বই নয়, দুর্নীতির হিসাব! এনসিটিবিতে এক বছরে ২,৭১১ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ফর জাস্টিস/ প্রতিবেদন 

📚 বই নয়, দুর্নীতির হিসাব! এনসিটিবিতে এক বছরে ২,৭১১ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

ঢাকা | ২৭ জুলাই ২০২৬

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-কে ঘিরে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে মোট প্রায় ২,৭১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অনিয়ম হয়েছে পাঠ্যপুস্তকের মান নিশ্চিত না করেই বিপুল অর্থ ব্যয়, অতিরিক্ত বইয়ের কার্যাদেশ প্রদান এবং বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে।

প্রতিবেদনে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ:

  • ১,৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে মান নিশ্চিত না করেই।
  • ৫১৬ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বই মুদ্রণ ও সরবরাহের কার্যাদেশে।
  • ২১৬ কোটির বেশি ক্ষতি হয়েছে অতিরিক্ত দরে কার্যাদেশ দেওয়ার কারণে।
  • নিয়মবহির্ভূত ভাতা, সম্মানী, অগ্রিম উত্তোলন ও কর ফাঁকির অভিযোগও উঠে এসেছে তদন্তে।

এছাড়া তদন্তে বলা হয়েছে, একক দরদাতাকে কাজ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় পরামর্শক নিয়োগ, প্রেস মনিটরিং খাতে দ্বৈত বিল এবং আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের একাধিক ঘটনা সরকারি অর্থের অপচয় ঘটিয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের বইয়ের চাহিদা পুনরায় যাচাই করে প্রায় এক কোটি বইয়ের অতিরিক্ত চাহিদা কমানো হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ১৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

নিউজ ফর জাস্টিসের মন্তব্য:
শিক্ষা খাতে প্রতিটি টাকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার। তাই এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের অভিযোগ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচিত নয়।

তথ্য সুত্র :মানব জমিন

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ