
আবুল
১৩ বছর পর আপিলের সুযোগ; রক্ষণীয়তা নিয়ে আপত্তি প্রসিকিউশনের
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের করা আপিল চলবে কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। তবে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় নির্ধারিত সময়ে তিনি আপিল করতে পারেননি।
আপিলের বৈধতা নিয়ে প্রসিকিউশনের আপত্তি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আবুল কালাম আযাদ দেশে ফিরে সাজা স্থগিতের আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। পরে তিনি আপিল বিভাগে তার দণ্ড ও সাজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
প্রসিকিউশনের দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের পর আপিল করার আইনগত সুযোগ নেই। ফলে দীর্ঘ সময় পর দায়ের করা আপিলটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য বা ‘রক্ষণীয়’ নয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আবুল কালাম আযাদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি বা ‘লিভ টু আপিল’ না নিয়েই সরাসরি আপিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের নিজস্ব বিধান ও প্রক্রিয়াই এ ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রসিকিউশনের আপত্তির পর আদালত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আদেশ না দিয়ে আপিলটি রক্ষণীয় কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
আইনজীবীর বক্তব্য
আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী নজিবুর রহমান মোমেন দাবি করেন, দেশে ফিরে আবুল কালাম আযাদ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাজা স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। পরে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয় এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্ত দেওয়া হয়।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আপিল গ্রহণের বিষয়ে আদালতের বেঞ্চ থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষণ এসেছে। তিনি বলেন, ৩১ আগস্ট আপিলটি গ্রহণযোগ্য কি না এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলোর শুনানি হবে।
আপিল গ্রহণ করা হলে এবং প্রসিকিউশনের আপত্তি খারিজ হলে সেদিনই মূল আপিলের শুনানি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
সাতটি অপরাধ প্রমাণিত, মৃত্যুদণ্ড
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর আবুল কালাম আযাদের মামলাটি ছিল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ মোট আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পরে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তান হয়ে আবুল কালাম আযাদের দেশে ফেরার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর তিনি সাজা স্থগিতের আবেদন করেন।
২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শর্ত দেওয়া হয়, আদালতে আত্মসমর্পণ করে তাকে আপিল করতে হবে।
চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে রায়ের সার্টিফায়েড কপি ও অন্যান্য নথিপত্রের জন্য আবেদন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আপিল দায়ের করেন আবুল কালাম আযাদ।
এখন আগামী ৩১ আগস্টের শুনানিতে তার আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তির দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

