ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মাহিয়া মাহি

রাজশাহী প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:০০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Mahiya Mahi :

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর গোদাগাড়ী) আসনে নির্বাচনী মাঠে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। গণসংযোগকালে পরিকল্পিতভাবে তাকে যেখানে সেখানে হেনস্তার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত একটার দিকে মাহি নিজেই হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

মাহি বলেন, ‘আমি ভীতসন্ত্রস্ত। আর মাত্র ৬-৭ দিন আছে। আমার যত পথসভা হবে হুট করে কে কখন ঢুকে যাবে। সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করবে এ নিয়ে আমি রিস্কে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণসংযোগ করছিলাম আমি। গত দুদিন আগে একজন মানুষের কাছে আমি ভোট চাইতে গিয়েছিলাম। তখন একজন মহিলা আমাকে ডাকছিল তার কাছে যাওয়ার জন্য। তার কাছে গিয়ে আমি বিনয়ের সঙ্গে ভোট চাইছিলাম। ‌ এ সময় আরেকজন মহিলা এসে আমার ভিডিও করতে লাগল। এরপর তিনি আমাকে নানা কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেন এ এলাকার জন্য কী করেছেন? করোনার সময় কী করেছেন? তিনি ভিডিওটা ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছিলেন। অনেকেই সেটা দেখেছেন। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি মহিলা যুব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ’

শুক্রবার গোদাগাড়ীর পালপুর বাজারে গণসংযোগ করেছিলেন জানিয়ে মাহি বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ করে একজন এসে ওই একই কথা বলেন। আমাকে জিজ্ঞেস করে করোনার সময় আপনি কী করেছেন? তখন আমি বুঝতে পেরেছি, এটা আশ্রম নির্দেশন আছে আমার গণসংযোগে হুটহাট ইয়ে করার। তখন সে বলছিল আপনি করোনার সময় কী করেছেন? এতদিন পর এলাকায় আসছেন! একটা পর্যায়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়।’

‘তখন সে আমাকে বলে, এটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস, এখানে পথসভা করতে পারবেন না। তখন আমি বলেছি, এটা সরকারি রাস্তা। এখানে পথসভা কেন করতে পারব না? আপনি আমার প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন। আমি প্রশাসনকে জানাব। তখন সে বলে, আপনার প্রশাসন থাকলে আমাদেরও প্রশাসন আছে’, যোগ করেন এই নায়িকা।

তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে সে সবার সামনে আমাকে সরি বলে। তারপর তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। বিভিন্নজনকে ফোন দিয়ে আসতে বলে। আমি শুনেছি- তারা বলছে, হুকুম দেন। খালি হুকুম দেন। তারা নাকি গাড়িতে হুক না-কী যেন নিয়ে আসছে। সেটাও ফোনে বলেছে। এ রকম সিচুয়েশন হলে আমি ইউএনও ও ওসিকে ফোন করেছি। তারা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। ’

ঘটনার পর মামলা প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান মাহিয়া মাহি। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ আসনে নৌকার প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির লোকজন তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন মাহি। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চৌধুরীর লোকজন আমাকে বাধা দিচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এম.নাসির/৩০

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মাহিয়া মাহি

আপডেট সময় : ০১:০০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩

Mahiya Mahi :

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর গোদাগাড়ী) আসনে নির্বাচনী মাঠে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। গণসংযোগকালে পরিকল্পিতভাবে তাকে যেখানে সেখানে হেনস্তার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত একটার দিকে মাহি নিজেই হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

মাহি বলেন, ‘আমি ভীতসন্ত্রস্ত। আর মাত্র ৬-৭ দিন আছে। আমার যত পথসভা হবে হুট করে কে কখন ঢুকে যাবে। সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিশে গিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করবে এ নিয়ে আমি রিস্কে আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণসংযোগ করছিলাম আমি। গত দুদিন আগে একজন মানুষের কাছে আমি ভোট চাইতে গিয়েছিলাম। তখন একজন মহিলা আমাকে ডাকছিল তার কাছে যাওয়ার জন্য। তার কাছে গিয়ে আমি বিনয়ের সঙ্গে ভোট চাইছিলাম। ‌ এ সময় আরেকজন মহিলা এসে আমার ভিডিও করতে লাগল। এরপর তিনি আমাকে নানা কথা জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেন এ এলাকার জন্য কী করেছেন? করোনার সময় কী করেছেন? তিনি ভিডিওটা ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছিলেন। অনেকেই সেটা দেখেছেন। পরে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি মহিলা যুব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ’

শুক্রবার গোদাগাড়ীর পালপুর বাজারে গণসংযোগ করেছিলেন জানিয়ে মাহি বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ করে একজন এসে ওই একই কথা বলেন। আমাকে জিজ্ঞেস করে করোনার সময় আপনি কী করেছেন? তখন আমি বুঝতে পেরেছি, এটা আশ্রম নির্দেশন আছে আমার গণসংযোগে হুটহাট ইয়ে করার। তখন সে বলছিল আপনি করোনার সময় কী করেছেন? এতদিন পর এলাকায় আসছেন! একটা পর্যায়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডাও হয়।’

‘তখন সে আমাকে বলে, এটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস, এখানে পথসভা করতে পারবেন না। তখন আমি বলেছি, এটা সরকারি রাস্তা। এখানে পথসভা কেন করতে পারব না? আপনি আমার প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন। আমি প্রশাসনকে জানাব। তখন সে বলে, আপনার প্রশাসন থাকলে আমাদেরও প্রশাসন আছে’, যোগ করেন এই নায়িকা।

তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে সে সবার সামনে আমাকে সরি বলে। তারপর তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। বিভিন্নজনকে ফোন দিয়ে আসতে বলে। আমি শুনেছি- তারা বলছে, হুকুম দেন। খালি হুকুম দেন। তারা নাকি গাড়িতে হুক না-কী যেন নিয়ে আসছে। সেটাও ফোনে বলেছে। এ রকম সিচুয়েশন হলে আমি ইউএনও ও ওসিকে ফোন করেছি। তারা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। ’

ঘটনার পর মামলা প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান মাহিয়া মাহি। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ আসনে নৌকার প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপির লোকজন তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন মাহি। তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চৌধুরীর লোকজন আমাকে বাধা দিচ্ছে।’ তবে এ বিষয়ে ওমর ফারুক চৌধুরীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এম.নাসির/৩০