ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে জনবল সংকট

বাগেরহাট প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪ ৯৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Manpower shortage in Bagerhat 250 bed district hospital :

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে জনবল সংকট থাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে চলছে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষেরা সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ।

জানা যায়, হাসপাতালে একটা এমআর মেশিন নেই, সিটিস্ক্যান মেশিন নেই, একটা ইকো মেশিন নেই, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। একটু জটিল রোগী হলেই জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে বা অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। প্রতিদিনই মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য চলে যেতে হচ্ছে জেলার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৮০০ থেকে এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ২৫০ শয্যার বিপরীতে ৩৫০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত ভর্তি থাকেন নিয়মিত। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর জন্য ৫৬টি চিকিৎসকের পদ বরাদ্দ থাকলেও, ৩০টি রয়েছে শূন্য। এর মধ্যে সহকারী পরিচালক, কনসালটেন্ট চক্ষু, অ্যানেসথেশিয়া, সার্জারি ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও ফাঁকা রয়েছে।

এছাড়া নার্সের ১০৯টি পদের মধ্যে ২৮টি পদ শূন্য এবং ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৭৭ টি পদের মধ্যে ৪৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কাজেও রয়েছে নানা বিড়ম্বনা। দীর্ঘদিন ধরেই এই অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সদর উপজেলা থেকে আসা জমিলা বলেন, এখানে নতুন ৬টি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। কিন্তু মাত্র দুই তিনটা কার্যক্রম চলে। বাকিগুলো খোলা থাকলে আমাদের বাইরে লাইন দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। ভোগান্তি আরও অনেক কম হতো।

মাথা ব্যথাসহ নানা অসুবিধা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগী বলেন, বেড না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা করাচ্ছি। সরকারি হাসপাতালে থেকেও বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে হতদরিদ্র এ রোগীর।

মোরেলগঞ্জ থেকে আসা এক রোগী বলেন, চিকিৎসকরা খুবই আন্তরিক। কিন্তু রক্তের পরীক্ষা করা লাগে বাইরে থেকে এজন্য আমাদের খরচ বেড়ে যায়।

বহির্বিভাগে অপেক্ষারত ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রমজান আলী বলেন, চোখের ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। শুনলাম চোখের ডাক্তার নেই। পরে ভাবলাম কানের ডাক্তার দেখিয়ে যাই। শুনলাম তাও নেই।

প্রতিদিন রমজানের মতো অনেকেই ফিরে যায় চোখ ও নাক-কান-গলার সমস্যা নিয়ে। এছাড়া হাসপাতালে সিরাম ইলেক্ট্রোলাইট, থাইরয়ডের পরীক্ষা, ইকো ও সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের প্রতিদিন যেতে হয় বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

আরেক রোগী বলেন, এখানে ডাক্তার দেখার পরে অনেকগুলো পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে রক্তের ২টি পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বাগেরহাটের স্বাস্থ্য উপকমিটির আহ্বায়ক বাবুল সরদার বলেন, এই জেলায় ১৫ বছরে বাগেরহাটে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি এখনও।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আমাদের ৫৮টি প্রথম শ্রেণির পদের মধ্যে ৩২টি পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়া প্যাথলজিক্যাল কিছু সংকটও রয়েছে। রোগীর সংখ্যাও বেশি। তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে জনবল সংকট

আপডেট সময় : ০১:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪

Manpower shortage in Bagerhat 250 bed district hospital :

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে জনবল সংকট থাকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে চলছে এই হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষেরা সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ।

জানা যায়, হাসপাতালে একটা এমআর মেশিন নেই, সিটিস্ক্যান মেশিন নেই, একটা ইকো মেশিন নেই, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। একটু জটিল রোগী হলেই জেলা হাসপাতাল থেকে রেফার্ড করে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে বা অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। প্রতিদিনই মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য চলে যেতে হচ্ছে জেলার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে যেমন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৮০০ থেকে এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ২৫০ শয্যার বিপরীতে ৩৫০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত ভর্তি থাকেন নিয়মিত। বিপুল সংখ্যক এই রোগীর জন্য ৫৬টি চিকিৎসকের পদ বরাদ্দ থাকলেও, ৩০টি রয়েছে শূন্য। এর মধ্যে সহকারী পরিচালক, কনসালটেন্ট চক্ষু, অ্যানেসথেশিয়া, সার্জারি ও কার্ডিওলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও ফাঁকা রয়েছে।

এছাড়া নার্সের ১০৯টি পদের মধ্যে ২৮টি পদ শূন্য এবং ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৭৭ টি পদের মধ্যে ৪৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক ও নার্সদের। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কাজেও রয়েছে নানা বিড়ম্বনা। দীর্ঘদিন ধরেই এই অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

সদর উপজেলা থেকে আসা জমিলা বলেন, এখানে নতুন ৬টি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। কিন্তু মাত্র দুই তিনটা কার্যক্রম চলে। বাকিগুলো খোলা থাকলে আমাদের বাইরে লাইন দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না। ভোগান্তি আরও অনেক কম হতো।

মাথা ব্যথাসহ নানা অসুবিধা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক রোগী বলেন, বেড না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা করাচ্ছি। সরকারি হাসপাতালে থেকেও বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে হতদরিদ্র এ রোগীর।

মোরেলগঞ্জ থেকে আসা এক রোগী বলেন, চিকিৎসকরা খুবই আন্তরিক। কিন্তু রক্তের পরীক্ষা করা লাগে বাইরে থেকে এজন্য আমাদের খরচ বেড়ে যায়।

বহির্বিভাগে অপেক্ষারত ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ রমজান আলী বলেন, চোখের ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। শুনলাম চোখের ডাক্তার নেই। পরে ভাবলাম কানের ডাক্তার দেখিয়ে যাই। শুনলাম তাও নেই।

প্রতিদিন রমজানের মতো অনেকেই ফিরে যায় চোখ ও নাক-কান-গলার সমস্যা নিয়ে। এছাড়া হাসপাতালে সিরাম ইলেক্ট্রোলাইট, থাইরয়ডের পরীক্ষা, ইকো ও সিটিস্ক্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের প্রতিদিন যেতে হয় বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

আরেক রোগী বলেন, এখানে ডাক্তার দেখার পরে অনেকগুলো পরীক্ষা দিয়েছে। এর মধ্যে রক্তের ২টি পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বাগেরহাটের স্বাস্থ্য উপকমিটির আহ্বায়ক বাবুল সরদার বলেন, এই জেলায় ১৫ বছরে বাগেরহাটে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি এখনও।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, আমাদের ৫৮টি প্রথম শ্রেণির পদের মধ্যে ৩২টি পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়া প্যাথলজিক্যাল কিছু সংকটও রয়েছে। রোগীর সংখ্যাও বেশি। তারপরও আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

/শিল্পী/