
News for Justice | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ভূমিকম্পের পর শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পর লেন্দে খোলা নদীর ওপর থাকা একটি বিশাল হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ার কারণে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। ধসের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে পানি ও বরফ জমে যায়। পরে সেই বাধা ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি নিচের দিকে নেমে এলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর মাত্র তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। তবে ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও যাচাই প্রয়োজন বলে তিনি জানিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে।
নেপালের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে বরফের বিশাল একটি খণ্ড ধসে পড়ার সময় এর সঙ্গে পাথর ও বিপুল পরিমাণ পলিমাটিও নিচে নেমে আসতে পারে। এতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সড়ক-সেতু ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষতি
প্রবল পানির স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনাও।
বন্যার পর বহু স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের তালিকায় শতাধিক ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আবারও বন্যার আশঙ্কা
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। লেন্দে নদীর উজানে মাটি ও বরফের স্তূপ আটকে থাকায় নতুন করে পানির প্রবাহ তৈরি হলে আবারও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
নেপাল থেকে প্রবাহিত কয়েকটি নদী ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করায় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
চলছে উদ্ধার অভিযান
দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

