ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

মুখে ঘা হলে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ২০৪৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমাদের মুখের ভেতর নরম যে আবরণ থাকে, তাকে মিউকাস মেমব্রেন বলে। এই মেমব্রেন ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণে মুখগহ্বরে ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি এক ধরনের ক্ষত, যা সাধারণত ব্যথাযুক্ত হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

মুখের ভেতরে, গালের নরম মাংসপেশিতে, জিহ্বার এক পাশে এই ঘা দেখা যায়। ছোট্ট একটি গোলাকার অংশ সাদাটে হয়ে ওঠে। আর সাদা অংশটার মধ্যে অনেক সময় পুঁজ জমে থাকে। পুঁজের চারপাশে হালকা একটা সীমানা থাকে। গোলাকার বা ছোট্ট ডিম্বাকৃতির অংশে যা হয়। এই ঘা মুখের মাড়ি, ঠোঁট, জিহ্বা, গালের ভেতরের অংশ ও তালুতে হয়ে থাকে।

মুখে ঘা হলে করণীয়

মুখে ঘা হলে করণীয়
ফাইল ফটো

যষ্টিমধু: যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলি করুন। উপকার পাবেন।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল বা অ্যালোভেরার রস মুখের ঘা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান ক্ষত কমিয়ে দিতে পারে।

নারকেল দুধ: এক টেবিল চামচ নারকেল দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ দিনে তিন থেকে চারবার ঘায়ের জায়গায় লাগান। মধু ছাড়া শুধু নারকেলের দুধ দিয়েও ক্ষত স্থানে মালিশ করতে পারেন। ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।

তুলসী পাতা: কয়েকটি তুলসী পাতাসহ জল দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করে দেবে এবং মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে।

টি ব্যাগ: দ্রুত ব্যথা এবং জ্বালা দূর করতে টি ব্যাগ খুবই কার্যকর। একটি টি ব্যাগ ঠান্ডা জলেতে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের জায়গায় লাগান। ব্যথা এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।

লবণপানি: এক কাপ গরম পানিতে এক চিমটি লবণ ফেলে কুলকুচি ও গড়গড়া করুন। এতে ঘা হওয়া জায়গাটি তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে। খাওয়ার আগে কুলকুচি করলে বেশি ফল পাবেন।

হলুদ: হলুদ গুঁড়ো নিয়ে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণ মুখের ভেতরে হওয়া ঘা-এ লাগান।

টমাটো: খাবারের সঙ্গে পাতে কাঁচা টমাটো খাওয়া অভ্যাস করি। কয়েক দিন খেলেই মুখের ভেতরের ঘা সেরে যাবে।

ধনেপাতা: ধনেপাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করা উচিত। দিনে কয়েকবার করে করলে আরাম পাবেন।

এ ছাড়াও মুখের ঘায়ের ব্যথা বেশি হলে এক টুকরা বরফ নিয়ে ঘায়ের স্থানে রাখুন। অথবা ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। এক টুকরো লবঙ্গ মুখে দিয়ে রাখুন বা লবঙ্গের রস ক্ষত স্থানটিতে লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন।

আরও পড়ুন:

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয়

এম.নাসির/২৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মুখে ঘা হলে করণীয়

আপডেট সময় : ০৫:১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩

আমাদের মুখের ভেতর নরম যে আবরণ থাকে, তাকে মিউকাস মেমব্রেন বলে। এই মেমব্রেন ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণে মুখগহ্বরে ঘা বা ক্ষত সৃষ্টি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। এটি এক ধরনের ক্ষত, যা সাধারণত ব্যথাযুক্ত হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে বেশ যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

মুখের ভেতরে, গালের নরম মাংসপেশিতে, জিহ্বার এক পাশে এই ঘা দেখা যায়। ছোট্ট একটি গোলাকার অংশ সাদাটে হয়ে ওঠে। আর সাদা অংশটার মধ্যে অনেক সময় পুঁজ জমে থাকে। পুঁজের চারপাশে হালকা একটা সীমানা থাকে। গোলাকার বা ছোট্ট ডিম্বাকৃতির অংশে যা হয়। এই ঘা মুখের মাড়ি, ঠোঁট, জিহ্বা, গালের ভেতরের অংশ ও তালুতে হয়ে থাকে।

মুখে ঘা হলে করণীয়

মুখে ঘা হলে করণীয়
ফাইল ফটো

যষ্টিমধু: যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলি করুন। উপকার পাবেন।

অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা জেল বা অ্যালোভেরার রস মুখের ঘা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান ক্ষত কমিয়ে দিতে পারে।

নারকেল দুধ: এক টেবিল চামচ নারকেল দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ দিনে তিন থেকে চারবার ঘায়ের জায়গায় লাগান। মধু ছাড়া শুধু নারকেলের দুধ দিয়েও ক্ষত স্থানে মালিশ করতে পারেন। ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।

তুলসী পাতা: কয়েকটি তুলসী পাতাসহ জল দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করে দেবে এবং মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে।

টি ব্যাগ: দ্রুত ব্যথা এবং জ্বালা দূর করতে টি ব্যাগ খুবই কার্যকর। একটি টি ব্যাগ ঠান্ডা জলেতে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের জায়গায় লাগান। ব্যথা এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।

লবণপানি: এক কাপ গরম পানিতে এক চিমটি লবণ ফেলে কুলকুচি ও গড়গড়া করুন। এতে ঘা হওয়া জায়গাটি তাড়াতাড়ি সেরে উঠবে। খাওয়ার আগে কুলকুচি করলে বেশি ফল পাবেন।

হলুদ: হলুদ গুঁড়ো নিয়ে তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণ মুখের ভেতরে হওয়া ঘা-এ লাগান।

টমাটো: খাবারের সঙ্গে পাতে কাঁচা টমাটো খাওয়া অভ্যাস করি। কয়েক দিন খেলেই মুখের ভেতরের ঘা সেরে যাবে।

ধনেপাতা: ধনেপাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলকুচি করা উচিত। দিনে কয়েকবার করে করলে আরাম পাবেন।

এ ছাড়াও মুখের ঘায়ের ব্যথা বেশি হলে এক টুকরা বরফ নিয়ে ঘায়ের স্থানে রাখুন। অথবা ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। এক টুকরো লবঙ্গ মুখে দিয়ে রাখুন বা লবঙ্গের রস ক্ষত স্থানটিতে লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন।

আরও পড়ুন:

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয়

এম.নাসির/২৮