
⚖️ আইন ও বিচার | News for Justice
স্টাফ রিপোর্টার | News for Justice
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বিচারক সংকট ক্রমেই প্রকট আকার ধারণ করছে। বিচারপতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় একাধিক বেঞ্চ গঠন সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিচারাধীন মামলার জট দ্রুত বাড়ছে। আইনজীবীদের মতে, এই পরিস্থিতি ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে দীর্ঘ ও জটিল করে তুলছে।
বর্তমানে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র চারজন। অথচ বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার ৭১৩টি। তুলনামূলকভাবে ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করলেও বিচারাধীন মামলা ছিল মাত্র ৫ হাজার ২৬০টি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচারপতির স্বল্পতার কারণে এখন আর একাধিক বেঞ্চ গঠন করা যাচ্ছে না। অতীতে দুই থেকে তিনটি বেঞ্চে একযোগে বিচারকাজ পরিচালিত হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে সেই সুযোগ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোরও শুনানি বিলম্বিত হচ্ছে।
আইনজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপিল বিভাগে দ্রুত নতুন বিচারপতি নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে অন্তত তিনটি বেঞ্চ গঠন করা গেলে মামলা নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তিও কমবে।
এদিকে আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁর বক্তব্য, বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন ও ক্রমবর্ধমান মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে আপিল বিভাগের বিচারপতি ছিলেন চারজন, তখন বিচারাধীন মামলা ছিল ৪ হাজার ৫৬টি। বর্তমানে জনসংখ্যা ও মামলার সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও বিচারপতির সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারক সংকট এখন বিচারব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ধরে রাখতে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগে যোগ্য ও দক্ষ বিচারপতি নিয়োগের পাশাপাশি বেঞ্চ সংখ্যা বাড়ানো সময়ের দাবি।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট তথ্য।

