
নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউজ ফর জাস্টিস
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মনির খান) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় হাজারো মানুষ অংশ নেন।
সম্প্রতি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতকড়া পরা মনির খানের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ছবিতে দেখা যায়, তিনি লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া লাগানো ছিল।
পরিবারের দাবি, গত ৯ জুন কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লেও বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। পরে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ১৪ জুন থেকে তিনি আইসিইউতে ছিলেন এবং ভর্তি হওয়ার দুই দিন পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
মনির খানের স্ত্রী সালমা জাহান অভিযোগ করেন, আইসিইউতে ভর্তি থাকা অবস্থায়ও বারবার অনুরোধ করার পরও দায়িত্বরত পুলিশ তার স্বামীর হাতের হাতকড়া খুলে দেয়নি। তার ভাষ্য, একাধিক মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন তার স্বামী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনির খানের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। পরে আদালতের এক আদেশে একটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
আইসিইউতে একজন গুরুতর অসুস্থ আসামির হাতে হাতকড়া লাগিয়ে রাখার বিষয়টি মানবাধিকার, নিরাপত্তা বিধি এবং বন্দিদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে নতুন করে জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সম্ভাব্য তদন্তের দিকেও নজর রয়েছে।

