এনায়েতপুর থানায় ১৫ পুলিশ হত্যা: এখনও সব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি

দুই বছর পরও তদন্ত চলমান, লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক | নিউজ ফর জাস্টিস
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় থানা থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও সরঞ্জাম লুট করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখনও একটি রাইফেল, চারটি পিস্তল ও একটি শটগানসহ মোট ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

একই দিনে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানাতেও হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখান থেকে লুট হওয়া ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ১৭টি উদ্ধার হলেও আটটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় থানা থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ওই দিনের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে জানান, হামলার পর এলাকায় দীর্ঘ সময় আতঙ্ক বিরাজ করেছিল।

পুলিশের তথ্যমতে, এনায়েতপুর থানা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে এবং হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত থানা ভবন সংস্কার করে পুনরায় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে পোড়া যানবাহনসহ কিছু আলামত এখনও মামলার প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে হামলার জন্য আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতনামা কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওই সময় নিহত বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘটনায় দায়ের হওয়া পৃথক মামলাগুলোরও তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান; অভিযোগগুলো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।)

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ