ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

 লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Kuakata :

রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। লোকসানের মুখে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ছুটি দেওয়া হয়েছে অনেক হোটেল-মোটেলের কর্মচারীদের।

সরেজমিতে দেখা গেল, খালি পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চ। ঘোড়াগুলো ঘুমাচ্ছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। অলস সময় পার করছেন ক্যামেরাম্যানরা।

ক্যামেরাম্যান আরিফ বলেন, রমজানের শুরু থেকেই সারাদিন অলস সময় পার করছি। কুয়াকাটা পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। কোন ইনকাম নেই। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

আচার ব্যবসায়ী সুলতান আকন জানান, লোকজন একেবারেই নেই। তাই বিক্রিও কমে গেছে।

সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, রাখাইন মার্কেট,বৌদ্ধ বিহার,শুটকিপল্লী, লেম্বুরবনসহ পুরো সৈকত পর্যটকশূন্য। তবে গত কয়েক মাস ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় টইটম্বুর ছিল এই ভ্রমণ স্পটগুলো।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পরই পর্যটকদের পদচারণা বাড়তে থাকে কুয়াকাটায়। কিন্তু রমজানের শুরুতে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে বিশাল সম্ভাবনাময় সাগরকন্যা খ্যাত এই সমুদ্র সৈকত। তবে ঈদের ছুটিতে অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে এই প্রত্যাশা পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীদের।

ঝিনুক ব্যবসার সাথে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে একটানা পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু রোজার শুরু থেকেই সুনসান নিরব হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা। একদম বেচা বিক্রি নাই। রমজানের আগে যেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন দিনে ৫০০ টাকা বিক্রি করতেই কষ্ট। পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে।

ছাতা-বেঞ্চ ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, রমজান মাসে পর্যটক নেই। সরকারিভাবে কোন সহায়তা পেলে এই কয়েকটা দিন আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারতাম।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, কর্মচারীদের বেতন এবং বিদ্যুৎ বিল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হোটেল মালিক কর্মচারীদের ছুটিতে পাঠিয়েছে। আশা করছি ঈদের পরে এই পরিস্থিতি কেটে যাবে। ব্যাপক পর্যটক আগমন ঘটবে এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, রোজায় আমাদের পর্যটক কিছুটা কম। তবে ২০ রমজানের পর পর্যটকদের আগমন কিছুটা বাড়বে। ঈদের পরে লাখো পর্যটকদের আগমন হবে বলে আমরা আশা করি। যার ফলে হোটেল-মোটেলগুলো তাদের সার্বিক কাজগুলো সেরে নিচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটার বিভিন্ন পয়েন্টকে কেন্দ্র করে আমাদের বিভিন্ন টিম কাজ করছে। যেসব পর্যটক এখন কুয়াকাটায় রয়েছে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি। তাদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন হোসেন জানান, ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের সহায়তার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

 লোকসানের মুখে ব্যবসায়ীরা

রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

আপডেট সময় : ০২:২১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

Kuakata :

রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। লোকসানের মুখে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ছুটি দেওয়া হয়েছে অনেক হোটেল-মোটেলের কর্মচারীদের।

সরেজমিতে দেখা গেল, খালি পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চ। ঘোড়াগুলো ঘুমাচ্ছে। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। অলস সময় পার করছেন ক্যামেরাম্যানরা।

ক্যামেরাম্যান আরিফ বলেন, রমজানের শুরু থেকেই সারাদিন অলস সময় পার করছি। কুয়াকাটা পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। কোন ইনকাম নেই। তাই পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

আচার ব্যবসায়ী সুলতান আকন জানান, লোকজন একেবারেই নেই। তাই বিক্রিও কমে গেছে।

সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা যায়, রাখাইন মার্কেট,বৌদ্ধ বিহার,শুটকিপল্লী, লেম্বুরবনসহ পুরো সৈকত পর্যটকশূন্য। তবে গত কয়েক মাস ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় টইটম্বুর ছিল এই ভ্রমণ স্পটগুলো।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর পরই পর্যটকদের পদচারণা বাড়তে থাকে কুয়াকাটায়। কিন্তু রমজানের শুরুতে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে বিশাল সম্ভাবনাময় সাগরকন্যা খ্যাত এই সমুদ্র সৈকত। তবে ঈদের ছুটিতে অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে এই প্রত্যাশা পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীদের।

ঝিনুক ব্যবসার সাথে জড়িত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রহমান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে একটানা পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু রোজার শুরু থেকেই সুনসান নিরব হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা। একদম বেচা বিক্রি নাই। রমজানের আগে যেখানে প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করতাম। এখন দিনে ৫০০ টাকা বিক্রি করতেই কষ্ট। পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে।

ছাতা-বেঞ্চ ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, রমজান মাসে পর্যটক নেই। সরকারিভাবে কোন সহায়তা পেলে এই কয়েকটা দিন আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারতাম।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এ্যাসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ জানান, কর্মচারীদের বেতন এবং বিদ্যুৎ বিল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক হোটেল মালিক কর্মচারীদের ছুটিতে পাঠিয়েছে। আশা করছি ঈদের পরে এই পরিস্থিতি কেটে যাবে। ব্যাপক পর্যটক আগমন ঘটবে এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবো।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, রোজায় আমাদের পর্যটক কিছুটা কম। তবে ২০ রমজানের পর পর্যটকদের আগমন কিছুটা বাড়বে। ঈদের পরে লাখো পর্যটকদের আগমন হবে বলে আমরা আশা করি। যার ফলে হোটেল-মোটেলগুলো তাদের সার্বিক কাজগুলো সেরে নিচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটার বিভিন্ন পয়েন্টকে কেন্দ্র করে আমাদের বিভিন্ন টিম কাজ করছে। যেসব পর্যটক এখন কুয়াকাটায় রয়েছে তাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছি। তাদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন হোসেন জানান, ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের সহায়তার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

/শিল্পী/