
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইতালিকে হারিয়ে চতুর্থ শিরোপা জয়, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে রানার্সআপ হওয়া এবং সবশেষ ২০০২ সালে লুইজ ফেলিপে স্কোলারির অধীনে জার্মানিকে হারিয়ে পঞ্চম শিরোপা জিতে টানা তিনবার সেমিফাইনাল বা তার চেয়ে দূরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর রেকর্ড পূর্ণ করে সেলেসাওরা। জার্মানির অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা
ধারাবাহিকতার দিক থেকে জার্মানিও (তৎকালীন পশ্চিম জার্মানি) অনন্য রেকর্ড গড়েছে। তারা ১৯৬৬ সালে রানার্সআপ, ১৯৭০ সালে ইতালির কাছে স্মরণীয় সেমিফাইনালে হেরে তৃতীয় এবং ১৯৭৪ সালে ইয়োহান ক্রুইফের নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবার টানা তিন আসরের শীর্ষ চারে নাম লেখায়।
পরবর্তীতে ১৯৮২, ১৯৮৬ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও তারা টানা তিনবার ফাইনালে ওঠে, যার মধ্যে ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে তারা তাদের তৃতীয় শিরোপা জয় করে।
দেশটির পুনরেকত্রীকরণের পর জার্মানি আরও একটি চোখধাঁধানো রেকর্ড গড়ে। ২০০২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারা একমাত্র দল হিসেবে টানা চারটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। এই যাত্রায় তারা ২০০২ সালে রানার্সআপ হয়, ২০০৬ ও ২০১০ সালে তৃতীয় স্থান লাভ করে এবং সবশেষ ২০১৪ সালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে এবং আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা তিনবার সেমিফাইনালে ওঠা দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স দলের জন্য এক নজিরবিহীন গৌরব। এই জয়রথ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর ২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার সাথে ৩-৩ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে হেরে রানার্সআপ হয় তারা।
এবার ২০২৬ সালের মঞ্চে মরক্কোকে বিদায় করে আবারও সেরা চারে জায়গা নিশ্চিত করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ধারাবাহিক দল হিসেবে নিজেদের নাম লেখাল ‘লে ব্লুজ’রা।

