
দিল্লি ঘোষণায় বিশ্ব রাজনীতিতে সহযোগিতার বার্তা, মোদি-শি বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার
নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের বার্তা দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিনভর বহুপক্ষীয় আলোচনা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক ‘দিল্লি ঘোষণা’ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোসহ ব্রিকসের সদস্য ও সহযোগী দেশগুলোর শীর্ষনেতারা অংশ নেন।
এবারের সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহব্যবস্থার সংকট, আঞ্চলিক সংঘাত এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। টেকসই ক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে সামনে রেখে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর গুরুত্ব দেন নেতারা।
মোদি-শি বৈঠকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা

সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতীয় ভূখণ্ডে এসে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন শি।
বৈঠকে হিমালয় সীমান্ত ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের মতপার্থক্য যেন বিরোধে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও জোর দেন মোদি।
বিদ্যমান সীমান্ত চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা ও উভয় দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই নেতা একমত হন।
পুতিনের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনীতির ওপর জোর
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। সামরিক আগ্রাসনের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দিল্লি ঘোষণায় সন্ত্রাসবাদের নিন্দা

সম্মেলনের শেষ দিনে ৪৫ পৃষ্ঠা ও ১৪০ অনুচ্ছেদের ‘দিল্লি ঘোষণা’ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এতে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও একতরফা সামরিক সংঘাতের নিন্দা জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর ন্যায্য নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রযুক্তির একচ্ছত্র আধিপত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সম্মেলন শেষে ব্রিকস নেতাদের সঙ্গে দিল্লির ‘ভারত ইনোভেটস’ প্রযুক্তি প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন নরেন্দ্র মোদি।
২০২৭ সালে ব্রিকসের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক ও পরবর্তী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবে চীন। সম্মেলনের সমাপ্তিতে চীন ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
News for Justice | World News

