ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

রাজধানী ডিপ্লোমেটিক জোনে

এক ‍পুলিশ আরেক পুলিশকে গুলি করে হত্যা, গুলিবিদ্ধ আরও দুই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪ ১৫ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
Two others were shot:

রাজধানীতে ডিপ্লোমেটিক জোনে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে সিকিউরিটির দায়িত্ব থাকা পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল কে হত্যা করেছে একই দায়িত্বে থাকা আরেক পুলিশ কনস্টেবল কাউসার। এছাড়া এ ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার (৮ জুন) রাত ১২টার দিকে বারিধারা দূতাবাস রোডে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

যে দুজন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন সাইকেল আরোহী এবং অপরজন জাপান দূতাবাসের ড্রাইভার।

হত্যার পর নিহত মনিরের লাশ সড়কে পড়েছিল বেশ কিছুক্ষণ। তবে পরে কাউসারকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে কথা বলেন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের সামনে আমাদের দুইজন কনস্টেবল ডিউটিরত ছিল। এদের মধ্যে কনস্টেবল কাউসার আলীর গুলিতে কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় জাপান দূতাবাসের গাড়ি চালক সাজ্জাদ হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং তিনি এখন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাজ্জাদ হোসেনের শরীরে ৩ রাউন্ড গুলি লেগেছে।

আক্রমণকারী কনস্টেবল কে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাকে নিরস্ত্র করা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। মনিরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আমরা কিছু গুলির খোসা এবং বিশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার কারণ জানতে আমরা কনস্টেবল কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করব। আক্রমণকারীকে আমরা ইতোমধ্যে আটক করে ফেলেছি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানাটা খুব কঠিন হবে না।’

এদিকে জানা গেছে, কাউসার মনিরুলকে গুলি করে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের প্রধান ফটক এসে দাঁড়ায়। তখন প্রধান ফটকের দুই থেকে তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী ছিল। তারা গুলি শব্দ শুনতে পেলেও তখন ধারণা করতে পারিনি যে কাউসার মনিরুলকে গুলি করে এসেছে। তখন কাউসারকে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের এক নিরাপত্তার রক্ষী জিজ্ঞেস করেন মনিরুল কেন রাস্তায় পড়ে রয়েছে। তখন মনিরুলের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল কাওসার। সে বলে- ‘কিছুই হয়নি, শালা এমনি নাটক করতাছে।’

তবে গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে কনস্টেবল কাউসার সহকর্মী কনস্টেবল মনিরুলকে গুলি করেছে। তবে কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না। আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।

এম.নাসির/৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজধানী ডিপ্লোমেটিক জোনে

এক ‍পুলিশ আরেক পুলিশকে গুলি করে হত্যা, গুলিবিদ্ধ আরও দুই

আপডেট সময় : ০১:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ জুন ২০২৪
Two others were shot:

রাজধানীতে ডিপ্লোমেটিক জোনে অবস্থিত ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে সিকিউরিটির দায়িত্ব থাকা পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল কে হত্যা করেছে একই দায়িত্বে থাকা আরেক পুলিশ কনস্টেবল কাউসার। এছাড়া এ ঘটনায় দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার (৮ জুন) রাত ১২টার দিকে বারিধারা দূতাবাস রোডে ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

যে দুজন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন সাইকেল আরোহী এবং অপরজন জাপান দূতাবাসের ড্রাইভার।

হত্যার পর নিহত মনিরের লাশ সড়কে পড়েছিল বেশ কিছুক্ষণ। তবে পরে কাউসারকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল থেকে কথা বলেন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘আজ (শনিবার) রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের সামনে আমাদের দুইজন কনস্টেবল ডিউটিরত ছিল। এদের মধ্যে কনস্টেবল কাউসার আলীর গুলিতে কনস্টেবল মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় জাপান দূতাবাসের গাড়ি চালক সাজ্জাদ হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং তিনি এখন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাজ্জাদ হোসেনের শরীরে ৩ রাউন্ড গুলি লেগেছে।

আক্রমণকারী কনস্টেবল কে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তাকে নিরস্ত্র করা হয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। মনিরুল ইসলামের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আমরা কিছু গুলির খোসা এবং বিশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার কারণ জানতে আমরা কনস্টেবল কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করব। আক্রমণকারীকে আমরা ইতোমধ্যে আটক করে ফেলেছি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানাটা খুব কঠিন হবে না।’

এদিকে জানা গেছে, কাউসার মনিরুলকে গুলি করে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের প্রধান ফটক এসে দাঁড়ায়। তখন প্রধান ফটকের দুই থেকে তিনজন নিরাপত্তা রক্ষী ছিল। তারা গুলি শব্দ শুনতে পেলেও তখন ধারণা করতে পারিনি যে কাউসার মনিরুলকে গুলি করে এসেছে। তখন কাউসারকে ফিলিস্তিনি দূতাবাসের এক নিরাপত্তার রক্ষী জিজ্ঞেস করেন মনিরুল কেন রাস্তায় পড়ে রয়েছে। তখন মনিরুলের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল কাওসার। সে বলে- ‘কিছুই হয়নি, শালা এমনি নাটক করতাছে।’

তবে গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে কনস্টেবল কাউসার সহকর্মী কনস্টেবল মনিরুলকে গুলি করেছে। তবে কোনভাবে ছাড় দেয়া হবে না। আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।

এম.নাসির/৯