ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

ছয় বছরেও ও শেষ হয়নি নবগঙ্গায় সেতু নির্মাণের কাজ

নড়াইল প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

bridge over Navganga :

আড়াই বছরেও শেষ হয়নি নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার বারইপাড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ। বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছরেও কাজ শেষ হয়নি। নির্মাণকাজ শেষের দিকে এসে সেতুর নকশায় ত্রুটি থাকায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী মানুষেরা। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে অতিদ্রুতই সেতু নির্মাণের বাকি কাজ শেষ হবে।

সেতুটি নির্মাণ হলে নড়াইল জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে কালিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। ফলে তাদের ভোগান্তি কমবে। তবে সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা শহর ও ৮টি ইউনিয়নকে পৃথক করে রেখেছে নবগঙ্গা নদী। ফলে যোগাযোগে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় কালিয়া উপজেলাবাসীকে।

সেই ভোগান্তি কমাতে উপজেলার বারইপাড়া খেয়াঘাটে ২০১৭ সালে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নড়াইল-কালিয়া সড়কের ২১ কিলোমিটারে নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থের বারইপাড়া সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা।

সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দীন ও জামিল ইকবাল। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখন নির্দিষ্ট সময় শেষে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে আরও তিনবার সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শেষ সময়ে অর্থাৎ ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির সময় বাঁধে নকশা জটিলতা।

সেতুর ছাদের কিছু অংশ নির্মাণকাজ শেষে দেখা যায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করতে পারছে না। পরে নকশা পরিবর্তন করে উঁচু করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় একশ ৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার যাদবপুরের বাসিন্দারা বলেন, আমরা রোগী নিয়ে যদি খুলনা বা নড়াইল যেতে চাই তাহলে খেয়া পারের জন্য আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় রেতে নৌকা পাওয়া যায় না। আমাদের ভোগান্তি হয়৷ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই আবেদন দ্রুত সেতুটি নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

চলাচলকারী পথচারীরা বলেন, নড়াইল, কালিয়া, খুলনা, যশোর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে পার হয়। অনেক সময় খেয়া পাওয়া যায়, অনকে সময় যায় না। ঘাটগুলো ভালো নয় ব্রিজটা হতে গিয়েও হচ্ছে না। কচ্ছপ গতিতে কাজ চলায় আমরা খুব দূরাবস্থায় আছি।

নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ চলমান রযেছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে আলাদা টেন্ডার করা হয়েছে। টেন্ডারটি লাইভে আছে। আশা করি ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারব।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছয় বছরেও ও শেষ হয়নি নবগঙ্গায় সেতু নির্মাণের কাজ

আপডেট সময় : ০২:১৬:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

bridge over Navganga :

আড়াই বছরেও শেষ হয়নি নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলার বারইপাড়ায় নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ। বারবার মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় বছরেও কাজ শেষ হয়নি। নির্মাণকাজ শেষের দিকে এসে সেতুর নকশায় ত্রুটি থাকায় নির্মাণ ব্যয়ও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ এ পথে চলাচলকারী মানুষেরা। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে অতিদ্রুতই সেতু নির্মাণের বাকি কাজ শেষ হবে।

সেতুটি নির্মাণ হলে নড়াইল জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে কালিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। ফলে তাদের ভোগান্তি কমবে। তবে সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা শহর ও ৮টি ইউনিয়নকে পৃথক করে রেখেছে নবগঙ্গা নদী। ফলে যোগাযোগে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় কালিয়া উপজেলাবাসীকে।

সেই ভোগান্তি কমাতে উপজেলার বারইপাড়া খেয়াঘাটে ২০১৭ সালে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। নড়াইল-কালিয়া সড়কের ২১ কিলোমিটারে নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১.৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থের বারইপাড়া সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা।

সেতু নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন যশোরের ঠিকাদার মইনুদ্দীন ও জামিল ইকবাল। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তখন নির্দিষ্ট সময় শেষে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে আরও তিনবার সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শেষ সময়ে অর্থাৎ ৪র্থ বার মেয়াদ বৃদ্ধির সময় বাঁধে নকশা জটিলতা।

সেতুর ছাদের কিছু অংশ নির্মাণকাজ শেষে দেখা যায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল করতে পারছে না। পরে নকশা পরিবর্তন করে উঁচু করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বাড়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। কয়েক দফায় সময় ও অর্থ বেড়ে এখন ব্যয় একশ ৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

উপজেলার যাদবপুরের বাসিন্দারা বলেন, আমরা রোগী নিয়ে যদি খুলনা বা নড়াইল যেতে চাই তাহলে খেয়া পারের জন্য আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় রেতে নৌকা পাওয়া যায় না। আমাদের ভোগান্তি হয়৷ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই আবেদন দ্রুত সেতুটি নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

চলাচলকারী পথচারীরা বলেন, নড়াইল, কালিয়া, খুলনা, যশোর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে পার হয়। অনেক সময় খেয়া পাওয়া যায়, অনকে সময় যায় না। ঘাটগুলো ভালো নয় ব্রিজটা হতে গিয়েও হচ্ছে না। কচ্ছপ গতিতে কাজ চলায় আমরা খুব দূরাবস্থায় আছি।

নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাজ চলমান রযেছে। নকশা পরিবর্তনের কারণে আলাদা টেন্ডার করা হয়েছে। টেন্ডারটি লাইভে আছে। আশা করি ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারব।

/শিল্পী/