
News for Justice | প্রতিবেদক ডেস্ক
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সাবেক কর্মকর্তা মো. সামসুল আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়োগ ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে নিরপেক্ষ এবং দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সেই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করবেন।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর মো. সামসুল আলম বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ২৩ জুলাই সরকার তাঁকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।
এ নিয়োগের পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি অভিযোগ করে, এটি আসন্ন স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। দল দুটি নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষতা। তাই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে সেখানে নিয়োগ দেওয়া জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
তবে মো. সামসুল আলম এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন এবং দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করবেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন, নাগরিক সমাজ ও নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র : সমকাল

