প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সঙ্গে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যমান যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশে আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও তার স্ত্রী কেট জারো খানের আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু একটি সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, দুই দেশের জনগণ বাস্তবে একটি অভিন্ন স্বপ্নও ভাগ করে নেয়। দুই দেশের সম্পর্কে বিদ্যমান সমস্যাগুলো বৈঠকের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের হৃদয় খুব কাছাকাছি। তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি ‘সোনালি অধ্যায়’ দেখতে চান।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ। দুই দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ, মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে অভিন্ন লক্ষ্য থাকলে এসব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘জনগণের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই নেতা যখন একসঙ্গে বসে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন, তখন এমন কোনো সমস্যা বা ইস্যু নেই, যা আলোচনা ও সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি সোনালি সময় প্রতিষ্ঠা করাই তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
এর আগে গত শনিবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে তিনি বাংলাদেশ-ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগই বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রকৃত ভিত্তি।
দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাসের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধন গভীরভাবে জড়িত। অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তির ওপর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসলে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। ভালো সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।
নৈশভোজে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সাবেক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইউএনবি
প্রধান সম্পাদক : সালমান মাহমুদ
18/1 Naya polton, 2nd floor, Dhaka -1000, Bangladesh.
+880 1979-778844, +880 1712-027525
Justice Media Ltd. এর একটি প্রতিষ্ঠান
© Copyright - newsforjustice.com