ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান রেস্টুরেন্ট জলভাঙ্গা কফি হাউজ

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০২৪ ১০৯ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Jalbhanga Coffee House:

শুধু ব্যবসা নয় মানুষদের বিনোদন এবং সেবা দেওয়ার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান রেস্টুরেন্ট সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার উধুনিয়া এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে। নাম জলভাঙ্গা কফি হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। ইতোমধ্যে রেস্টুরেন্টটি ব্যাপক পরিচিতি ও সাড়া ফেলেছে। রেস্টুরেন্টটিতে এক সঙ্গে ৩ শতাধিক অতিথির খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন এখানে।

চারদিকে পানি, মাঝখানে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আঁকা-বাঁকা আঞ্চলিক পিচঢালা পাকা সড়ক। সড়কের দুই পাশ দিয়ে মুক্ত বাতাসে নৌকা ও স্পিড বোটে ঘুরছেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জলরাশির উপর গড়ে তোলা হয়েছে সুদৃশ্য কফি হাউজ ও রেস্টুরেন্টটি। মনোমুগ্ধকর এই স্থানটিতে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার দাবি ভ্রমণপিপাসু ও স্থানীয়দের।

জানা যায়, জেলার উল্লাপাড়ার শহর থেকে উধুনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার এই আঞ্চলিক সড়কটি এক সময় চরম বিপর্যস্ত ছিল। এ সড়কটি যানবাহন চলাচলেরও উপযোগী ছিল না। দুই বছর আগে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার ও বর্ধিত করা হয়। এ কারণে অবহেলিত চলনবিলের বুকচিরে নির্মিত আঁকা-বাঁকা সড়কটি বদলে দিয়েছে এখানকার চিত্র।

বর্তমানে সড়কটি ঘিরে দুই ধারে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অনেক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কফি হাউজসহ বিভিন্ন রকমের বিনোদন কেন্দ্র।তারই মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে ‘জলভাঙ্গা কফি হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।

জলভাঙ্গা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, উধুনিয়া এলাকায় ৪৫ শতক জায়গায় পানির উপরে ৫ শতাধিক বড় আকারের প্লাস্টিক ড্রাম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই ভাসমান রেস্টুরেন্ট।

প্লাস্টিকের ড্রাম, কাঠ ও লোহার উপরে বিছানো হয়েছে কাঠের পাটাতন। সেখানে নয়টি ছনের সুউচ্চ গোল-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ঘরের ভিতর চেয়ার টেবিল সাজানো আছে। এখানেই কমিউনিটি সেন্টার, পার্টি সেন্টার, পরিচালকের কক্ষ, রান্নাঘর, টয়লেট ও পুরো রেস্টুরেন্টে নানা ধরনের ফুলসহ অনেক গাছ বসিয়ে সবুজায়ন আর নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

রেস্টুরেন্টের কর্মচারী শফিকুল ও আলতাব জানান, এখানে রয়েছে চলনবিলের মিঠা পানির দেশি টাটকা বিভিন্ন রকমের মাছ, হাঁস, দেশি মুরগীর মাংসসহ দেশি-বিদেশি খাবারের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে রয়েছে চা, কফি, কোমল পানি, লাচ্ছিসহ মুখরোচক খাবার। এই খাবারগুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে ভ্রমণ পিপাসুদের পরিবেশন করা হয়।

ঘুরতে আসা জামাল বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশুদ্ধ বাতাস সব কিছু মিলে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আমি প্রায়ই আসতে চেষ্টা করি।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা গৃহিণী বীথি বলেন, জায়গাটা অনেক সুন্দর। সারাদিন নৌকায় ছুটে চলেছি। এই রেস্টুরেন্টে খাবারের জন্য বসে হিমেল হাওয়া আর পানির ঢেউয়ে দুলতে দুলতে খাবার খেতে খেতে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যেতে হয় অজানায়। পানির ঢেউ আর কল-কল শব্দে বিমোহিত হয়ে যায় মন।

ভ্রমণপিপাসু দম্পতি সোহের ও বিনা বলেন, মুক্ত আকাশ আর খোলা আকাশ হাওয়ায় চারদিকে ঘুরছে অসংখ্য নৌকা ও স্পিড বোট। সন্ধ্যার পর রেস্টুরেন্টটির চমৎকার লাইটিং দূর থেকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশের কারণে ছুটে এসেছি।

জলভাঙ্গা কফি হাউজের পরিচালক মো. বকুল হোসেন বলেন, আমরা ১২ জন মিলে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করেছি। এখানে দেশি ও বিদেশি সব রকম খাবার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেস্টুরেন্টে প্রায় ২ হাজারের মতো অতিথি আসেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের রেস্টুরেন্টটি আরও দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলছে। আমরা শুধু ব্যবসা নয় মানুষদের বিনোদন এবং সেবা দেওয়ারও চেষ্টা করছি।

উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বাচ্চু বলেন, উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কার ও বর্ধিত হওয়ায় এই পিছিয়ে পড়া অঞ্চলটি এখন ভ্রমণ এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। এখানকার জীবন যাত্রায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। স্থানটির আরও সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এমপিকে জানানো হয়েছে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আমরা বিশেষ নজরদারি রাখছি। যাতে নিরাপদে ঘুরে ফিরে যেতে পারে।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান রেস্টুরেন্ট জলভাঙ্গা কফি হাউজ

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০২৪

Jalbhanga Coffee House:

শুধু ব্যবসা নয় মানুষদের বিনোদন এবং সেবা দেওয়ার জন্য দেশের সবচেয়ে বড় ভাসমান রেস্টুরেন্ট সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার উধুনিয়া এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে। নাম জলভাঙ্গা কফি হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। ইতোমধ্যে রেস্টুরেন্টটি ব্যাপক পরিচিতি ও সাড়া ফেলেছে। রেস্টুরেন্টটিতে এক সঙ্গে ৩ শতাধিক অতিথির খাবারের সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন এখানে।

চারদিকে পানি, মাঝখানে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আঁকা-বাঁকা আঞ্চলিক পিচঢালা পাকা সড়ক। সড়কের দুই পাশ দিয়ে মুক্ত বাতাসে নৌকা ও স্পিড বোটে ঘুরছেন ভ্রমণপ্রিয় মানুষেরা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত জলরাশির উপর গড়ে তোলা হয়েছে সুদৃশ্য কফি হাউজ ও রেস্টুরেন্টটি। মনোমুগ্ধকর এই স্থানটিতে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার দাবি ভ্রমণপিপাসু ও স্থানীয়দের।

জানা যায়, জেলার উল্লাপাড়ার শহর থেকে উধুনিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার এই আঞ্চলিক সড়কটি এক সময় চরম বিপর্যস্ত ছিল। এ সড়কটি যানবাহন চলাচলেরও উপযোগী ছিল না। দুই বছর আগে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার ও বর্ধিত করা হয়। এ কারণে অবহেলিত চলনবিলের বুকচিরে নির্মিত আঁকা-বাঁকা সড়কটি বদলে দিয়েছে এখানকার চিত্র।

বর্তমানে সড়কটি ঘিরে দুই ধারে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অনেক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কফি হাউজসহ বিভিন্ন রকমের বিনোদন কেন্দ্র।তারই মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে ‘জলভাঙ্গা কফি হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’।

জলভাঙ্গা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানান, উধুনিয়া এলাকায় ৪৫ শতক জায়গায় পানির উপরে ৫ শতাধিক বড় আকারের প্লাস্টিক ড্রাম দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় এই ভাসমান রেস্টুরেন্ট।

প্লাস্টিকের ড্রাম, কাঠ ও লোহার উপরে বিছানো হয়েছে কাঠের পাটাতন। সেখানে নয়টি ছনের সুউচ্চ গোল-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেই ঘরের ভিতর চেয়ার টেবিল সাজানো আছে। এখানেই কমিউনিটি সেন্টার, পার্টি সেন্টার, পরিচালকের কক্ষ, রান্নাঘর, টয়লেট ও পুরো রেস্টুরেন্টে নানা ধরনের ফুলসহ অনেক গাছ বসিয়ে সবুজায়ন আর নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

রেস্টুরেন্টের কর্মচারী শফিকুল ও আলতাব জানান, এখানে রয়েছে চলনবিলের মিঠা পানির দেশি টাটকা বিভিন্ন রকমের মাছ, হাঁস, দেশি মুরগীর মাংসসহ দেশি-বিদেশি খাবারের ব্যবস্থা। একই সঙ্গে রয়েছে চা, কফি, কোমল পানি, লাচ্ছিসহ মুখরোচক খাবার। এই খাবারগুলো অত্যন্ত যত্ন সহকারে ভ্রমণ পিপাসুদের পরিবেশন করা হয়।

ঘুরতে আসা জামাল বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশুদ্ধ বাতাস সব কিছু মিলে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। আমি প্রায়ই আসতে চেষ্টা করি।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা গৃহিণী বীথি বলেন, জায়গাটা অনেক সুন্দর। সারাদিন নৌকায় ছুটে চলেছি। এই রেস্টুরেন্টে খাবারের জন্য বসে হিমেল হাওয়া আর পানির ঢেউয়ে দুলতে দুলতে খাবার খেতে খেতে ক্ষণিকের জন্য হারিয়ে যেতে হয় অজানায়। পানির ঢেউ আর কল-কল শব্দে বিমোহিত হয়ে যায় মন।

ভ্রমণপিপাসু দম্পতি সোহের ও বিনা বলেন, মুক্ত আকাশ আর খোলা আকাশ হাওয়ায় চারদিকে ঘুরছে অসংখ্য নৌকা ও স্পিড বোট। সন্ধ্যার পর রেস্টুরেন্টটির চমৎকার লাইটিং দূর থেকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মনোমুগ্ধকর পরিবেশের কারণে ছুটে এসেছি।

জলভাঙ্গা কফি হাউজের পরিচালক মো. বকুল হোসেন বলেন, আমরা ১২ জন মিলে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই রেস্টুরেন্টটি নির্মাণ করেছি। এখানে দেশি ও বিদেশি সব রকম খাবার ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রেস্টুরেন্টে প্রায় ২ হাজারের মতো অতিথি আসেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ সেবা দিয়ে থাকি। আমাদের রেস্টুরেন্টটি আরও দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলছে। আমরা শুধু ব্যবসা নয় মানুষদের বিনোদন এবং সেবা দেওয়ারও চেষ্টা করছি।

উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বাচ্চু বলেন, উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কার ও বর্ধিত হওয়ায় এই পিছিয়ে পড়া অঞ্চলটি এখন ভ্রমণ এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। এখানকার জীবন যাত্রায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। স্থানটির আরও সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এমপিকে জানানো হয়েছে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় আমরা বিশেষ নজরদারি রাখছি। যাতে নিরাপদে ঘুরে ফিরে যেতে পারে।

/শিল্পী/