৮ বিলিয়ন রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়। ওই রায় ও সাজার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন।
অর্থাৎ, বর্তমান শর্তসাপেক্ষ বাসায় সাজা ভোগের সিদ্ধান্তটি তার অন্য মামলার সাজাকে বাতিল করছে না।
কীভাবে হলো এই সিদ্ধান্ত?
শুক্রবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ফেডারেল টেরিটরিজ পারডনস বোর্ডের ৬৪তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নাজিবকে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্ধারিত শর্তগুলো ভঙ্গ করলে শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা বাতিল হবে এবং নাজিবকে অবিলম্বে কারাগারে ফিরে গিয়ে বাকি সাজা ভোগ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় সিদ্ধান্ত
দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাগারের পরিবর্তে বাসায় থেকে সাজা ভোগের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মালয়েশিয়ার রাজকীয় ক্ষমা ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি করেছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ মুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নাজিবের বর্তমান সাজা বহাল রয়েছে এবং বাসায় সাজা ভোগের সুযোগটি নির্দিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভরশীল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে থাকা পৃথক 1MDB মামলার সাজা ও আপিল প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
News For Justice | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

