তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো কোনো প্রকল্পে বরাদ্দের সামান্য অংশ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বরাদ্দের কোনো অর্থই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে প্রকল্প দেখানো, প্রকল্প কেনাবেচা এবং নামে-বেনামে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমেও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে গিদারী ইউনিয়নের ‘কিশামত ফলিয়া ফারাজি পাড়া জামে মসজিদ মেরামত’ প্রকল্পে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মসজিদ কর্তৃপক্ষ পেয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পের সভাপতি ইমাম তোহা খন্দকার জানান, তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর করেছেন, তবে প্রকল্পের আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না।
প্রকল্প পরিচালনাকারী সারোয়ার মোবাইল ফোনে মসজিদে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করেন, মসজিদ কমিটিকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্তেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ‘পিআইও অফিসে প্রকল্প কেনাবেচা হয়’ এবং তিনি প্রকল্পটি কিনে নিয়েছেন।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ‘আরিফ খাঁ বাসুদেবপুর উত্তরপাড়া কবরস্থান সংস্কার’ প্রকল্পে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কবরস্থান সংশ্লিষ্টরা কোনো অর্থ পাননি বলে জানান। তাদের দাবি, প্রকল্পটির বরাদ্দ সম্পর্কেও তারা অবগত ছিলেন না।
একই অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পে ‘আরিফ খাঁ বাসুদেবপুর আউয়ালের বাড়ি হতে নজলার রহমান জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার’ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে পাঁচ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হলেও সরেজমিনে ওই প্রকল্পের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে কোনো রাস্তা নেই; কয়েকটি পরিবারের বাড়ির উঠান রয়েছে এবং কোনো উন্নয়নকাজও হয়নি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ছাট চকবরুল শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়ন প্রকল্পে ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও মন্দির কমিটি পেয়েছে মাত্র ২৬ হাজার টাকা। মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র বর্মণ জানান, দ্বিতীয় দফার অর্থের জন্য পিআইও অফিসে যোগাযোগ করা হলেও তাদের জানানো হয়, ওই টাকা নেই।

অন্যদিকে লক্ষীপুর ইউনিয়নের ‘বালাআটা উত্তরপাড়া জামে মসজিদ উন্নয়ন’ প্রকল্পে ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মসজিদ কমিটি পেয়েছে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। প্রকল্পের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম জানান, তার কাছ থেকে ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাও মসজিদে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, বাকি টাকা পিআইও কর্মকর্তার।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম। ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি না হলেও তিনি অভিযোগের দায় উপসহকারী প্রকৌশলী জুবায়ের রহমানের ওপর দেওয়ার চেষ্টা করেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থ লুটপাট বা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়েছে কি না তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বঞ্চিত অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজ ফর জাস্টিস | অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
প্রধান সম্পাদক : সালমান মাহমুদ
18/1 Naya polton, 2nd floor, Dhaka -1000, Bangladesh.
+880 1979-778844, +880 1712-027525
Justice Media Ltd. এর একটি প্রতিষ্ঠান
© Copyright - newsforjustice.com