ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

চলাচলের রাস্তায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ

লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪ ৯১ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Lokhipur :

লক্ষ্মীপুরে ২৭ বছর ধরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে রিকশাচালক আবুল বাশারের পরিবারকে প্রায় ১ মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। শনিবার (৯ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গন্ধব্যপুর গ্রামের মোক্তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী বাশার গন্ধব্যপুর গ্রামের মৃত মমিন উল্যার ছেলে ও পেশায় রিকশাচালক। অভিযুক্ত মমিন একই গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে।

জানা গেছে, বাশারের জমিটি কেনার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রতিবেশী মমিন উল্যা। এদিকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করার ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার ৭ মার্চ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ১৬ ফেব্রুয়ারি চন্দ্রগঞ্জ থানা ও মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ও মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডাকলেও তাদের কার্যালয়ে যাননি অভিযুক্ত মমিন উল্যা।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, প্রায় ২৭ বছর আগে ওই স্থানে বসতঘর নির্মাণ করে ভুক্তভোগী বাশার পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করে। তখন আশপাশে অন্য কারও ঘর বাড়ি ছিল না। পরবর্তীতের তার বাড়ির সামনে মমিন উল্যারা জমি কেনে। তারাও বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। ২৭ বছর ধরেই বাড়ি পশ্চিম দিক দিয়ে বাশারের পরিবার চলাফেরা করছে। মমিন ও বাশারদের মধ্যে সোহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করা হয়নি।

৪ বছর আগে হঠাৎ করে মমিন তার জমির ওপর দিয়ে বাশারকে হাঁটতে নিষেধ করে। প্রায় ১ মাস আগে মমিন তার চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে দেয়। এতে বাশার তার পরিবার নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানিয়েও কোনোভাবেই মমিনকে রাজি করানো সম্ভব হচ্ছে না। মমিন কারো কথাই শুনছে না।

অটোরিকশা চালক আবুল বাশার বলেন, পথের জন্য মমিনের কাছ থেকে জমি কিনতে চেয়েছি, তিনি দিচ্ছেন না। পার্শ্ববর্তী একজনের কাছ থেকে জমি কিনতে চাইলেও তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মূলত মমিন আমার বাড়িটি কিনতে চাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। বাড়ি বিক্রি করলে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়ব। আমার পরিবারের ১০ জন সদস্য রয়েছে। সবাইকে নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ডিসি ও ইউএনওর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

মমিন উল্যা বলেন, বাশারদেরকে আমার রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেব না। তারা আমার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় অভিযোগ দিয়ে ভুল করেছে। আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তাই তাদের সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রুবেল বলেন, বাশারের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে তিনবার অভিযুক্ত মমিন উল্যাকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু মমিন একবারও আসেনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগপত্রটি এখনো পাইনি। রোববার কার্যালয় গেলে অভিযোগপত্রটি পাব আশা করি। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

/শিল্পী/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চলাচলের রাস্তায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৩:২৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

Lokhipur :

লক্ষ্মীপুরে ২৭ বছর ধরে চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়ে রিকশাচালক আবুল বাশারের পরিবারকে প্রায় ১ মাস ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি। শনিবার (৯ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গন্ধব্যপুর গ্রামের মোক্তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগী বাশার গন্ধব্যপুর গ্রামের মৃত মমিন উল্যার ছেলে ও পেশায় রিকশাচালক। অভিযুক্ত মমিন একই গ্রামের মৃত আলী আহম্মদের ছেলে।

জানা গেছে, বাশারের জমিটি কেনার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন প্রতিবেশী মমিন উল্যা। এদিকে যাতায়াতের পথ বন্ধ করার ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার ৭ মার্চ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ১৬ ফেব্রুয়ারি চন্দ্রগঞ্জ থানা ও মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ ও মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডাকলেও তাদের কার্যালয়ে যাননি অভিযুক্ত মমিন উল্যা।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, প্রায় ২৭ বছর আগে ওই স্থানে বসতঘর নির্মাণ করে ভুক্তভোগী বাশার পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করে। তখন আশপাশে অন্য কারও ঘর বাড়ি ছিল না। পরবর্তীতের তার বাড়ির সামনে মমিন উল্যারা জমি কেনে। তারাও বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। ২৭ বছর ধরেই বাড়ি পশ্চিম দিক দিয়ে বাশারের পরিবার চলাফেরা করছে। মমিন ও বাশারদের মধ্যে সোহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করা হয়নি।

৪ বছর আগে হঠাৎ করে মমিন তার জমির ওপর দিয়ে বাশারকে হাঁটতে নিষেধ করে। প্রায় ১ মাস আগে মমিন তার চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে দেয়। এতে বাশার তার পরিবার নিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানিয়েও কোনোভাবেই মমিনকে রাজি করানো সম্ভব হচ্ছে না। মমিন কারো কথাই শুনছে না।

অটোরিকশা চালক আবুল বাশার বলেন, পথের জন্য মমিনের কাছ থেকে জমি কিনতে চেয়েছি, তিনি দিচ্ছেন না। পার্শ্ববর্তী একজনের কাছ থেকে জমি কিনতে চাইলেও তিনি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। মূলত মমিন আমার বাড়িটি কিনতে চাচ্ছে। আমি গরিব মানুষ। বাড়ি বিক্রি করলে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়ব। আমার পরিবারের ১০ জন সদস্য রয়েছে। সবাইকে নিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য রাস্তার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য ডিসি ও ইউএনওর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

মমিন উল্যা বলেন, বাশারদেরকে আমার রাস্তা দিয়ে হাঁটতে দেব না। তারা আমার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় অভিযোগ দিয়ে ভুল করেছে। আমাকে কষ্ট দিয়েছে। তাই তাদের সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রুবেল বলেন, বাশারের পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে তিনবার অভিযুক্ত মমিন উল্যাকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু মমিন একবারও আসেনি।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, আমি অভিযোগপত্রটি এখনো পাইনি। রোববার কার্যালয় গেলে অভিযোগপত্রটি পাব আশা করি। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

/শিল্পী/