শ্রাবণের সন্ধ্যায় সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ করলেন রুনা লায়লা

স্টাফ রিপোর্টার | News For Justice

রাজধানীর আকাশে শ্রাবণের বৃষ্টি আর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সুরের আবেশ—দুই মিলিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছিল এক অনন্য সংগীতসন্ধ্যা। উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একক পরিবেশনায় মুগ্ধ হন শত শত দর্শক-শ্রোতা।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের ভুবনে অসামান্য অবদান রেখে আসা এই শিল্পী তাঁর কালজয়ী গানগুলো পরিবেশন করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয় ছুঁয়ে যান। ৭০০ আসনবিশিষ্ট জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনের প্রতিটি আসন ছিল পূর্ণ।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দিনেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়।

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার কিছু পরে মঞ্চে উঠে রুনা লায়লা শুরুতেই ভাষা আন্দোলন ও দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দেশাত্মবোধক গান ‘দেশের জন্য যারা’ দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
পর্যায়ক্রমে তিনি পরিবেশন করেন ‘শিল্পী আমি’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘গানেরই খাতায়’, ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’, ‘আমায় গেঁথে দাও না’, ‘বন্ধু তিন দিন’, ‘অনেক বৃষ্টি ঝরে’, ‘সাধের লাউ’ এবং প্রথমবারের মতো মঞ্চে গাইলেন নজরুলসংগীত ‘ভুলিতে পারি না’।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দর্শকদের জোরালো অনুরোধে রাত সোয়া ৯টার দিকে তিনি পরিবেশন করেন তাঁর বহুল জনপ্রিয় গান ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই সংগীতানুষ্ঠানে মোট ১১টি গান পরিবেশন করেন তিনি।
প্রতিটি গানের পর দর্শকদের দীর্ঘ করতালি ও উচ্ছ্বাস যেন প্রমাণ করে—সময় বদলালেও রুনা লায়লার গান আজও একই রকম ভালোবাসা ও আবেগ নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

রুনা লায়লার এই একক সংগীতসন্ধ্যা শ্রোতাদের কাছে শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং বাংলা গানের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও অনুভূতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ