ঢাকা ০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

লাল কাঁকড়ার অবাধ ছুটে চলা

হুমকির মুখে চর বিজয়

পটুয়াখালী প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Char Vijay under threat :

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠেছে চর বিজয় দ্বীপটি। এ কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠা যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ। শীত মৌসুম জুড়ে হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাঁকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি। চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য।

২০১৭ সালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে ৫ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠে চর বিজয় নামের এই দ্বীপটি। শীত মৌসুম এলে এই দ্বীপটি জেগে ওঠে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আবার পানির নিচে ডুবে যায়। তবে জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর নামেই পরিচিত। এটির অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন সৈকত হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের বুকে অবস্থিত।

চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শীত মৌসুমে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাঁকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।

তবে প্রাণী বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার চর বিজয়ে এখন শিকারিদের ফাঁদে পড়ে যেমন মারা যাচ্ছে অতিথি পাখি তেমনি পর্যটকদের বিচরণে নষ্ট হচ্ছে লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল। পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ দ্বীপে প্রশাসনিক টহল ও বনায়ন করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। আর টুরিস্ট পুলিশ বলছে, যেহেতু গভীর সমুদ্রে দ্বীপটি অবস্থিত তাই পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা গৃহিণী বিউটি বলেন, কুয়াকাটায় আমি এই প্রথমবার ভ্রমণে এসেছি। কুয়াকাটা সত্যিই খুব সুন্দর জায়গা। তবে কুয়াকাটায় সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। তবে এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি। চারদিকে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে একটি দ্বীপ আর সেই দ্বীপে এত পরিমাণ অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি আবারও আসতে চাই এখানে পরিবার নিয়ে।

কুমিল্লা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা এক সরকারী কর্মকর্তা সোহেল বলেন, চর বিজয়ে নামার পর আমি এখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত পরিমাণ লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক।

কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য চর বিজয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি হতে পারে আরেকটি সেন্ট মার্টিন তবে অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দ্বীপে এখন পর্যাপ্ত গাছ লাগানো দরকার। যাতে করে পাখিদের নির্ভয় যোগ্য বাসস্থান তৈরি হয়। এবং আমরা যারা এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসবো তারা যেন কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট না করি।

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টেয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকদের কাছে সূর্য উদয়-অস্তের বেলভূমি সাগরকন্যা এমনিতে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে চর বিজয় ২০১৭ সাল থেকে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই চরের পাখি আর লাল কাঁকড়ার সমাগমে আকৃষ্ট হয় সব শ্রেণির পর্যটকরা। চর বিজয় ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিনের মতো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি।

এ দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা বলেন, পাখি ও কাঁকড়াদের স্বর্গরাজ্য এ দ্বীপটি। সাগরের নীল জলে যেমন মাছ ও হাঙ্গর এবং ডলফিনের ছুটে চলা দেখা যায় তেমনি বালুর দ্বীপের প্রতি ইঞ্চিতে রয়েছে লাল কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়াদের আবাসস্থল।

কখনও কচ্ছপরা দল বেঁধে দ্বীপে উঠে আসে ডিম দিতে। দ্বীপটি ঘুরে বেড়ানোর সময় মাথার উপর উড়তে থাকে নানা জাতের অতিথি পাখির ঝাঁক। যেন রৌদ্রময় দ্বীপে পর্যটকদের ছায়া দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

কিন্তু প্রাণী বৈচিত্র্যের আবাসস্থলটিতে ছড়ানো-ছিটানো জাল, পাখির পালক দেখলে সহজেই বোঝা যায় এখানে তৎপর শিকারি চক্র। সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাস ভূমিতে অবাধে মানুষের বিচরণ বাড়তে থাকলে এ চর বিজয় থেকেও হারিয়ে যাবে অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়ারা। যেমন হারিয়ে গেছে কলাপাড়ার গঙ্গামতি সৈকতে।

চর বিজয়ে জেলেরা অবাধে যাতায়াত করলেও তারা পাখি শিকারের কথা অস্বীকার করছেন। গোটা দ্বীপটিতে গাছের গোড়া পুঁতে জাল দিয়ে ঘিরে দেয়া হলেও জেলেরা বলছেন, তারা শুধু মাছ শিকারের জন্য এখানে আসেন সপ্তাহে দুই-চারদিন। আর গোড়া পুঁতে রাখে একটি প্রভাবশালী চক্র যারা অন্য এলাকার জেলে।

এখানে প্রশাসনের তেমন টহল না থাকায় নির্বিঘ্নেই শিকারিচক্র মাছ ও পাখি শিকার করে ফিরে যাচ্ছে। এছাড়া এই দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির কোন উৎস নেই। এ কারণে বালুর মধ্যে গর্ত খুঁড়ে জেলেরা মাসের পর মাস খাবার পানির চাহিদা পূরণ করছেন।

কুয়াকাটা টুরিস্ট বোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম বাচ্চু বলছেন, কুয়াকাটার অন্য পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের প্রচুর ভিড় থাকলেও চর বিজয়ে খুব কম পর্যটক ভ্রমণে যান। তার কারণ এর আশেপাশে সামুদ্রিক গভীরতা ও দূরত্ব। তবে চর বিজয়ে প্রাণী বৈচিত্র্য রক্ষায় তারা বেশ সজাগ রয়েছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চরটির নাম দেওয়া হয়েছে চর বিজয়। ২০১৭ সালে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা এ চরটি এখন খুবই জনপ্রিয় পর্যটকও স্থানীয়দের কাছে। শীত মৌসুমে সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে শত শত পর্যটক। মূলত লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির সমাগম দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি আমরা।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লাল কাঁকড়ার অবাধ ছুটে চলা

হুমকির মুখে চর বিজয়

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪

Char Vijay under threat :

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠেছে চর বিজয় দ্বীপটি। এ কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠা যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ। শীত মৌসুম জুড়ে হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাঁকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি। চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য।

২০১৭ সালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে ৫ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠে চর বিজয় নামের এই দ্বীপটি। শীত মৌসুম এলে এই দ্বীপটি জেগে ওঠে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আবার পানির নিচে ডুবে যায়। তবে জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর নামেই পরিচিত। এটির অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন সৈকত হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের বুকে অবস্থিত।

চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শীত মৌসুমে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাঁকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।

তবে প্রাণী বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার চর বিজয়ে এখন শিকারিদের ফাঁদে পড়ে যেমন মারা যাচ্ছে অতিথি পাখি তেমনি পর্যটকদের বিচরণে নষ্ট হচ্ছে লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল। পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ দ্বীপে প্রশাসনিক টহল ও বনায়ন করার উদ্যোগ নেয়া উচিত। আর টুরিস্ট পুলিশ বলছে, যেহেতু গভীর সমুদ্রে দ্বীপটি অবস্থিত তাই পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা গৃহিণী বিউটি বলেন, কুয়াকাটায় আমি এই প্রথমবার ভ্রমণে এসেছি। কুয়াকাটা সত্যিই খুব সুন্দর জায়গা। তবে কুয়াকাটায় সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। তবে এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি। চারদিকে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে একটি দ্বীপ আর সেই দ্বীপে এত পরিমাণ অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি আবারও আসতে চাই এখানে পরিবার নিয়ে।

কুমিল্লা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা এক সরকারী কর্মকর্তা সোহেল বলেন, চর বিজয়ে নামার পর আমি এখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত পরিমাণ লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক।

কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য চর বিজয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি হতে পারে আরেকটি সেন্ট মার্টিন তবে অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দ্বীপে এখন পর্যাপ্ত গাছ লাগানো দরকার। যাতে করে পাখিদের নির্ভয় যোগ্য বাসস্থান তৈরি হয়। এবং আমরা যারা এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসবো তারা যেন কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট না করি।

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টেয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকদের কাছে সূর্য উদয়-অস্তের বেলভূমি সাগরকন্যা এমনিতে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে চর বিজয় ২০১৭ সাল থেকে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই চরের পাখি আর লাল কাঁকড়ার সমাগমে আকৃষ্ট হয় সব শ্রেণির পর্যটকরা। চর বিজয় ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিনের মতো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি।

এ দ্বীপে ভ্রমণে আসা পর্যটকরা বলেন, পাখি ও কাঁকড়াদের স্বর্গরাজ্য এ দ্বীপটি। সাগরের নীল জলে যেমন মাছ ও হাঙ্গর এবং ডলফিনের ছুটে চলা দেখা যায় তেমনি বালুর দ্বীপের প্রতি ইঞ্চিতে রয়েছে লাল কাঁকড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়াদের আবাসস্থল।

কখনও কচ্ছপরা দল বেঁধে দ্বীপে উঠে আসে ডিম দিতে। দ্বীপটি ঘুরে বেড়ানোর সময় মাথার উপর উড়তে থাকে নানা জাতের অতিথি পাখির ঝাঁক। যেন রৌদ্রময় দ্বীপে পর্যটকদের ছায়া দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

কিন্তু প্রাণী বৈচিত্র্যের আবাসস্থলটিতে ছড়ানো-ছিটানো জাল, পাখির পালক দেখলে সহজেই বোঝা যায় এখানে তৎপর শিকারি চক্র। সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাস ভূমিতে অবাধে মানুষের বিচরণ বাড়তে থাকলে এ চর বিজয় থেকেও হারিয়ে যাবে অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়ারা। যেমন হারিয়ে গেছে কলাপাড়ার গঙ্গামতি সৈকতে।

চর বিজয়ে জেলেরা অবাধে যাতায়াত করলেও তারা পাখি শিকারের কথা অস্বীকার করছেন। গোটা দ্বীপটিতে গাছের গোড়া পুঁতে জাল দিয়ে ঘিরে দেয়া হলেও জেলেরা বলছেন, তারা শুধু মাছ শিকারের জন্য এখানে আসেন সপ্তাহে দুই-চারদিন। আর গোড়া পুঁতে রাখে একটি প্রভাবশালী চক্র যারা অন্য এলাকার জেলে।

এখানে প্রশাসনের তেমন টহল না থাকায় নির্বিঘ্নেই শিকারিচক্র মাছ ও পাখি শিকার করে ফিরে যাচ্ছে। এছাড়া এই দ্বীপে বিশুদ্ধ পানির কোন উৎস নেই। এ কারণে বালুর মধ্যে গর্ত খুঁড়ে জেলেরা মাসের পর মাস খাবার পানির চাহিদা পূরণ করছেন।

কুয়াকাটা টুরিস্ট বোট মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম বাচ্চু বলছেন, কুয়াকাটার অন্য পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের প্রচুর ভিড় থাকলেও চর বিজয়ে খুব কম পর্যটক ভ্রমণে যান। তার কারণ এর আশেপাশে সামুদ্রিক গভীরতা ও দূরত্ব। তবে চর বিজয়ে প্রাণী বৈচিত্র্য রক্ষায় তারা বেশ সজাগ রয়েছেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চরটির নাম দেওয়া হয়েছে চর বিজয়। ২০১৭ সালে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা এ চরটি এখন খুবই জনপ্রিয় পর্যটকও স্থানীয়দের কাছে। শীত মৌসুমে সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে শত শত পর্যটক। মূলত লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির সমাগম দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি আমরা।

/শিল্পী/