ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর যাচ্ছে রংপুরের ২০ কোটি টাকার মিষ্টিকুমড়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুর সংবাদতাতা

প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরে রফতানি হচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে চাষ করা মিষ্টিকুমড়া। রফতানিকারক দুটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ২০ কোটি টাকার মিষ্টিকুমড়ার অর্ডার পেয়েছে। সে জন্য তারা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কুমড়া কিনে প্যাকেটজাত করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে চরাঞ্চলে বসবাসকারী মিষ্টিকুমড়া চাষিরা ভীষণ খুশি। কারণ উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে তাদের আগের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। দামও ভালো পাচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে এ তথ্য মিলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চরাঞ্চলে আবাদ করা মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা এখন ব্যাপক। অনেক জেলায় পাইকাররা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার দামও ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও মিষ্টিকুমড়া কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মিষ্টিকুমড়াও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারবে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯০ ভাগ এলাকাই তিস্তা নদীবেষ্টিত। এখানে দেড় শতাধিক ছোট-বড় চর রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি চরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মিষ্টিকুমড়ার চাষ হচ্ছে। দুর্গম চরাঞ্চলের তপ্ত বালুচরে গর্ত করে সেখানে গোবর সার আর মাটি দিয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষ করা হচ্ছে। মূলত শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টিকুমড়া চাষ করা হয়। এ সময় তিস্তা নদীতে পানি একেবারেই থাকে না। নদীর বেশির ভাগ স্থানে জেগে ওঠা চরে মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন চাষিরা।

সরেজমিন ছালাপাক দুর্গম চরাঞ্চলে দেখা গেছে, ধু-ধু বালুচরের পাশাপাশি সবুজের সমারোহ। স্যালোমেশিন দিয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষ করার জন্য গর্তে এবং গাছে পানি দেওয়া হচ্ছে। চারিদিকে স্যালো মেশিনের শব্দ। ছালাপাক দুর্গম চরাঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে এবার উন্নত জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে।

মিষ্টিকুমড়া চাষি আফজাল হোসেন জানালেন, তিনি বালুর চরের ২০ বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। এক সিজনের জন্য মালিকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় জমি লিজ নিয়েছেন। চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, জমি তৈরি করা, সেচ দেওয়াসহ তার মোট খরচ হয়েছে আরও দেড় লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করেছেন। এখনও জমিতে অনেক কুমড়া আছে। আশা করছেন, আরও ৫ লাখ টাকার মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি জানান, উন্নত জাতের মিষ্টিকুমড়া আগের মতো ৮ থেকে ১০ কেজির হয় না। এটি সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের হয়। তবে চাহিদা বেশি ২-৩ কেজি ওজনের মিষ্টিকুমড়া। প্রতিটি প্রথম দিকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এখন ১৮ থেকে ১৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

সেখানকার মিষ্টিকুমড়া চাষি আলেমা বেগম জানালেন, তার স্বামী ২৫ বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করেছেন। খরচ হয়েছে চার লাখের মতো। আরও দুই-তিন লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।

মিষ্টিকুমড়ার চাষি সাদেক আলী জানালেন, বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পর শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি থাকে না। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় চর জেগে ওঠে। এ সময়টা তারা জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন। এমফরসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহায়তায় তাদের মিষ্টিকুমড়া চাষে সহায়তা করছে।

এমফরসির প্রকল্পের কর্মকর্তা রোকসানা বিলকিস বলেন, ‘আমরা কৃষকদের আর্থিক কোনও সহায়তা দিই না। তবে ভালো বীজ এবং অন্য সব ধরনের সাপোর্ট দিচ্ছি। ছালাপাক চরে একটি পাম্প মেশিন স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। সেটির মাধ্যমে অনেক কৃষক তাদের জমিতে পানি সেচ দিতে পারেন। আরও পাম্পমেশিন দরকার। চাষিরা ডিজেলচালিত সেচপাম্প ব্যবহার করছেন।’

ছালাপাক চরের মিষ্টিকুমড়া চাষি আহমেদ আলী, সোলায়মান আলী, সাহেব মিয়া, জিন্নাতুন নেছাসহ বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার গত দু বছরের চেয়ে দাম ভালো পাচ্ছেন তারা। প্রতি কেজি ১৯ টাকা দরে মিষ্টিকুমড়া তাদের কাছ থেকে ঢাকা ও রংপুরের তিন রফতানিকারক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে একদিকে তাদের সচ্ছলতা ফিরে আসছে, অন্যদিকে শত শত ভূমিহীন শ্রমিকও কাজ পাচ্ছেন। তাদেরও আয় হচ্ছে ভালো।

এদিকে, ছালাপাক চরের কাছেই বাজারে গিয়ে দেখা গেলো, বিদেশে রফতানির জন্য মিষ্টিকুমড়া কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সেলাই করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় রফতানির অর্ডার পাওয়া রংপুর অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা রতন জানালেন, তারা চাষিদের কাছ থেকে ১৯ টাকা কেজি দরে মিষ্টিকুমড়া কিনছেন। এরপর প্যাকেটজাত করে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।

আরেক রফতানি কারক চান্দ মিয়াও জানালেন একই কথা। সেইসঙ্গে বললেন, দুই দেশে ২০ কোটি টাকার মিষ্টিকুমড়ার অর্ডার পেয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, কুমড়াচাষি শাহজাহান আলী, মমতাজ উদ্দিনসহ অনেকেই জানালেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ফরিদপুরসহ কমপক্ষে ২০টি জেলায় মিষ্টিকুমড়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, বিডিআরসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তরকারি হিসেবে মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়াও বড় বড় হোটেলে মাংসসহ বিভিন্ন তরকারিতে মিষ্টিকুমড়ার ব্যাপক ব্যবহার হয়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান জানান, আপাতত মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুর এই দুই দেশে মিষ্টিকুমড়া রফতানি হলেও চরাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা দেশেও রয়েছে। এতে চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। তবে সেইদিন বেশি দূরে নয়, যখন মিষ্টিকুমড়া বিদেশে রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

রইস/৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর যাচ্ছে রংপুরের ২০ কোটি টাকার মিষ্টিকুমড়া

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩

রংপুর সংবাদতাতা

প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুরে রফতানি হচ্ছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে চাষ করা মিষ্টিকুমড়া। রফতানিকারক দুটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ২০ কোটি টাকার মিষ্টিকুমড়ার অর্ডার পেয়েছে। সে জন্য তারা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কুমড়া কিনে প্যাকেটজাত করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে চরাঞ্চলে বসবাসকারী মিষ্টিকুমড়া চাষিরা ভীষণ খুশি। কারণ উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে তাদের আগের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। দামও ভালো পাচ্ছেন। সরেজমিন ঘুরে এ তথ্য মিলেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চরাঞ্চলে আবাদ করা মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা এখন ব্যাপক। অনেক জেলায় পাইকাররা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এবার দামও ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশও মিষ্টিকুমড়া কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মিষ্টিকুমড়াও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারবে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯০ ভাগ এলাকাই তিস্তা নদীবেষ্টিত। এখানে দেড় শতাধিক ছোট-বড় চর রয়েছে। এর মধ্যে ২২টি চরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মিষ্টিকুমড়ার চাষ হচ্ছে। দুর্গম চরাঞ্চলের তপ্ত বালুচরে গর্ত করে সেখানে গোবর সার আর মাটি দিয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষ করা হচ্ছে। মূলত শুষ্ক মৌসুমে মিষ্টিকুমড়া চাষ করা হয়। এ সময় তিস্তা নদীতে পানি একেবারেই থাকে না। নদীর বেশির ভাগ স্থানে জেগে ওঠা চরে মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন চাষিরা।

সরেজমিন ছালাপাক দুর্গম চরাঞ্চলে দেখা গেছে, ধু-ধু বালুচরের পাশাপাশি সবুজের সমারোহ। স্যালোমেশিন দিয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষ করার জন্য গর্তে এবং গাছে পানি দেওয়া হচ্ছে। চারিদিকে স্যালো মেশিনের শব্দ। ছালাপাক দুর্গম চরাঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে এবার উন্নত জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে।

মিষ্টিকুমড়া চাষি আফজাল হোসেন জানালেন, তিনি বালুর চরের ২০ বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। এক সিজনের জন্য মালিকের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকায় জমি লিজ নিয়েছেন। চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, জমি তৈরি করা, সেচ দেওয়াসহ তার মোট খরচ হয়েছে আরও দেড় লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকার মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করেছেন। এখনও জমিতে অনেক কুমড়া আছে। আশা করছেন, আরও ৫ লাখ টাকার মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি জানান, উন্নত জাতের মিষ্টিকুমড়া আগের মতো ৮ থেকে ১০ কেজির হয় না। এটি সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ কেজি ওজনের হয়। তবে চাহিদা বেশি ২-৩ কেজি ওজনের মিষ্টিকুমড়া। প্রতিটি প্রথম দিকে ২২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এখন ১৮ থেকে ১৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।

সেখানকার মিষ্টিকুমড়া চাষি আলেমা বেগম জানালেন, তার স্বামী ২৫ বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত ১৬ লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করেছেন। খরচ হয়েছে চার লাখের মতো। আরও দুই-তিন লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করার আশা করছেন তিনি।

মিষ্টিকুমড়ার চাষি সাদেক আলী জানালেন, বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পর শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানি থাকে না। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় চর জেগে ওঠে। এ সময়টা তারা জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিয়ে মিষ্টিকুমড়া চাষ করছেন। এমফরসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহায়তায় তাদের মিষ্টিকুমড়া চাষে সহায়তা করছে।

এমফরসির প্রকল্পের কর্মকর্তা রোকসানা বিলকিস বলেন, ‘আমরা কৃষকদের আর্থিক কোনও সহায়তা দিই না। তবে ভালো বীজ এবং অন্য সব ধরনের সাপোর্ট দিচ্ছি। ছালাপাক চরে একটি পাম্প মেশিন স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। সেটির মাধ্যমে অনেক কৃষক তাদের জমিতে পানি সেচ দিতে পারেন। আরও পাম্পমেশিন দরকার। চাষিরা ডিজেলচালিত সেচপাম্প ব্যবহার করছেন।’

ছালাপাক চরের মিষ্টিকুমড়া চাষি আহমেদ আলী, সোলায়মান আলী, সাহেব মিয়া, জিন্নাতুন নেছাসহ বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার গত দু বছরের চেয়ে দাম ভালো পাচ্ছেন তারা। প্রতি কেজি ১৯ টাকা দরে মিষ্টিকুমড়া তাদের কাছ থেকে ঢাকা ও রংপুরের তিন রফতানিকারক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে একদিকে তাদের সচ্ছলতা ফিরে আসছে, অন্যদিকে শত শত ভূমিহীন শ্রমিকও কাজ পাচ্ছেন। তাদেরও আয় হচ্ছে ভালো।

এদিকে, ছালাপাক চরের কাছেই বাজারে গিয়ে দেখা গেলো, বিদেশে রফতানির জন্য মিষ্টিকুমড়া কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সেলাই করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ায় রফতানির অর্ডার পাওয়া রংপুর অ্যাগ্রোর কর্মকর্তা রতন জানালেন, তারা চাষিদের কাছ থেকে ১৯ টাকা কেজি দরে মিষ্টিকুমড়া কিনছেন। এরপর প্যাকেটজাত করে বস্তায় ভরে ট্রাকে করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।

আরেক রফতানি কারক চান্দ মিয়াও জানালেন একই কথা। সেইসঙ্গে বললেন, দুই দেশে ২০ কোটি টাকার মিষ্টিকুমড়ার অর্ডার পেয়েছেন তারা।

অন্যদিকে, কুমড়াচাষি শাহজাহান আলী, মমতাজ উদ্দিনসহ অনেকেই জানালেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ফরিদপুরসহ কমপক্ষে ২০টি জেলায় মিষ্টিকুমড়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, বিডিআরসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তরকারি হিসেবে মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়াও বড় বড় হোটেলে মাংসসহ বিভিন্ন তরকারিতে মিষ্টিকুমড়ার ব্যাপক ব্যবহার হয়।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপরিচালক কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান জানান, আপাতত মালয়েশিয়া আর সিঙ্গাপুর এই দুই দেশে মিষ্টিকুমড়া রফতানি হলেও চরাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়ার চাহিদা দেশেও রয়েছে। এতে চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন। তবে সেইদিন বেশি দূরে নয়, যখন মিষ্টিকুমড়া বিদেশে রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে।

রইস/৬