ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

‘আমরা এখানেই পড়তে চাই’, আকুতি ১৬৯ শিক্ষার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪ ১২২ বার পড়া হয়েছে

ভিকারুননিসার প্রধান শাখার সামনে এ মানববন্ধন

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Human Chain: ‘মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই’, ‘আমরা এখানেই পড়তে চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল হওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬৯ জন শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভর্তির আবেদন বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করছেন।

আজ রোববার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ভিকারুননিসার প্রধান শাখার সামনে এ মানববন্ধন শুরু হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কোলমাটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়েছিল। আছে “আমাদের ভবিষ্যৎ কী’, ‘আমি কি আর আমার স্কুলে যেতে পারব না”, “আমি একজন সহানুভূতিশীল প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ চাই”, “আমার স্কুলের গেট কেন কোনো দোষ ছাড়াই আমার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলো”, “আমরা কি করব? আমরা এখানেই পড়বো”, “আমরা মাউশির ভুলের মাশুল দিচ্ছি”। “আমরা কেন কষ্ট পাব, আমরা নিষ্পাপ ছোট শিশু, কেন আমরা রাস্তায় স্কুল ছেড়ে যাচ্ছি” ইত্যাদি।

মানববন্ধনে অভিভাবকরা বলেন, আমরা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সব নির্দেশনা মেনে ভর্তির জন্য আবেদন করছি। কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে ভর্তির অনুমতি দেয়। ভর্তির পর ছেলেমেয়েরাও ৬ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস নেয়। কিন্তু হঠাৎ করে আদালত রায় দেয় যে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া ১৬৯ জন ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না। আমাদের জানানো হয়, প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই হঠাৎ করে ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। এখন আমরা বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব? তাই আমরা চাই ভর্তি বাতিল না করে বহাল থাকুক।

মানববন্ধনে মোক্তাদির আহমেদ বলেন, মাউশির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে আমরা আবেদন করেছি। আমার সন্তানকে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটাসহ সব নিয়ম মেনে লটারিতে ভর্তি করা হয়েছে। সব পদ্ধতি অনুসরণ করে কেন আমার ভর্তি বাতিল করা হবে? এর জন্য দায়ী মাউশি ও ভিকারুননিসা। ছোট ছেলেমেয়েরা কেন এতে কষ্ট পাবে?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। তাদের ভর্তি বাতিল করে মাউশিকে জানাতে বলা হয়। বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা বেইলি রোডের প্রধান শাখা, আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা শাখার শিক্ষার্থী।

মাউশির চিঠিতে বলা হয়েছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গত ১ জানুয়ারি, ২০১৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের (প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেরিত সংযুক্ত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে) শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য উচ্চ বয়সসীমা (নিজেদের দ্বারা নির্ধারিত) অনুসরণ না করে ভর্তি করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ১০ জন এবং ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী ১৫৯ জনসহ মোট ১৬৯ জন শিক্ষার্থী, যারা ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে অনিয়মিতভাবে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল, তাদের জরুরী ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হল।

জানা যায়, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বিভিন্ন শাখায় ১৬৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দুই অভিভাবক হাইকোর্টে রিট করেন। গত ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী, মাউশি ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষকে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনা আজ হাইকোর্টে হলফনামা আকারে দাখিল করা হয়।

আরকে/১০

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

‘আমরা এখানেই পড়তে চাই’, আকুতি ১৬৯ শিক্ষার্থীর

আপডেট সময় : ০১:১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মার্চ ২০২৪

Human Chain: ‘মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই’, ‘আমরা এখানেই পড়তে চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল হওয়া ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১৬৯ জন শিশু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা ভর্তির আবেদন বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন করছেন।

আজ রোববার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় ভিকারুননিসার প্রধান শাখার সামনে এ মানববন্ধন শুরু হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কোলমাটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়েছিল। আছে “আমাদের ভবিষ্যৎ কী’, ‘আমি কি আর আমার স্কুলে যেতে পারব না”, “আমি একজন সহানুভূতিশীল প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ চাই”, “আমার স্কুলের গেট কেন কোনো দোষ ছাড়াই আমার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলো”, “আমরা কি করব? আমরা এখানেই পড়বো”, “আমরা মাউশির ভুলের মাশুল দিচ্ছি”। “আমরা কেন কষ্ট পাব, আমরা নিষ্পাপ ছোট শিশু, কেন আমরা রাস্তায় স্কুল ছেড়ে যাচ্ছি” ইত্যাদি।

মানববন্ধনে অভিভাবকরা বলেন, আমরা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সব নির্দেশনা মেনে ভর্তির জন্য আবেদন করছি। কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে ভর্তির অনুমতি দেয়। ভর্তির পর ছেলেমেয়েরাও ৬ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস নেয়। কিন্তু হঠাৎ করে আদালত রায় দেয় যে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া ১৬৯ জন ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা আগে থেকে কিছুই জানতাম না। আমাদের জানানো হয়, প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই হঠাৎ করে ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। এখন আমরা বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব? তাই আমরা চাই ভর্তি বাতিল না করে বহাল থাকুক।

মানববন্ধনে মোক্তাদির আহমেদ বলেন, মাউশির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে আমরা আবেদন করেছি। আমার সন্তানকে ৪০ শতাংশ এলাকা কোটাসহ সব নিয়ম মেনে লটারিতে ভর্তি করা হয়েছে। সব পদ্ধতি অনুসরণ করে কেন আমার ভর্তি বাতিল করা হবে? এর জন্য দায়ী মাউশি ও ভিকারুননিসা। ছোট ছেলেমেয়েরা কেন এতে কষ্ট পাবে?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। তাদের ভর্তি বাতিল করে মাউশিকে জানাতে বলা হয়। বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা বেইলি রোডের প্রধান শাখা, আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা শাখার শিক্ষার্থী।

মাউশির চিঠিতে বলা হয়েছে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গত ১ জানুয়ারি, ২০১৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের (প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেরিত সংযুক্ত তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে) শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য উচ্চ বয়সসীমা (নিজেদের দ্বারা নির্ধারিত) অনুসরণ না করে ভর্তি করা হয়েছে।

এমতাবস্থায় ২০১৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ১০ জন এবং ২০১৬ সালে জন্মগ্রহণকারী ১৫৯ জনসহ মোট ১৬৯ জন শিক্ষার্থী, যারা ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে অনিয়মিতভাবে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছিল, তাদের জরুরী ভিত্তিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হল।

জানা যায়, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বিভিন্ন শাখায় ১৬৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তিতে অনিয়মের অভিযোগ এনে দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দুই অভিভাবক হাইকোর্টে রিট করেন। গত ২৩ জানুয়ারি হাইকোর্ট ১০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী, মাউশি ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষকে ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনা আজ হাইকোর্টে হলফনামা আকারে দাখিল করা হয়।

আরকে/১০