ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ২০০৮ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১) ক্ষুধা-মন্দাঃ পেটে ব্যাথা, বমি বমি ভাব, বদ-হজম, বমি ইত্যাদি সবসময় লেগে থাকতে পারে।
২) পেটের ডান পাশের উপরিভাগে ব্যাথাঃ পেটের যে অংশে লিভার থাকে সেখানে মাঝেমাঝে বা সবসময় ব্যাথা হতে পারে।
৩) শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায় এবং ওজন হ্রাস পায়।
৪) জন্ডিস হতে পারে এবং পেটে পানি জমা হওয়া বা ত্বকে চুলকানি হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৫) মাঝেমাঝে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার লক্ষণ

পাকস্থলী বা স্টমাক ক্যানসারের হার বেড়ে চলেছে। এর লক্ষণ প্রথমে প্রকাশ পায় না বা প্রকাশের ভঙ্গি অনেকটা গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ সমস্যার মতো হয়। এতে শনাক্ত হতে দেরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার।

পাকস্থলী খাদ্য হজম করে। এরপর পাচনতন্ত্রের অন্যান্য অঙ্গ, যেমন ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্রে পাঠায়। যখন পাকস্থলীর মধ্যকার বা দেয়ালের স্বাস্থ্যকর কোষগুলো নিজেদের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এবং ক্যানসারে পরিণত হয়, তখন টিউমার তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ধীরে ধীরে ঘটে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার লক্ষণ
ফাইল ফটো

পাকস্থলীর ক্যানসার বহু বছর ধরে বাড়ে। সাধারণত ষাটোর্ধ্ব মানুষকে এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। নারীর তুলনায় পুরুষ পাকস্থলী ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করা হলে পাকস্থলী বা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পাশের অঙ্গগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছড়ায় যকৃতে ও পেটের অভ্যন্তরে।

পাকস্থলী ক্যানসারের কয়েকটি ধরন রয়েছে। অ্যাডেনোকার্সিনোমা, লিম্ফোমা, কার্সিনয়েড টিউমার। পাকস্থলীতে ক্যানসার কোষের বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, পাচনতন্ত্রের অন্যান্য অংশে টিউমার, পাকস্থলীর পলিপস, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জেনেটিক সিনড্রোম যেমন লিঞ্চ সিনড্রোম ও লি-ফ্রোমেনি সিনড্রোম। এ ছাড়া তামাক বা ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন, খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এবং ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়া।

পাকস্থলীর ক্যান্সার লক্ষণ

প্রাথমিক লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন ধরে বদহজম ও পেটের অস্বস্তি হওয়া। খাওয়ার পর পেট ফুলে যাওয়ার অনুভূতি। হালকা বমি বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য, পেটে জ্বালাপোড়া ভাব।

গুরুতর লক্ষণ হলো মলের সঙ্গে রক্তপাত ও রক্তবমি। কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস। পেটব্যথা। চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া। খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া।

লিভার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

লিভার ক্যান্সার রোগীদের সাধারণত যে উপসর্গগুলো দেখলে বোঝা যায় যে রোগীর হাতে খুব বেশি সময় নেই সেই উপসর্গ নিয়ে আজকে আমরা কথা বলব।

সাধারণত যে রোগীদের ক্ষেত্রে আলোর হ্রাস বা বৃদিতে চোখে পিউপিল কোন প্রতিক্রিয়া করে না। অর্থাৎ সেই রোগীর সামনে আপনি যখন আলো বৃদ্ধি করাবেন এবং আলো কমাবেন তখন এটা তার চোখের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় সেটা হচ্ছে তারা যখন কথা বলার চেষ্টা করবে তখন তাদের জিহবার প্রতিক্রিয়া কমে আসতে শুরু করবে এবং দৃষ্টি শক্তিও কমে যাবে।

প্রায়ই চোখের পাতা বন্ধ করতে পারেন না রোগীরা এবং নাক থেকে ঠোঁট দুই করে পর্যন্ত রেখা পড়ে যেতে পারে অনেক সময় ভাজ হয়ে যাবে এই স্থানগুলো অর্থাৎ কোন স্পট আছে বলে মনে হবে। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় সেটা হচ্ছে তাদের মাথা সামনের দিকে ঝুকে পড়বে অর্থাৎ তারা যখন কথা বলবে বা উঠে বসবে তখন মনে হচ্ছে তাদের মাথা সামনের দিকে হেলে যাচ্ছে।

অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ অনেক তীব্র হওয়ার কারণে কণ্ঠনালী পর্যন্ত এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে যার কারণে কন্ঠনালীতে গড় গড় আওয়াজ আসতে পারে। এবং রক্তক্ষরণ এই অবস্থাতে একটি স্বাভাবিক সমস্যা। এছাড়াও রোগীর শরীরের চামড়ার দিকে যদি লক্ষ্য করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে সেই শরীরের চামড়ার শিরা উপশিরা চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সেটা দেখতে মাকড়সার জালের মতন মনে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি গাল ও ধূসর প্রস্রাব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং প্রচন্ড ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভূত হবে। এই জিনিসগুলো যদি কোন রোগের শরীরে থাকে এবং চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যদি বুঝতে পারেন তাহলে অবশ্যই সেটা পরিবারের সদস্যদের জানাতে পারেন তার রোগীর অবস্থা খুব খারাপ।এই অবস্থাতে সে রোগী যেকোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারে তবে চিকিৎসকেরা তাদের আশা বাঁচিয়ে রাখতে তিন মাস অথবা ছয় মাস সময় বেঁধে দেন।

লিভার ক্যান্সার কি ভাল হয়

এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা অবশ্যই হ্যাঁ বলব, তার কারণ হচ্ছে এখনো এমন অনেক মানুষ বেঁচে আছে যাদের লিভার ক্যান্সার হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে যদি লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং সঠিকভাবে যদি সেটা ডায়াগনোসিস করা হয় এবং সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি ৫ থেকে ১০ বছর খুব ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন। তবে পুনরায় যদি এই ক্যান্সার ফিরে আসে অথবা লিভার ড্যামেজ হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে রোগীকে পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:

গলায় ক্যান্সারের লক্ষণ

ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

এম.নাসির/২০

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

১) ক্ষুধা-মন্দাঃ পেটে ব্যাথা, বমি বমি ভাব, বদ-হজম, বমি ইত্যাদি সবসময় লেগে থাকতে পারে।
২) পেটের ডান পাশের উপরিভাগে ব্যাথাঃ পেটের যে অংশে লিভার থাকে সেখানে মাঝেমাঝে বা সবসময় ব্যাথা হতে পারে।
৩) শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায় এবং ওজন হ্রাস পায়।
৪) জন্ডিস হতে পারে এবং পেটে পানি জমা হওয়া বা ত্বকে চুলকানি হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৫) মাঝেমাঝে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার লক্ষণ

পাকস্থলী বা স্টমাক ক্যানসারের হার বেড়ে চলেছে। এর লক্ষণ প্রথমে প্রকাশ পায় না বা প্রকাশের ভঙ্গি অনেকটা গ্যাস্ট্রিক বা সাধারণ সমস্যার মতো হয়। এতে শনাক্ত হতে দেরি হয়ে যায়। এ বিষয়ে সচেতনতা দরকার।

পাকস্থলী খাদ্য হজম করে। এরপর পাচনতন্ত্রের অন্যান্য অঙ্গ, যেমন ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্রে পাঠায়। যখন পাকস্থলীর মধ্যকার বা দেয়ালের স্বাস্থ্যকর কোষগুলো নিজেদের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে এবং ক্যানসারে পরিণত হয়, তখন টিউমার তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ধীরে ধীরে ঘটে।

পাকস্থলীর ক্যান্সার লক্ষণ
ফাইল ফটো

পাকস্থলীর ক্যানসার বহু বছর ধরে বাড়ে। সাধারণত ষাটোর্ধ্ব মানুষকে এ ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। নারীর তুলনায় পুরুষ পাকস্থলী ক্যানসারে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা না করা হলে পাকস্থলী বা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পাশের অঙ্গগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছড়ায় যকৃতে ও পেটের অভ্যন্তরে।

পাকস্থলী ক্যানসারের কয়েকটি ধরন রয়েছে। অ্যাডেনোকার্সিনোমা, লিম্ফোমা, কার্সিনয়েড টিউমার। পাকস্থলীতে ক্যানসার কোষের বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, পাচনতন্ত্রের অন্যান্য অংশে টিউমার, পাকস্থলীর পলিপস, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জেনেটিক সিনড্রোম যেমন লিঞ্চ সিনড্রোম ও লি-ফ্রোমেনি সিনড্রোম। এ ছাড়া তামাক বা ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, অত্যধিক অ্যালকোহল সেবন, খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এবং ফলমূল ও শাকসবজি না খাওয়া।

পাকস্থলীর ক্যান্সার লক্ষণ

প্রাথমিক লক্ষণ হলো দীর্ঘদিন ধরে বদহজম ও পেটের অস্বস্তি হওয়া। খাওয়ার পর পেট ফুলে যাওয়ার অনুভূতি। হালকা বমি বমি ভাব, ক্ষুধামান্দ্য, পেটে জ্বালাপোড়া ভাব।

গুরুতর লক্ষণ হলো মলের সঙ্গে রক্তপাত ও রক্তবমি। কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস। পেটব্যথা। চোখ ও ত্বক হলুদ হওয়া। খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া।

লিভার ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

লিভার ক্যান্সার রোগীদের সাধারণত যে উপসর্গগুলো দেখলে বোঝা যায় যে রোগীর হাতে খুব বেশি সময় নেই সেই উপসর্গ নিয়ে আজকে আমরা কথা বলব।

সাধারণত যে রোগীদের ক্ষেত্রে আলোর হ্রাস বা বৃদিতে চোখে পিউপিল কোন প্রতিক্রিয়া করে না। অর্থাৎ সেই রোগীর সামনে আপনি যখন আলো বৃদ্ধি করাবেন এবং আলো কমাবেন তখন এটা তার চোখের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না। অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় সেটা হচ্ছে তারা যখন কথা বলার চেষ্টা করবে তখন তাদের জিহবার প্রতিক্রিয়া কমে আসতে শুরু করবে এবং দৃষ্টি শক্তিও কমে যাবে।

প্রায়ই চোখের পাতা বন্ধ করতে পারেন না রোগীরা এবং নাক থেকে ঠোঁট দুই করে পর্যন্ত রেখা পড়ে যেতে পারে অনেক সময় ভাজ হয়ে যাবে এই স্থানগুলো অর্থাৎ কোন স্পট আছে বলে মনে হবে। এই ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় সেটা হচ্ছে তাদের মাথা সামনের দিকে ঝুকে পড়বে অর্থাৎ তারা যখন কথা বলবে বা উঠে বসবে তখন মনে হচ্ছে তাদের মাথা সামনের দিকে হেলে যাচ্ছে।

অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ অনেক তীব্র হওয়ার কারণে কণ্ঠনালী পর্যন্ত এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে যার কারণে কন্ঠনালীতে গড় গড় আওয়াজ আসতে পারে। এবং রক্তক্ষরণ এই অবস্থাতে একটি স্বাভাবিক সমস্যা। এছাড়াও রোগীর শরীরের চামড়ার দিকে যদি লক্ষ্য করা হয় তাহলে দেখা যাবে যে সেই শরীরের চামড়ার শিরা উপশিরা চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং সেটা দেখতে মাকড়সার জালের মতন মনে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি গাল ও ধূসর প্রস্রাব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং প্রচন্ড ব্যথা ও অস্বস্তি অনুভূত হবে। এই জিনিসগুলো যদি কোন রোগের শরীরে থাকে এবং চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যদি বুঝতে পারেন তাহলে অবশ্যই সেটা পরিবারের সদস্যদের জানাতে পারেন তার রোগীর অবস্থা খুব খারাপ।এই অবস্থাতে সে রোগী যেকোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারে তবে চিকিৎসকেরা তাদের আশা বাঁচিয়ে রাখতে তিন মাস অথবা ছয় মাস সময় বেঁধে দেন।

লিভার ক্যান্সার কি ভাল হয়

এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা অবশ্যই হ্যাঁ বলব, তার কারণ হচ্ছে এখনো এমন অনেক মানুষ বেঁচে আছে যাদের লিভার ক্যান্সার হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে যদি লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং সঠিকভাবে যদি সেটা ডায়াগনোসিস করা হয় এবং সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি ৫ থেকে ১০ বছর খুব ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন। তবে পুনরায় যদি এই ক্যান্সার ফিরে আসে অথবা লিভার ড্যামেজ হয় তাহলে সেই ক্ষেত্রে রোগীকে পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:

গলায় ক্যান্সারের লক্ষণ

ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ

ক্যান্সার রোগীর মৃত্যুর লক্ষণ

এম.নাসির/২০