ঢাকা ০১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

রেমালের তাণ্ডব

বরগুনা উপকূল লণ্ডভণ্ড

বরগুণা প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
Barguna coast is rugged:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট রেমালের তাণ্ডবে বরগুনা উপকূল লণ্ডভণ্ড । দেশের সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটলেও বসতঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড় আঘাত হানার পর ২৬ ঘণ্টা ধরে জেলা বিদ্যুতহীন রয়েছে।

বরগুনায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শেষ হয়েছে সোমবার (২৭ মে) সন্ধ্যায়। ঘূর্ণিঝড় রোববার (২৬ মে) রাতে আঘাত হানলেও ভোররাত থেকে প্রচণ্ড ঝড়, বাতাস ও ভারী বর্ষণে জেলায় সড়ক ও নৌপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

সোমবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, আদর্শ বিদ্যালয় সড়ক, বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, কলেজ রোড, ব্রাঞ্চ রোড এলাকা এখনও পানিবন্দি হয়ে আছে। এছাড়া সদর উপজেলার লাকুরতলা, দক্ষিণ মনসাতলী, খাজুরতলা, নলটোনা, বালিয়াতলীসহ বেশিরভাগ গ্রাম পানিতে তলিয়ে আছে।

আদর্শ স্কুল সড়কের ব্যবসায়ী সুমন কর্মকার বলেন, ‘আমার স্বর্ণের দোকানে রোববার (২৭ মে) রাতে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। তারপর থেকে আর পানি নামেনি। এ এলাকার সকল ব্যবসায়ী ও বসতঘরের মানুষ এখন পানিবন্দি।’

ব্রাঞ্চ রোডের বাসিন্দা জনি বলেন, পৌর শহরের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যাদের বাসায় গ্যাসের চুলা আছে, তারা রান্না করে খেতে পাড়ছে। আর যাদের নেই, তারা শুকনো খাবার খেয়ে আছে।

ঢাকা-বরগুনা সড়কের টাউনহল ব্রিজের উপরে ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জয়দেব শীল বলেন, এই সড়কের দুইপাশের অন্তত দেড় শতাধিক গাছ উপরে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৭০০ জন মানুষ। ৩ হাজার ৩৭৪টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ১৩ হাজার ৩৪টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ হাজার হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। ৪ হাজার ১৫৭ হেক্টর জমির মাছের ঘের ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার আগে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে কাজ করছি। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলছি।’

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ারা তুমপা বলেন, ‘এই উপজেলায় ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদুৎ নেই। অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে আমি নিজে লোকজন নিয়ে সড়ক ও নৌপথ সচল করতে কাজ করে সফল হয়েছি। ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। অসংখ্য বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করেছি। গুরুত্ব বিবেচনায় সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছি। যা বরাদ্দ ছিল তা দিয়ে সবাইকে দ্রুত সহায়তা করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দিয়েছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক পথ সচল করতে। ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট তালিকা করতে বলেছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবাইকে সহায়তা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ঝূঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের আপ্রাণ চেষ্টায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।

এম.নাসির/২৭

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রেমালের তাণ্ডব

বরগুনা উপকূল লণ্ডভণ্ড

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪
Barguna coast is rugged:

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট রেমালের তাণ্ডবে বরগুনা উপকূল লণ্ডভণ্ড । দেশের সর্ব দক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কোনো মানুষের প্রাণহানি না ঘটলেও বসতঘর, ফসলি জমি, মাছের ঘের ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড় আঘাত হানার পর ২৬ ঘণ্টা ধরে জেলা বিদ্যুতহীন রয়েছে।

বরগুনায় ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শেষ হয়েছে সোমবার (২৭ মে) সন্ধ্যায়। ঘূর্ণিঝড় রোববার (২৬ মে) রাতে আঘাত হানলেও ভোররাত থেকে প্রচণ্ড ঝড়, বাতাস ও ভারী বর্ষণে জেলায় সড়ক ও নৌপথ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

সোমবার সন্ধ্যায় পৌরশহরের নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, আদর্শ বিদ্যালয় সড়ক, বালিকা বিদ্যালয় সড়ক, কলেজ রোড, ব্রাঞ্চ রোড এলাকা এখনও পানিবন্দি হয়ে আছে। এছাড়া সদর উপজেলার লাকুরতলা, দক্ষিণ মনসাতলী, খাজুরতলা, নলটোনা, বালিয়াতলীসহ বেশিরভাগ গ্রাম পানিতে তলিয়ে আছে।

আদর্শ স্কুল সড়কের ব্যবসায়ী সুমন কর্মকার বলেন, ‘আমার স্বর্ণের দোকানে রোববার (২৭ মে) রাতে জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে। তারপর থেকে আর পানি নামেনি। এ এলাকার সকল ব্যবসায়ী ও বসতঘরের মানুষ এখন পানিবন্দি।’

ব্রাঞ্চ রোডের বাসিন্দা জনি বলেন, পৌর শহরের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যাদের বাসায় গ্যাসের চুলা আছে, তারা রান্না করে খেতে পাড়ছে। আর যাদের নেই, তারা শুকনো খাবার খেয়ে আছে।

ঢাকা-বরগুনা সড়কের টাউনহল ব্রিজের উপরে ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জয়দেব শীল বলেন, এই সড়কের দুইপাশের অন্তত দেড় শতাধিক গাছ উপরে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয় ২ লাখ ৩১ হাজার ৭০০ জন মানুষ। ৩ হাজার ৩৭৪টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ১৩ হাজার ৩৪টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬ হাজার হেক্টর কৃষি জমি প্লাবিত হয়েছে। ৪ হাজার ১৫৭ হেক্টর জমির মাছের ঘের ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার আগে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে কাজ করছি। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা খারাপ অবস্থায় আছে। আমরা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলছি।’

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ারা তুমপা বলেন, ‘এই উপজেলায় ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদুৎ নেই। অনেক জায়গায় গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে আমি নিজে লোকজন নিয়ে সড়ক ও নৌপথ সচল করতে কাজ করে সফল হয়েছি। ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। অসংখ্য বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করেছি। গুরুত্ব বিবেচনায় সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছি। যা বরাদ্দ ছিল তা দিয়ে সবাইকে দ্রুত সহায়তা করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু রাইজিংবিডি-কে বলেন, ‘প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসকে নির্দেশ দিয়েছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক পথ সচল করতে। ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট তালিকা করতে বলেছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবাইকে সহায়তা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ঝূঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে প্রশাসনের আপ্রাণ চেষ্টায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।

এম.নাসির/২৭