ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাবের হোসেন

ট্যানারিগুলোতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কিছুই নেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
Solid waste in tanneries :

ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের ট্যানারিগুলোতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কিছুই নেই।’ তিনি বলেন, সাভারের ট্যানারি থেকে ক্রোমিয়ামের মতো রাসায়নিক নির্গত হয়। এ ধাতুর কারণে মানুষের ক্যানসার হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেখানে (ট্যানারি) বিশেষ করে আমরা যেটা বলি, ক্রোমিয়ামের যে বিষয়টি আছে, যেটি ভারী ধাতু, যেটির কারণে ক্যানসার হয়, মানুষ মারা যায়, সেই ক্রোমিয়াম আমাদের ট্যানারি থেকে বের হয়ে আসছে। এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা এত বড় একটি পরিকল্পনা নিলাম, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর করলাম। হাজারীবাগে যখন এটি ছিল, তখন আশপাশের নদীগুলো মরল। এখন সেটি যেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেখানকার আশপাশের নদীগুলোকে শেষ করছি। কাজেই এখানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা দরকার। আমরা তা করব।

ট্যানারির বর্জ্য বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, এতদিন শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বলা হতো, সেখানে দূষণ হচ্ছে না। কিন্তু তারাও এখন বুঝতে পেরেছে, আমরা সেখানে গিয়ে দেখে এসেছি। আগে আমরা যখন এ নিয়ে বলতাম, তখন মনে হতো, আমরাই অপরাধী। কারণ পরিবেশ মানেই এসব কথা বলবে। কিন্তু এখন সমস্যা যে আছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্জ্য থেকে আমরা যদি সার তৈরি করতে পারি, তাহলে প্রতি বছর আমরা যে পরিমাণ সার আমদানি করি, তা আমদানি না করে স্থানীয়ভাবে বর্জ্য থেকে তৈরি করতে পারব। একটি বিষয় হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সার্বিকভাবে সেটিকে কীভাবে উন্নত করা যায়, কার্যকর করা যায়, তা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আরেকটি হলো, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বর্জ্য ব্যবহার করতে পারি। এতে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সার আমদানি কমার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার আমদানির যে স্পেসিফিকেশন আছে, সেটির সঙ্গে আমরা স্থানীয়ভাবে যা উৎপাদন করি, তার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না, সেটি দেখবো। আমদানির ক্ষেত্রে আমরা জানি, যারা সাপ্লাই করে, তাদের স্বার্থ থাকে। তারা স্পেসিফিকেশন একভাবে তৈরি করে নেয়। আমরা দেখব, বাংলাদেশে আমরা যে মানটা পাচ্ছি, সেটিতে যদি বিএসটিআই অনুমোদন দেয়, কৃষি মন্ত্রণালয় যদি উপযোগী মনে করি, তাহলে আমদানি কেন করব? আমরা স্থানীয়ভাবে বর্জ্যটাকে সারে রূপান্তর করব। এটি এখন পরীক্ষামূলকভাবে হচ্ছে, খুবই ছোট পরিসরে।

এম.নাসির/১৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাবের হোসেন

ট্যানারিগুলোতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কিছুই নেই

আপডেট সময় : ০৫:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪
Solid waste in tanneries :

ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘দেশের ট্যানারিগুলোতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কিছুই নেই।’ তিনি বলেন, সাভারের ট্যানারি থেকে ক্রোমিয়ামের মতো রাসায়নিক নির্গত হয়। এ ধাতুর কারণে মানুষের ক্যানসার হচ্ছে, যা খুবই দুঃখজনক।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি ও ঢাকা কলিংয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সেখানে (ট্যানারি) বিশেষ করে আমরা যেটা বলি, ক্রোমিয়ামের যে বিষয়টি আছে, যেটি ভারী ধাতু, যেটির কারণে ক্যানসার হয়, মানুষ মারা যায়, সেই ক্রোমিয়াম আমাদের ট্যানারি থেকে বের হয়ে আসছে। এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা এত বড় একটি পরিকল্পনা নিলাম, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তর করলাম। হাজারীবাগে যখন এটি ছিল, তখন আশপাশের নদীগুলো মরল। এখন সেটি যেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেখানকার আশপাশের নদীগুলোকে শেষ করছি। কাজেই এখানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন আনা দরকার। আমরা তা করব।

ট্যানারির বর্জ্য বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, এতদিন শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে বলা হতো, সেখানে দূষণ হচ্ছে না। কিন্তু তারাও এখন বুঝতে পেরেছে, আমরা সেখানে গিয়ে দেখে এসেছি। আগে আমরা যখন এ নিয়ে বলতাম, তখন মনে হতো, আমরাই অপরাধী। কারণ পরিবেশ মানেই এসব কথা বলবে। কিন্তু এখন সমস্যা যে আছে, তা স্পষ্ট হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্জ্য থেকে আমরা যদি সার তৈরি করতে পারি, তাহলে প্রতি বছর আমরা যে পরিমাণ সার আমদানি করি, তা আমদানি না করে স্থানীয়ভাবে বর্জ্য থেকে তৈরি করতে পারব। একটি বিষয় হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। সার্বিকভাবে সেটিকে কীভাবে উন্নত করা যায়, কার্যকর করা যায়, তা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। আরেকটি হলো, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বর্জ্য ব্যবহার করতে পারি। এতে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সার আমদানি কমার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সার আমদানির যে স্পেসিফিকেশন আছে, সেটির সঙ্গে আমরা স্থানীয়ভাবে যা উৎপাদন করি, তার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি না, সেটি দেখবো। আমদানির ক্ষেত্রে আমরা জানি, যারা সাপ্লাই করে, তাদের স্বার্থ থাকে। তারা স্পেসিফিকেশন একভাবে তৈরি করে নেয়। আমরা দেখব, বাংলাদেশে আমরা যে মানটা পাচ্ছি, সেটিতে যদি বিএসটিআই অনুমোদন দেয়, কৃষি মন্ত্রণালয় যদি উপযোগী মনে করি, তাহলে আমদানি কেন করব? আমরা স্থানীয়ভাবে বর্জ্যটাকে সারে রূপান্তর করব। এটি এখন পরীক্ষামূলকভাবে হচ্ছে, খুবই ছোট পরিসরে।

এম.নাসির/১৪