
📉 এসএসসির ফলে ধাক্কা: কমল পাসের হার, কমেছে জিপিএ-৫ও
১১ বোর্ডে পাস ৬২.২৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন
News for Justice | শিক্ষা
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবারের ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই সূচকেই গত বছরের তুলনায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।
🔴 ১১ বোর্ডে পাসের হার ৬২.২৫%
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বছর মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
📉 জিপিএ-৫ কমেছে ১৯ হাজারের বেশি
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। চলতি বছর এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জনে।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
👩 ছাত্রীদের সাফল্য বেশি
ফলাফলে ছাত্রীদের এগিয়ে থাকার চিত্রও উঠে এসেছে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে। একইভাবে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
⚠️ শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে
এবার ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি।
- ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ০% পাস প্রতিষ্ঠান: ৫৭টি
- ২০২৫ সালে ছিল: ৪৮টি
- মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ০% পাস প্রতিষ্ঠান: ২২৬টি
- ২০২৫ সালে ছিল: ৮৬টি
- কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ০% পাস প্রতিষ্ঠান: ২৯টি
- ২০২৫ সালে ছিল: ০টি
এদিকে এ বছর মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি এবং পরীক্ষা কেন্দ্র বেড়েছে ২০১টি।
News for Justice-এর প্রশ্ন
পাসের হার কমার পাশাপাশি শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কেন বাড়ল—শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় কি এখনই নয়?
ফলাফল শুধু পরীক্ষার্থীদের সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব নয়; এটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্রও তুলে ধরে। বিশেষ করে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬

