ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

লাঞ্ছিত শিক্ষককে বাইক উপহার রামেন্দু মজুমদারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মার্চ ২০২৩ ১৪৭ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রখ্যাত নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার নড়াইলের মিজার্পুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে ধর্ম অবমাননার ছুতোয় লাঞ্ছিত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে একটি মোটরসাইকেল উপহার দিয়েছেন।

শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে রামেন্দু মজুমদারের জামাতা সৈয়দ আপন আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষকে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করেন।

এসময় উপস্থিত বক্তারা বলেন, এটি নিছক নয়, অসামান্য উপহার। এ উপহার প্রমাণ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস সেদিন কোনো অপরাধ করেননি। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ। এসময় অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বলেন, মানুষের জীবনে ভালো-খারাপ দুটো সময় আসে। আমি খারাপ সময় ভুলে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে চলতে চাই।

বাইক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রবিউল ইসলাম, নড়াইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরাসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিজের ফেসবুকে আইডিতে ভারতে বিতর্কিত নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান।

এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু তার আগেই ‘কিছু মানুষ’ কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। এর মধ্যে অধ্যক্ষের একটি মোটরসাইকেল ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডাকা হয় পুলিশ। ওই ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি সারাদেশে আলোচিত হয়। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।

ঘটনা যখন নিয়ন্ত্রণের দিকে তখন একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। তারা ঘটনার দিন (১৮ জুন ২০২২) বিকেলে পুলিশের সামনেই অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং ওই শিক্ষার্থীর গলায় জুতারমালা পরিয়ে ঘোরায়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ওই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এম.নাসির/৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লাঞ্ছিত শিক্ষককে বাইক উপহার রামেন্দু মজুমদারের

আপডেট সময় : ০২:০৪:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ মার্চ ২০২৩

নড়াইল প্রতিনিধি

প্রখ্যাত নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার নড়াইলের মিজার্পুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে ধর্ম অবমাননার ছুতোয় লাঞ্ছিত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে একটি মোটরসাইকেল উপহার দিয়েছেন।

শনিবার (৪ মার্চ) দুপুরে রামেন্দু মজুমদারের জামাতা সৈয়দ আপন আহসান আনুষ্ঠানিকভাবে অধ্যক্ষকে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করেন।

এসময় উপস্থিত বক্তারা বলেন, এটি নিছক নয়, অসামান্য উপহার। এ উপহার প্রমাণ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস সেদিন কোনো অপরাধ করেননি। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। তিনি একজন সৎ ও ভালো মানুষ। এসময় অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বলেন, মানুষের জীবনে ভালো-খারাপ দুটো সময় আসে। আমি খারাপ সময় ভুলে মানুষের ভালোবাসা নিয়ে চলতে চাই।

বাইক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রবিউল ইসলাম, নড়াইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন খান নিলু, পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরাসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্র নিজের ফেসবুকে আইডিতে ভারতে বিতর্কিত নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান।

এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু তার আগেই ‘কিছু মানুষ’ কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। এর মধ্যে অধ্যক্ষের একটি মোটরসাইকেল ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডাকা হয় পুলিশ। ওই ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি সারাদেশে আলোচিত হয়। প্রশ্ন ওঠে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।

ঘটনা যখন নিয়ন্ত্রণের দিকে তখন একটি মহল অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। তারা ঘটনার দিন (১৮ জুন ২০২২) বিকেলে পুলিশের সামনেই অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং ওই শিক্ষার্থীর গলায় জুতারমালা পরিয়ে ঘোরায়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ওই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এম.নাসির/৪