
নিউজ ফর জাস্টিস রিপোর্ট | ঢাকা
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের অঞ্চলে আধুনিক, সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি ২০২৬–২০৪৫) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৪৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে ৮টি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন, ২টি বিআরটি লাইন, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ৩টি রিং রোড, ৮টি রেডিয়াল সড়ক এবং ২১টি মাল্টিমোডাল পরিবহন হাব নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য বর্তমান ১৯.৮ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ২৬৮.৫ কিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিটিসিএ জানিয়েছে, রাজধানীতে গণপরিবহনের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ২০১৪ সালে যেখানে গণপরিবহন ব্যবহার ছিল ২২.৮ শতাংশ, সেখানে ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৮.৯ শতাংশে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনায় আরও রয়েছে প্রায় ৭৯.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডর, যা মেট্রোরেলের ফিডার সার্ভিস হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি সদরঘাট থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বৃত্তাকার নৌপথ, নতুন ল্যান্ডিং স্টেশন, আন্তজেলা বাস টার্মিনাল নগরের বাইরে স্থানান্তর এবং বাস রুট রেশনালাইজেশনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
ডিটিসিএর তথ্যমতে, বর্তমানে ১৯ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী ‘র্যাপিড পাস’ স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করছেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রোরেল যাত্রা এই কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্টের আওতায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর প্রস্তুতি চলছে, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ সালের আগস্টের মধ্যে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
গাবতলী, কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব গড়ে তুলে মেট্রোরেল, বাস, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহনকে এক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।
নিউজ ফর জাস্টিস পর্যবেক্ষণ:
এই পরিকল্পনা নির্ধারিত সময় ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট, দূষণ এবং যাতায়াত সংকট অনেকাংশে কমতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয়ের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিত করা হবে—এমন প্রত্যাশাই নগরবাসীর।

