ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

৪০ ইঞ্চির ৩২ বছরের ছমির

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

40 inch 32 year old boy:

বাড়ির বাইরে খেলাধুলায় মত্ত থাকা শিশুদের দেখে বোঝার উপায় নেই সেখানে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী আছর উদ্দিন ওরফে ছমির। ৮ বছরের শিশুর শরীরে আটকে আছেন ৩২ বছরের ছমির। তিনি কুড়িগ্রামে থাকেন। বয়স ৩২ বছর হলেও এখনও দেখতে হুবহু শিশুর মতো। তার উচ্চতা মাত্র ৪০ ইঞ্চি। শুধু তাই নয় সারাদিন খেলাধুলা করছেন গ্রামের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে। বর্তমানে তার দরিদ্র বাবা-মা দেখাশোনা করলেও আছর উদ্দিনের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়ার আজিম উদ্দিন ও আছিয়া বেগম দম্পতির ছেলে আছর উদ্দিন ছমির। ১৯৯২ সালের ২৪ মে জন্ম তার। বয়স ৩২ বছর হলেও ৮ বছরে শিশুর মতোই তার দৈহিক আকৃতি ও মানসিক অবস্থা। এই দরিদ্র দম্পতির এক মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে আছর উদ্দিন দ্বিতীয় এবং ছেলের মধ্যে বড়।

আছর উদ্দিনের বাবা-মা জানান, জন্মের পর থেকেই সে অস্বাভাবিক। বয়স হলেও তাকে শিশুর মতোই লালন-পালন করছেন তারা। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে দেখিয়েছেন চিকিৎসকও। তারপরও শরীরে নানা সমস্যা নিয়ে শিশুই থেকে গেছেন আছর উদ্দিন। নিজেদের অবর্তমানে এই সন্তানের ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তিত তারা।

স্থানীয়রা বলেন, আছর উদ্দিনের সম বয়সীরা বিয়ে করে ঘর-সংসার করলেও সে রয়ে গেছে মায়ের কোলে। এই বয়সেও এক মনেই খেলাধুলা করেন শিশুদের সঙ্গে। আবার কখনও বাবার হাত ধরে যান বাজারে।

ছমিরের খেলার সঙ্গী ৮ বছর বয়সী শিশু সিনথিয়া আক্তার বলে, ছমির আমার চাচা হয়। আমরা এক সঙ্গে সমসময় খেলি। ছমির চাচা কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে না, সে খুব ভালো মানুষ।

তার মা আছিয়া বেগম বলেন, যখন আমার ছেলের ২ বছর বয়স হয় তখন জানতে পারছি আমার ছেলের শারীরিক সমস্যা আছে। পরে তাকে স্বাভাবিক করে তুলতে অনেক ডাক্তার কবিরাজকে দেখাইছি। ডাক্তার আমাকে বলছে আপনার ছেলে স্বাভাবিক হবে না। তারপরেও তাকে মাঝে মাঝে ডাক্তারকে দেখাইছি। এখন তো তার বয়স অনেক হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক হয়নি। এখন তার ঘাড়ে সমস্যা, পেটের সমস্যা, আরও অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছমির যেদিন কান্না শুরু করে শুধু কানতেই থাকে। যখন রেগে যায় তখন বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তাকে বাড়িতে রেখে কোথাও যেতে পারি না, কোথাও গেলে মনটা আমার বাড়িতে পড়ে থাকে তার জন্যে। তার সঙ্গে সবসময় একজন থাকতে হয়। গোসল করায় দিতে হয়, খাওয়াইতে হয়। জামাকাপড়ও পড়াই দিতে হয়। সংসারে খুব কষ্ট আমাদের। তারপরেও ছেলেকে এখনো আদর যত্নে রাখছি। মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমি মারা গেলে আমার ছেলেটাকে কে দেখবে এই চিন্তায় ভালো লাগে না।

প্রতিবেশীরা বলেন, ছমিরকে ছোট বেলা থেকেই প্রতিবন্ধীর মতো দেখছি। সব সময় ছোট বাচ্চাদের সঙ্গেই খেলাধুলা করে। তার আসলে শারীরিক বৃদ্ধির নেই।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম বলেন, মায়ের গর্ভাবস্থায় ত্রুটিজনিত কারণে ছমির খর্বাকৃতি হয়ে জন্ম নিয়েছে। এজন্য সন্তান গর্ভে থাকার সময় নিয়মিত চেকআপ আয়োডিন ও পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পরামর্শ এই চিকিৎসকের। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আছর উদ্দিনকে কিছুটা হলেও সুস্থ করে তোলা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৪০ ইঞ্চির ৩২ বছরের ছমির

আপডেট সময় : ০১:০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪

40 inch 32 year old boy:

বাড়ির বাইরে খেলাধুলায় মত্ত থাকা শিশুদের দেখে বোঝার উপায় নেই সেখানে রয়েছেন ৩২ বছর বয়সী আছর উদ্দিন ওরফে ছমির। ৮ বছরের শিশুর শরীরে আটকে আছেন ৩২ বছরের ছমির। তিনি কুড়িগ্রামে থাকেন। বয়স ৩২ বছর হলেও এখনও দেখতে হুবহু শিশুর মতো। তার উচ্চতা মাত্র ৪০ ইঞ্চি। শুধু তাই নয় সারাদিন খেলাধুলা করছেন গ্রামের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে। বর্তমানে তার দরিদ্র বাবা-মা দেখাশোনা করলেও আছর উদ্দিনের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তারা।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পশ্চিম ছাট গোপালপুর গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়ার আজিম উদ্দিন ও আছিয়া বেগম দম্পতির ছেলে আছর উদ্দিন ছমির। ১৯৯২ সালের ২৪ মে জন্ম তার। বয়স ৩২ বছর হলেও ৮ বছরে শিশুর মতোই তার দৈহিক আকৃতি ও মানসিক অবস্থা। এই দরিদ্র দম্পতির এক মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে আছর উদ্দিন দ্বিতীয় এবং ছেলের মধ্যে বড়।

আছর উদ্দিনের বাবা-মা জানান, জন্মের পর থেকেই সে অস্বাভাবিক। বয়স হলেও তাকে শিশুর মতোই লালন-পালন করছেন তারা। ছেলেকে সুস্থ করে তুলতে দেখিয়েছেন চিকিৎসকও। তারপরও শরীরে নানা সমস্যা নিয়ে শিশুই থেকে গেছেন আছর উদ্দিন। নিজেদের অবর্তমানে এই সন্তানের ভবিষ্যত নিয়েও চিন্তিত তারা।

স্থানীয়রা বলেন, আছর উদ্দিনের সম বয়সীরা বিয়ে করে ঘর-সংসার করলেও সে রয়ে গেছে মায়ের কোলে। এই বয়সেও এক মনেই খেলাধুলা করেন শিশুদের সঙ্গে। আবার কখনও বাবার হাত ধরে যান বাজারে।

ছমিরের খেলার সঙ্গী ৮ বছর বয়সী শিশু সিনথিয়া আক্তার বলে, ছমির আমার চাচা হয়। আমরা এক সঙ্গে সমসময় খেলি। ছমির চাচা কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে না, সে খুব ভালো মানুষ।

তার মা আছিয়া বেগম বলেন, যখন আমার ছেলের ২ বছর বয়স হয় তখন জানতে পারছি আমার ছেলের শারীরিক সমস্যা আছে। পরে তাকে স্বাভাবিক করে তুলতে অনেক ডাক্তার কবিরাজকে দেখাইছি। ডাক্তার আমাকে বলছে আপনার ছেলে স্বাভাবিক হবে না। তারপরেও তাকে মাঝে মাঝে ডাক্তারকে দেখাইছি। এখন তো তার বয়স অনেক হয়েছে। কিন্তু স্বাভাবিক হয়নি। এখন তার ঘাড়ে সমস্যা, পেটের সমস্যা, আরও অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছমির যেদিন কান্না শুরু করে শুধু কানতেই থাকে। যখন রেগে যায় তখন বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তাকে বাড়িতে রেখে কোথাও যেতে পারি না, কোথাও গেলে মনটা আমার বাড়িতে পড়ে থাকে তার জন্যে। তার সঙ্গে সবসময় একজন থাকতে হয়। গোসল করায় দিতে হয়, খাওয়াইতে হয়। জামাকাপড়ও পড়াই দিতে হয়। সংসারে খুব কষ্ট আমাদের। তারপরেও ছেলেকে এখনো আদর যত্নে রাখছি। মাঝে মাঝে চিন্তা করি আমি মারা গেলে আমার ছেলেটাকে কে দেখবে এই চিন্তায় ভালো লাগে না।

প্রতিবেশীরা বলেন, ছমিরকে ছোট বেলা থেকেই প্রতিবন্ধীর মতো দেখছি। সব সময় ছোট বাচ্চাদের সঙ্গেই খেলাধুলা করে। তার আসলে শারীরিক বৃদ্ধির নেই।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম বলেন, মায়ের গর্ভাবস্থায় ত্রুটিজনিত কারণে ছমির খর্বাকৃতি হয়ে জন্ম নিয়েছে। এজন্য সন্তান গর্ভে থাকার সময় নিয়মিত চেকআপ আয়োডিন ও পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পরামর্শ এই চিকিৎসকের। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে আছর উদ্দিনকে কিছুটা হলেও সুস্থ করে তোলা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

/শিল্পী/