ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪

পেট কমানোর উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ১৫৮৭ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ সময় বসে বসে কাজ করা, দৈহিক পরিশ্রম কম হওয়ার কারণে পেট বাড়তে থাকে। পেট বড় হলে চলা-ফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি নষ্ট হয় সৌন্দর্যও। অনেকে আছেন খুব বেশি মোটা না কিন্তু পেটে অনেক মেদ কিংবা দেহের কিছু কিছু স্থানে মেদ জমায় খুবই অস্বস্তি বোধ করেন। কোনো ভালো পোশাক পরলেও ভালো লাগে না।

নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের মানুষের এক বড় সমস্যা পেট বাড়া। অফিসে কাজের জন্য হোক কিংবা সন্তান জন্মদান-যেকোনো কারণেই হতে পারে এই পেটের সমস্যা। শত চেষ্টা করে, ডায়েট প্ল্যান করে কিংবা ব্যায়াম করেও যেন কমানো যায় না এই পেট বাড়া। তাই রোজকার রুটিনে কিছু কাজ বা অভ্যাস যোগ করলে সহজেই দূরে থাকতে পারেন এই সমস্যা থেকে। শরীরের এই বাড়তি পেট বাড়া কিভাবে দূর করা যায় তার কয়েকটি সহজ উপায় আপনাদের জন্য তুলে ধরা হল।

পেট কমানোর উপায় নিম্নে দেওয়া হলো :

প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন
প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে ২/৩ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নিন, এর ঠিক পর পরই পান করুন লেবুর রস। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে কাজ করবে। তাছাড়া দেহের রক্ত চলাচলকে আরো বেশি সহজ করবে এটি।

প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন
ফাইল ফটো

লেবুর রস
এক গ্লাস গরম জলে অর্ধেকটা লেবু চিপে নিন, এতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। চিনি দেবেন না। এবার পান করুন প্রতিদিন সকালে। এটি আপনার দেহের বাড়তি পেট ও চর্বি কমাতে সব চেয়ে ভালো উপায়।

চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না
মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোল্ড ড্রিংকস এবং তেলে ভাজা স্ন্যাক্স থেকে দূরে থাকুন। কেননা এ জাতীয় খাবারগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষত পেট ও উরুতে খুব দ্রুত চর্বি জমিয়ে ফেলে। তাই এগুলো খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান। তবে আপানার পেট কমে যাবে।

মশলা খান
রান্নায় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে কিছু মশলা ওজন কমাতে সাহায্য করে ম্যাজিকের মতো। রান্নায় ব্যবহার করুন দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ। এগুলো আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাবে ও পেট বাড়া কমাতে সাহায্য করবে।

মশলা খান
ফাইল ফটো

মাংস থেকে দূরে থাকুন
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে বেছে নিতে পারেন কম তেলে রান্না করা চিকেন।

পর্যাপ্ত ঘুমান
ঘুম ভালো হলে শরীরে পেট বাড়া কমে যাবে এবং জমা মেদও ঝরতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপের বোঝা বইবেন না
মানসিক চাপ যতটা পারবেন কম নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ মানসিক চাপের ফলে আপনার শরীরে নানারকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে শরীরের পাচন ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে মেদ জমতে শুরু করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলবেন।

প্রচুর জল পান করুন
প্রতিদিন প্রচুর জল পান করার ফলে এটা আপনার দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় ও রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বাড়ার ফলে দেহে চর্বি জমতে পারে না ও বাড়তি চর্বি ঝরে যায়।

প্রচুর জল পান করুন
ফাইল ফটো

কাজে সক্রিয় হন
অফিসের কাজ আজকাল বসে বসে হয়, সেখানে শরীরের সচল হওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। তাই চেষ্টা করুন একটি আগের বাসস্টপে নেমে হেঁটে বাকি রাস্তা যান, সিঁড়ি দিয়ে উঠুন। এর ফলে শরীর অনেকটা সক্রিয় হয়। পেট বাড়ার সুযোগই থাকবে না।

প্রতিদিন ফল ও সব্জি খান
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এক বাটি ভর্তি ফল ও সব্জি খাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন। আর এগুলো আপনার রক্তের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পেটের চর্বি কমিয়ে আনবে সহজেই।

ঘরোয়া উপায়ে পেট বাড়া কমান

পেট নিয়ে মহা বিপদে আছেন? সুস্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, শারীরিক সৌন্দর্যের জন্যও নারী-পুরুষ উভয়েই ভাবেন ওজন কমাবেন। খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারবেন এই সমস্যা থেকে। এমনকি মাত্র ৭ দিনেও বেশ কিছুটা কমানো সম্ভব পেট বাড়া। যেসব খাবার শরীরের পেট বাড়ায় যেমন অ্যালকোহল, চিনি, ফাস্টফুড ইত্যাদি এড়িয়ে মাছ, মুরগী ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। জাঙ্কফুডের বদঅভ্যাস ও খাওয়ার অনিয়মে পেটে বাড়ছে বাজে ফ্যাট। যাতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগের।

এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন, আর ১ সপ্তাহেই কমিয়ে ফেলুন পেট বাড়া-

১. দিন শুরু হোক পাতিলেবু ও জল দিয়ে। প্রতিদিন সকালবেলা নিয়ম করে ১ গ্লাস লেবু গরম জল খান। লেবুর রসের পরিমান বেশি রাখার চেষ্টা করুন। সকালের ব্রেকফাস্টের আগে কোনও একটা ফল বা অনেকটা জল খান৷ দিনে প্রচুর পরিমাণ জল খান।

২. সাদা ভাত কম খান। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে। তাছাড়া গমের রুটি, ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন। প্রচুর পরিমানে শাকসবজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান।

৪. কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান। তারপরে লেবুর সরবত খান। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং রক্তচাপও স্বাভাবিক রাকবে।

৫. তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর জন্য আদা থেতো করে পানিতে ভালো করে ফোটান। তার মধ্যে অল্প করে জিরা গুঁড়া দিন। দুপুরে বা রাতে খান। তারপর পার্থক্যটা দেখুন।

৬. মেদহীন সুস্থ শরীরের মূল শর্ত পরিমিত আহার ও নিয়মিত ব্যায়াম।

৭. খাওয়ার সময় পেট পুরে না খাওয়াই ভালো। খাবার ভালো হজম হবে। অতিরিক্ত ক্যালরির সমস্যাও হবে না।

৮. সারা দিনের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি রাখুন। ছোট মাছ খান। পাতে রাখুন প্রচুর শাকসবজি ও ফল।

৯. বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত তেল-মসলা, ঘি-মাখন এড়িয়ে চলুন। রেড মিট খাবেন না। ফাস্টফুড, ডিপ-ফ্রাই করা খাবার, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস, অ্যালকোহল না খাওয়াই ভালো। বদলে স্ন্যাক্স হিসেবে খান ফল, স্যালাড, আমন্ড, টক দই ইত্যাদি।

১০. ভাত, ময়দা ও চিনি কম খান। পারলে ঢেঁকি-ছাঁটা চালের ভাত খান। আটার রুটি খান। চা-কফিতে চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন।

১১. বাড়িতেই শরীরচর্চা করুন। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আধাঘণ্টা রাখুন নিজের জন্য। স্কিপিং, বুক ডাউন, পুল-আপের মতো খালি হাতে ব্যায়াম করুন। তবে ব্যায়াম শুরুর আগে শরীরচর্চা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সঠিক ফর্ম জেনে নেবেন।

১২. পেট কমাতে না খেয়ে খালি পেটে থাকেন অনেকে। সেটি খুবই ভুল ধারণা। অল্প পরিমাণে বারবার খান।

তল পেট কমানোর উপায়

তলপেট কমানো বড় কঠিন। তবে পেট বড় হওয়ার পুরোটা আবার নিজের নিয়ন্ত্রণেও থাকে না। হরেক রকম জিন থেকে শুরু করে দুশ্চিন্তার (স্ট্রেস) কারণেও তলপেট বড় হয়। তাই এ থেকে রেহাই পাওয়াটাও এত সোজা নয়।

মেদের অবস্থান অনেক গভীরে। ত্বক পেরিয়ে নিচে একেবারে অন্ত্রগুলোর চারপাশে পেঁচিয়ে থাকে চর্বির ঘন স্তর। অন্য জায়গার মেদের তুলনায় তলপেটের মেদের চরিত্রও আলাদা, এরা খুব সক্রিয় ও বেজায় চটপটে। রক্তের ভেতর প্রবেশ করে। রক্তের গ্লুকোজ আর কোলেস্টেরলের ওপর পড়ে এই পেটের কুপ্রভাব। তাই আপনার পেটের ঘের কমাতে হবে। পেটের ঘের পুরুষের জন্য ৪০ ইঞ্চি আর নারীদের ৩৫ ইঞ্চির কম হলে ভালো।

তল পেট কমানোর উপায়
ফাইল ফটো

বয়স বাড়লে পেটে মেদ জমে বেশি। তখন দেহের বিপাকের হার কমে। কমে ক্যালরির চাহিদাও। নারীর ঋতু বন্ধ হলে পেটে মেদ জমে। ইস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টেরন হরমোন কমতে থাকে এদের প্রভাবে, যার কারণে তলপেটে জমে মেদ।

তলপেটে মেদ জমতে দিতে না চাইলে প্রতিদিন জোরে জোরে হাঁটুন

বয়সের ফেরে এই মেদ জমলে আর কী করা! তবে অন্য কিছু করতে পারেন, ওজন কমিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন। ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর আহার ও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন জোরে জোরে হাঁটুন, দৌড়ান। অবশ্য শুধু কার্ডিও ব্যায়াম দিয়ে তলপেটের মেদকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সে সঙ্গে ভার উত্তোলন করতে হবে। পেশি গঠনের ব্যায়ামও চাই।

আর খাদ্যতালিকায় বেশি করে রাখতে হবে ফল, সবজি, হোল গ্রেইন সালাদ; সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল আর ময়দার পরিবর্তে লাল আটা। চিনি খাবেন খুব কম, পারলে এড়িয়ে চলুন। মিষ্টি, মিষ্টিজাতীয় পানির ক্ষেত্রেও একই কথা। প্রক্রিয়াজাত করা খাবার, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। প্রাকৃতিক খাবার, ঘরে রান্না—এসব হবে আহারের ধরন। তাহলে প্রদাহ থমকে যাবে আর ক্ষতি হবে কম। যে চর্বি দেহের তাপে ঘন হয়, তাকে বলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই ঘি ও মাখনের মতো প্রাণিজ চর্বি না খাওয়াই ভালো।

চর্বি কমাতে ঘি না খাওয়া ভালো

পরিশ্রমটা হতে হবে ব্যায়ামের মাধ্যমে। ক্রাঞ্চ, ওঠা-বসা আর দড়ি লাফ দিন। মূল কথা হলো, পেশিকে খেলাতে হবে। আর অবশ্যই চাপ কমাবেন, দুশ্চিন্তা রাখা যাবে না। এটা বলা সহজ, কিন্তু দিনযাপনের টানাপোড়েন, বাচ্চাদের স্কুল, রান্না, অফিস, অর্থের সংকট, প্রিয়জনের অসুখ, মৃত্যু—এত সব তো চাইলেই অগ্রাহ্য করা যায় না। আর চাপও তাই আসবেই, তবু একে মোকাবিলা করতে হবে। স্ট্রেস হরমোন করটিসলকে দাবিয়ে রাখতে হবে। আর সেটা দমিয়ে দিতে পারে প্রাণায়াম ও ধ্যানচর্চার মতো অভ্যাস।

আর চাই সুনিদ্রা। রাতে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম হলে ভালো। যাঁরা ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের ওজন বাড়ে, মেদ জমে। আর জিনগত বিষয়টি তো আছেই। যাঁদের ঊরু বা নিতম্বে নয়, মেদ জমে পেটে, তাঁদের বলে আপেল আকৃতি। এমন জিন প্রবণতা যাঁদের, তাঁদের মেদ সরানো সহজ কম্ম নয়। তাই হরমোনের পরীক্ষা করা ভালো। হয়তো টেস্টোস্টেরনের মান বেশি এবং পলিসিসটিক ওভারি সিনড্রোম থাকলে মেদ সরানো কঠিন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে
তাই স্বাস্থ্যকর আহার আর ব্যায়াম—দুটো একত্রে চালিয়ে যেতে হবে। কম ক্যালরি, কম শর্করা ও কম চিনিযুক্ত খাবার খেতে হবে। খাবারে থাকতে হবে প্রচুর আঁশ।

আর কোমরের ঘের কমলে নিজেই বুঝবেন বুড়ো বয়সেও কেমন ফুরফুরে ভাব। আর তরুণ হলে তো কথাই নেই, পেটবাড়া হীন শরীর নিয়ে উড়বেন। দেখা যাবে শরীর একদম হালকা, মন থাকবে সতেজ।

এম.নাসির/৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পেট কমানোর উপায়

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

দীর্ঘ সময় বসে বসে কাজ করা, দৈহিক পরিশ্রম কম হওয়ার কারণে পেট বাড়তে থাকে। পেট বড় হলে চলা-ফেরায় যেমন কষ্ট হয়, তেমনি নষ্ট হয় সৌন্দর্যও। অনেকে আছেন খুব বেশি মোটা না কিন্তু পেটে অনেক মেদ কিংবা দেহের কিছু কিছু স্থানে মেদ জমায় খুবই অস্বস্তি বোধ করেন। কোনো ভালো পোশাক পরলেও ভালো লাগে না।

নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের মানুষের এক বড় সমস্যা পেট বাড়া। অফিসে কাজের জন্য হোক কিংবা সন্তান জন্মদান-যেকোনো কারণেই হতে পারে এই পেটের সমস্যা। শত চেষ্টা করে, ডায়েট প্ল্যান করে কিংবা ব্যায়াম করেও যেন কমানো যায় না এই পেট বাড়া। তাই রোজকার রুটিনে কিছু কাজ বা অভ্যাস যোগ করলে সহজেই দূরে থাকতে পারেন এই সমস্যা থেকে। শরীরের এই বাড়তি পেট বাড়া কিভাবে দূর করা যায় তার কয়েকটি সহজ উপায় আপনাদের জন্য তুলে ধরা হল।

পেট কমানোর উপায় নিম্নে দেওয়া হলো :

প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন
প্রতিদিন সকালে উঠেই খালি পেটে ২/৩ কোয়া রসুন চিবিয়ে খেয়ে নিন, এর ঠিক পর পরই পান করুন লেবুর রস। এটি আপনার পেটের চর্বি কমাতে দ্বিগুণ দ্রুতগতিতে কাজ করবে। তাছাড়া দেহের রক্ত চলাচলকে আরো বেশি সহজ করবে এটি।

প্রতিদিন তিন কোয়া রসুন
ফাইল ফটো

লেবুর রস
এক গ্লাস গরম জলে অর্ধেকটা লেবু চিপে নিন, এতে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। চিনি দেবেন না। এবার পান করুন প্রতিদিন সকালে। এটি আপনার দেহের বাড়তি পেট ও চর্বি কমাতে সব চেয়ে ভালো উপায়।

চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না
মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, কোল্ড ড্রিংকস এবং তেলে ভাজা স্ন্যাক্স থেকে দূরে থাকুন। কেননা এ জাতীয় খাবারগুলো আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষত পেট ও উরুতে খুব দ্রুত চর্বি জমিয়ে ফেলে। তাই এগুলো খাওয়ার পরিবর্তে ফল খান। তবে আপানার পেট কমে যাবে।

মশলা খান
রান্নায় অতিরিক্ত মশলা ব্যবহার করা ঠিক নয়। তবে কিছু মশলা ওজন কমাতে সাহায্য করে ম্যাজিকের মতো। রান্নায় ব্যবহার করুন দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ। এগুলো আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাবে ও পেট বাড়া কমাতে সাহায্য করবে।

মশলা খান
ফাইল ফটো

মাংস থেকে দূরে থাকুন
অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। এর বদলে বেছে নিতে পারেন কম তেলে রান্না করা চিকেন।

পর্যাপ্ত ঘুমান
ঘুম ভালো হলে শরীরে পেট বাড়া কমে যাবে এবং জমা মেদও ঝরতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপের বোঝা বইবেন না
মানসিক চাপ যতটা পারবেন কম নেওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ মানসিক চাপের ফলে আপনার শরীরে নানারকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে শরীরের পাচন ক্ষমতা কমে যায় এবং শরীরে মেদ জমতে শুরু করে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলবেন।

প্রচুর জল পান করুন
প্রতিদিন প্রচুর জল পান করার ফলে এটা আপনার দেহের মেটাবলিজম বাড়ায় ও রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বাড়ার ফলে দেহে চর্বি জমতে পারে না ও বাড়তি চর্বি ঝরে যায়।

প্রচুর জল পান করুন
ফাইল ফটো

কাজে সক্রিয় হন
অফিসের কাজ আজকাল বসে বসে হয়, সেখানে শরীরের সচল হওয়ার খুব একটা সুযোগ নেই। তাই চেষ্টা করুন একটি আগের বাসস্টপে নেমে হেঁটে বাকি রাস্তা যান, সিঁড়ি দিয়ে উঠুন। এর ফলে শরীর অনেকটা সক্রিয় হয়। পেট বাড়ার সুযোগই থাকবে না।

প্রতিদিন ফল ও সব্জি খান
প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় এক বাটি ভর্তি ফল ও সব্জি খাবার চেষ্টা করুন। এতে আপনার শরীর পাবে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, মিনারেল ও ভিটামিন। আর এগুলো আপনার রক্তের মেটাবলিজম বাড়িয়ে পেটের চর্বি কমিয়ে আনবে সহজেই।

ঘরোয়া উপায়ে পেট বাড়া কমান

পেট নিয়ে মহা বিপদে আছেন? সুস্বাস্থ্যের জন্য তো বটেই, শারীরিক সৌন্দর্যের জন্যও নারী-পুরুষ উভয়েই ভাবেন ওজন কমাবেন। খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারবেন এই সমস্যা থেকে। এমনকি মাত্র ৭ দিনেও বেশ কিছুটা কমানো সম্ভব পেট বাড়া। যেসব খাবার শরীরের পেট বাড়ায় যেমন অ্যালকোহল, চিনি, ফাস্টফুড ইত্যাদি এড়িয়ে মাছ, মুরগী ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। জাঙ্কফুডের বদঅভ্যাস ও খাওয়ার অনিয়মে পেটে বাড়ছে বাজে ফ্যাট। যাতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগের।

এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন, আর ১ সপ্তাহেই কমিয়ে ফেলুন পেট বাড়া-

১. দিন শুরু হোক পাতিলেবু ও জল দিয়ে। প্রতিদিন সকালবেলা নিয়ম করে ১ গ্লাস লেবু গরম জল খান। লেবুর রসের পরিমান বেশি রাখার চেষ্টা করুন। সকালের ব্রেকফাস্টের আগে কোনও একটা ফল বা অনেকটা জল খান৷ দিনে প্রচুর পরিমাণ জল খান।

২. সাদা ভাত কম খান। সাদা চালের ভাতের বদলে বিভিন্ন গম জাতীয় শস্য যুক্ত করে নিন আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে। তাছাড়া গমের রুটি, ওটস, অন্যান্য শস্য যুক্ত করে নিতে পারেন। প্রচুর পরিমানে শাকসবজি এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান।

৪. কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকাল বেলা চুষে খান। তারপরে লেবুর সরবত খান। এই চিকিৎসাটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে এবং রক্তচাপও স্বাভাবিক রাকবে।

৫. তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর জন্য আদা থেতো করে পানিতে ভালো করে ফোটান। তার মধ্যে অল্প করে জিরা গুঁড়া দিন। দুপুরে বা রাতে খান। তারপর পার্থক্যটা দেখুন।

৬. মেদহীন সুস্থ শরীরের মূল শর্ত পরিমিত আহার ও নিয়মিত ব্যায়াম।

৭. খাওয়ার সময় পেট পুরে না খাওয়াই ভালো। খাবার ভালো হজম হবে। অতিরিক্ত ক্যালরির সমস্যাও হবে না।

৮. সারা দিনের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি রাখুন। ছোট মাছ খান। পাতে রাখুন প্রচুর শাকসবজি ও ফল।

৯. বাড়িতে রান্না করা খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত তেল-মসলা, ঘি-মাখন এড়িয়ে চলুন। রেড মিট খাবেন না। ফাস্টফুড, ডিপ-ফ্রাই করা খাবার, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস, অ্যালকোহল না খাওয়াই ভালো। বদলে স্ন্যাক্স হিসেবে খান ফল, স্যালাড, আমন্ড, টক দই ইত্যাদি।

১০. ভাত, ময়দা ও চিনি কম খান। পারলে ঢেঁকি-ছাঁটা চালের ভাত খান। আটার রুটি খান। চা-কফিতে চিনি খাওয়া ছেড়ে দিন।

১১. বাড়িতেই শরীরচর্চা করুন। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে আধাঘণ্টা রাখুন নিজের জন্য। স্কিপিং, বুক ডাউন, পুল-আপের মতো খালি হাতে ব্যায়াম করুন। তবে ব্যায়াম শুরুর আগে শরীরচর্চা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সঠিক ফর্ম জেনে নেবেন।

১২. পেট কমাতে না খেয়ে খালি পেটে থাকেন অনেকে। সেটি খুবই ভুল ধারণা। অল্প পরিমাণে বারবার খান।

তল পেট কমানোর উপায়

তলপেট কমানো বড় কঠিন। তবে পেট বড় হওয়ার পুরোটা আবার নিজের নিয়ন্ত্রণেও থাকে না। হরেক রকম জিন থেকে শুরু করে দুশ্চিন্তার (স্ট্রেস) কারণেও তলপেট বড় হয়। তাই এ থেকে রেহাই পাওয়াটাও এত সোজা নয়।

মেদের অবস্থান অনেক গভীরে। ত্বক পেরিয়ে নিচে একেবারে অন্ত্রগুলোর চারপাশে পেঁচিয়ে থাকে চর্বির ঘন স্তর। অন্য জায়গার মেদের তুলনায় তলপেটের মেদের চরিত্রও আলাদা, এরা খুব সক্রিয় ও বেজায় চটপটে। রক্তের ভেতর প্রবেশ করে। রক্তের গ্লুকোজ আর কোলেস্টেরলের ওপর পড়ে এই পেটের কুপ্রভাব। তাই আপনার পেটের ঘের কমাতে হবে। পেটের ঘের পুরুষের জন্য ৪০ ইঞ্চি আর নারীদের ৩৫ ইঞ্চির কম হলে ভালো।

তল পেট কমানোর উপায়
ফাইল ফটো

বয়স বাড়লে পেটে মেদ জমে বেশি। তখন দেহের বিপাকের হার কমে। কমে ক্যালরির চাহিদাও। নারীর ঋতু বন্ধ হলে পেটে মেদ জমে। ইস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টেরন হরমোন কমতে থাকে এদের প্রভাবে, যার কারণে তলপেটে জমে মেদ।

তলপেটে মেদ জমতে দিতে না চাইলে প্রতিদিন জোরে জোরে হাঁটুন

বয়সের ফেরে এই মেদ জমলে আর কী করা! তবে অন্য কিছু করতে পারেন, ওজন কমিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন। ওজন কমাতে স্বাস্থ্যকর আহার ও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন জোরে জোরে হাঁটুন, দৌড়ান। অবশ্য শুধু কার্ডিও ব্যায়াম দিয়ে তলপেটের মেদকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সে সঙ্গে ভার উত্তোলন করতে হবে। পেশি গঠনের ব্যায়ামও চাই।

আর খাদ্যতালিকায় বেশি করে রাখতে হবে ফল, সবজি, হোল গ্রেইন সালাদ; সাদা চালের পরিবর্তে লাল চাল আর ময়দার পরিবর্তে লাল আটা। চিনি খাবেন খুব কম, পারলে এড়িয়ে চলুন। মিষ্টি, মিষ্টিজাতীয় পানির ক্ষেত্রেও একই কথা। প্রক্রিয়াজাত করা খাবার, ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। প্রাকৃতিক খাবার, ঘরে রান্না—এসব হবে আহারের ধরন। তাহলে প্রদাহ থমকে যাবে আর ক্ষতি হবে কম। যে চর্বি দেহের তাপে ঘন হয়, তাকে বলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই ঘি ও মাখনের মতো প্রাণিজ চর্বি না খাওয়াই ভালো।

চর্বি কমাতে ঘি না খাওয়া ভালো

পরিশ্রমটা হতে হবে ব্যায়ামের মাধ্যমে। ক্রাঞ্চ, ওঠা-বসা আর দড়ি লাফ দিন। মূল কথা হলো, পেশিকে খেলাতে হবে। আর অবশ্যই চাপ কমাবেন, দুশ্চিন্তা রাখা যাবে না। এটা বলা সহজ, কিন্তু দিনযাপনের টানাপোড়েন, বাচ্চাদের স্কুল, রান্না, অফিস, অর্থের সংকট, প্রিয়জনের অসুখ, মৃত্যু—এত সব তো চাইলেই অগ্রাহ্য করা যায় না। আর চাপও তাই আসবেই, তবু একে মোকাবিলা করতে হবে। স্ট্রেস হরমোন করটিসলকে দাবিয়ে রাখতে হবে। আর সেটা দমিয়ে দিতে পারে প্রাণায়াম ও ধ্যানচর্চার মতো অভ্যাস।

আর চাই সুনিদ্রা। রাতে ৮-৯ ঘণ্টা ঘুম হলে ভালো। যাঁরা ৫ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের ওজন বাড়ে, মেদ জমে। আর জিনগত বিষয়টি তো আছেই। যাঁদের ঊরু বা নিতম্বে নয়, মেদ জমে পেটে, তাঁদের বলে আপেল আকৃতি। এমন জিন প্রবণতা যাঁদের, তাঁদের মেদ সরানো সহজ কম্ম নয়। তাই হরমোনের পরীক্ষা করা ভালো। হয়তো টেস্টোস্টেরনের মান বেশি এবং পলিসিসটিক ওভারি সিনড্রোম থাকলে মেদ সরানো কঠিন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে
তাই স্বাস্থ্যকর আহার আর ব্যায়াম—দুটো একত্রে চালিয়ে যেতে হবে। কম ক্যালরি, কম শর্করা ও কম চিনিযুক্ত খাবার খেতে হবে। খাবারে থাকতে হবে প্রচুর আঁশ।

আর কোমরের ঘের কমলে নিজেই বুঝবেন বুড়ো বয়সেও কেমন ফুরফুরে ভাব। আর তরুণ হলে তো কথাই নেই, পেটবাড়া হীন শরীর নিয়ে উড়বেন। দেখা যাবে শরীর একদম হালকা, মন থাকবে সতেজ।

এম.নাসির/৬