ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

জাপার আপত্তি

জাতীয় সংসদে দ্রুত বিচার আইন পাস

সংসদ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ ১২২ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Speedy Trial Act :

জাতীয় পার্টির (জাপার) আপত্তি সত্ত্বেও দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল পাস হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মার্চ) মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে বিল পাসের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ জাপার তিন এমপি আইনটি স্থায়ীকরণের বিরোধিতা করে বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এই আইনটি প্রথমবার পাসকালে জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এর বিরোধিতা করেছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে আইনটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বর্তমান সরকার আইনটি স্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে বিরোধীদের এই আপত্তি কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের সমালোচনার মুখেই দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে বিল পাস হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘আইন–শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার-সংশোধন) বিল-২০২৪’ উত্থাপন করা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন।

‘আইন–শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল, ২০২৪ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব এবং সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু, মাসুদউদ্দিন চৌধুরী এবং হাফিজ উদ্দিন আহেম্মদ।

২০০২ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। এরপর ৭ দফা এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে আইনটি সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৯ এপ্রিল এই আইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে আইনটির মেয়াদ না বাড়িয়ে তা স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় বিলের খসড়া অনুমোদনের পর আজ এ সংক্রান্ত বিল সংসদে পাস হলো। বিলে আইনটি স্থায়ী করা ছাড়া অন্যকোনো সংশোধনী আনা হয়নি।

বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ‘২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার যখন আইনটি করেছিল তখন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ বলেছিল এটি নিপীড়নমূলক ও কালো আইন। এই আইনটা রাজনৈতিক কারণ বা সরকার চাইলে যেকোনো কারণে নাগরিককে হয়রানি করতে পারে। সে আইনটা আপনারা রেখেছেন। আমি জানি না কেন রেখেছেন?’

মুজিবুল হক বলেন, ‘যখন আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন না, স্থায়ীভাবে আইনটা করবেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় আসবেন, তখন উদ্দেশ্যতো ভালো নাও থাকতে পারে। আপনারা কি এটা বলতে চান- বিএনপি যে আইনটা এনেছিল তা ভালো ছিল? এটাই আজকে স্বীকার করুন।’

মুজিবুল আরও বলেন, ‘র‌্যাব গঠন করার সময় আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করেছিল। সে র‌্যাব এখনও টিকে আছে, তারা কাজ করছে। সরকারের কাছে অনুরোধ যদি প্রয়োজন পড়ে এক/দুই বছর আইনের মেয়াদ বাড়ান। কিন্তু দ্রুত বিচার আইনটা স্থায়ী করবেন না, করলে ভবিষ্যতে একদিন আপনাদের এমন অবস্থা হবে, সেদিন আপসোস করবেন।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আইনটি প্রথম পাস হয় বিএনপির সময়। ওই সময় আমরা ও আজকের সরকার আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেছিল। তারপরও আইনটি পাশ হয়েছিল। আজকেও পাশ হবে। আমার প্রশ্ন হলো, যার জন্য গর্ত খুঁড়বেন, নিজেকেই সেই গর্তে পড়তে হয়। আজকে বিএনপি সেই গর্তে পড়েছে। এখন আওয়ামী লীগ আইনটিকে স্থায়ী করতে নিয়ে এসেছে। দিন এক রকম থাকবে না। তাই আইনটিকে স্থায়ী না করে মেয়াদ বাড়ানো উচিত।’

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে আইনটি করার সময় বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি ছিল না বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সেসময় নানা ধরণের অপরাধ হতো, তাই হয়তো আইনটি তৎকালীন সরকার করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সংসদ সদস্যও অনেক সময় সরকারের কাছে সুপারিশ করেন আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার করার জন্য। শুধু সংসদ সদস্য না, অনেকেই আইনটি ব্যবহার করার জন্য আমাদের কাছে সুপারিশ পাঠান। কারণ একটাই যাতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীরা শাস্তি পায়। সংসদ সদস্যদের কেউ বলেনি আইনটি বাতিল করে দেন। কেউ বলেননি আইনটি যথাযোগ্য নয়। তারা সময় বৃদ্ধি করে দিয়ে আইনটি চালু থাকার কথা বলেছেন। আইনটি একই রকম আছে আমরা কোনো রকম সংশোধন করিনি।

পরে বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনার সুযোগ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন আইনটি ভালো। তাহলে বিএনপি যখন আইনটি করেছিল আপনারা তার বিরোধিতা করেছিলেন কেন? এখন ভালো হয়ে গেল! আপনি বলেছিলেন অপপ্রয়োগ হয় কি না যারা আন্দোলন করতেছে তারা বলতে পারবে। আমরা যদি কখনো আপনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাই তখন বলতে পারব অপপ্রয়োগ হচ্ছে কি না।’

এম.নাসির/৫

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জাপার আপত্তি

জাতীয় সংসদে দ্রুত বিচার আইন পাস

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪

Speedy Trial Act :

জাতীয় পার্টির (জাপার) আপত্তি সত্ত্বেও দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে সংসদে বিল পাস হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মার্চ) মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যে বিল পাসের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ জাপার তিন এমপি আইনটি স্থায়ীকরণের বিরোধিতা করে বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এই আইনটি প্রথমবার পাসকালে জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এর বিরোধিতা করেছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে আইনটির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বর্তমান সরকার আইনটি স্থায়ী রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে বিরোধীদের এই আপত্তি কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

সংসদে বিরোধী দলের এমপিদের সমালোচনার মুখেই দ্রুত বিচার আইন স্থায়ী করতে বিল পাস হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘আইন–শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার-সংশোধন) বিল-২০২৪’ উত্থাপন করা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিলটি পাসের জন্য সংসদে তোলেন।

‘আইন–শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) বিল, ২০২৪ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব এবং সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু, মাসুদউদ্দিন চৌধুরী এবং হাফিজ উদ্দিন আহেম্মদ।

২০০২ সালে প্রথম এই আইনটি করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। এরপর ৭ দফা এই আইনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে আইনটি সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৯ এপ্রিল এই আইনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে আইনটির মেয়াদ না বাড়িয়ে তা স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় বিলের খসড়া অনুমোদনের পর আজ এ সংক্রান্ত বিল সংসদে পাস হলো। বিলে আইনটি স্থায়ী করা ছাড়া অন্যকোনো সংশোধনী আনা হয়নি।

বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ‘২০০২ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার যখন আইনটি করেছিল তখন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ বলেছিল এটি নিপীড়নমূলক ও কালো আইন। এই আইনটা রাজনৈতিক কারণ বা সরকার চাইলে যেকোনো কারণে নাগরিককে হয়রানি করতে পারে। সে আইনটা আপনারা রেখেছেন। আমি জানি না কেন রেখেছেন?’

মুজিবুল হক বলেন, ‘যখন আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন না, স্থায়ীভাবে আইনটা করবেন, অন্য কেউ ক্ষমতায় আসবেন, তখন উদ্দেশ্যতো ভালো নাও থাকতে পারে। আপনারা কি এটা বলতে চান- বিএনপি যে আইনটা এনেছিল তা ভালো ছিল? এটাই আজকে স্বীকার করুন।’

মুজিবুল আরও বলেন, ‘র‌্যাব গঠন করার সময় আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করেছিল। সে র‌্যাব এখনও টিকে আছে, তারা কাজ করছে। সরকারের কাছে অনুরোধ যদি প্রয়োজন পড়ে এক/দুই বছর আইনের মেয়াদ বাড়ান। কিন্তু দ্রুত বিচার আইনটা স্থায়ী করবেন না, করলে ভবিষ্যতে একদিন আপনাদের এমন অবস্থা হবে, সেদিন আপসোস করবেন।’

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আইনটি প্রথম পাস হয় বিএনপির সময়। ওই সময় আমরা ও আজকের সরকার আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করেছিল। তারপরও আইনটি পাশ হয়েছিল। আজকেও পাশ হবে। আমার প্রশ্ন হলো, যার জন্য গর্ত খুঁড়বেন, নিজেকেই সেই গর্তে পড়তে হয়। আজকে বিএনপি সেই গর্তে পড়েছে। এখন আওয়ামী লীগ আইনটিকে স্থায়ী করতে নিয়ে এসেছে। দিন এক রকম থাকবে না। তাই আইনটিকে স্থায়ী না করে মেয়াদ বাড়ানো উচিত।’

বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে আইনটি করার সময় বাংলাদেশে অরাজক পরিস্থিতি ছিল না বলে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘সেসময় নানা ধরণের অপরাধ হতো, তাই হয়তো আইনটি তৎকালীন সরকার করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সংসদ সদস্যও অনেক সময় সরকারের কাছে সুপারিশ করেন আইনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার করার জন্য। শুধু সংসদ সদস্য না, অনেকেই আইনটি ব্যবহার করার জন্য আমাদের কাছে সুপারিশ পাঠান। কারণ একটাই যাতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীরা শাস্তি পায়। সংসদ সদস্যদের কেউ বলেনি আইনটি বাতিল করে দেন। কেউ বলেননি আইনটি যথাযোগ্য নয়। তারা সময় বৃদ্ধি করে দিয়ে আইনটি চালু থাকার কথা বলেছেন। আইনটি একই রকম আছে আমরা কোনো রকম সংশোধন করিনি।

পরে বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাবের আলোচনার সুযোগ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন আইনটি ভালো। তাহলে বিএনপি যখন আইনটি করেছিল আপনারা তার বিরোধিতা করেছিলেন কেন? এখন ভালো হয়ে গেল! আপনি বলেছিলেন অপপ্রয়োগ হয় কি না যারা আন্দোলন করতেছে তারা বলতে পারবে। আমরা যদি কখনো আপনাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাই তখন বলতে পারব অপপ্রয়োগ হচ্ছে কি না।’

এম.নাসির/৫