
নিজস্ব প্রতিবেদক | News for Justice
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আল আমিন (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের টিনপট্টি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত ৩টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আল আমিন ভৈরব পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক। পাশাপাশি তিনি সারের ব্যবসা করতেন। ভৈরব বাজারে তার ‘রিভারভিউ’ নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেলে করে হোটেল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন আল আমিন। বাসার সড়কে ঢোকার পর দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তার মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং একটি পায়ের রগ কাটার চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আল আমিনের স্ত্রী তানিয়া খানম জানান, রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। তখন আল আমিন জানিয়েছিলেন, তিনি হোটেলে আছেন এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরবেন। তাকে রাতের খাবার প্রস্তুত রাখতে বলেছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তিনি দুবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামিনে ছিলেন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকটা আড়ালে জীবনযাপন করছিলেন।
এদিকে, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুর রহমান আল আমিন হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত চলছে।

