ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ২০৩৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের বিড়ম্বনাও যেন একটু বেশি। তেলতেলে ত্বকে খুব সহজে ধুলাবালি আটকে যায়। আবার এ ধরনের ত্বকে ব্রণের প্রকোপও বেশি দেখা যায়। ময়লা জমে লোমকূপ আটকে ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণ দেখা দিতে পারে তৈলাক্ত ত্বকে। যত্ন নিয়ে কমাতে পারেন ত্বকের তৈলাক্ত ভাব।

লেবুর রস ও বেকিং সোডার ফেস প্যাক ব্যবহার করে এক্সফোলিয়েট করতে পারেন ত্বক। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে এই দুই উপাদান। পাশাপাশি মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

লেবুর রস ও বেকিং সোডার ফেস প্যাক
ফাইল ফটো

হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে তৈরি করুন ফেসপ্যাক। সপ্তাহে একদিন ফেসপ্যাকটি মুখ ও গলার ত্বকে লাগান। দূর হবে অতিরিক্ত তেল।

শসার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করে। বন্ধ হওয়া লোমকূপ থেকে মুক্তি দেয় এটি। ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে পারে না।

শসা পেস্ট করে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর পানির ঝাপটায় ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে।

২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ শসার রস মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চা চামচ ওটমিল গুঁড়া মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে চক্রাকারে ঘষুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা পানি দিয়ে।

কাঁচা দুধ ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমায়। পাশাপাশি উজ্জ্বল ও কোমল করে ত্বক। দুধে তুলা ভিজিয়ে চেপে চেপে লাগান ত্বকে। ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের মরা চামড়া দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে পাকা পেঁপে। পেঁপের টুকরা চটকে ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। কমে যাবে ত্বকের তেলতেলে ভাব।

ঠান্ডা ভিনেগার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই কার্যকর। পানি ও ভিনেগারের মিশ্রণ ঠান্ডা করে তুলার সাহায্যে ত্বকে লাগান। বরফ তৈরি করেও ত্বকে ঘষতে পারেন।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—যেকোনো ঋতুতেই ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্নের। আলাদা আলাদা ত্বকের সমস্যাও থাকে আলাদা, যত্নের পদ্ধতিও আলাদা।

যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক, তাঁদের যেন ভোগান্তি একটু বেশিই। তাঁরাই বোঝেন এর যন্ত্রণা কতটা। যতই সুন্দর করে মেকআপ করা হোক, কিছুক্ষণ পর মুখ আবার সেই তেলতেলে, চিটচিটে। রাস্তায় বেরোলেই মুখে ময়লা জমে একাকার। বাইরের ধুলা-ময়লা তৈলাক্ত ত্বকে আটকে গিয়ে দেখা দেয় নানা সমস্যা। এর মধ্যে ব্রণের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বাইরের রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বেশি কার্যকর। আসুন জেনে নিই প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরোয়াভাবে তৈরি কিছু ফেসপ্যাক সম্পর্কে, যা তৈলাক্ত ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে, ব্রণ কমিয়ে মুখে ফিরিয়ে আনবে উজ্জ্বলতা।

বেসনের ফেসপ্যাক

বেসন হলো প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ, যা মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে চটজলদি উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ত্বকের দাগও দূর করে। ২ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ একসঙ্গে ভালো করে গুলিয়ে নিন। এবার এই পেস্ট মুখে, গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন। তারপর তফাতটা নিজেই দেখুন। ত্বক কতটা ফরসা আর তেলমুক্ত লাগছে।

বেসনের ফেসপ্যাক
ফাইল ফটো

ডিম, শসা ও পুদিনার প্যাক

ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে, ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শসার রস ও পুদিনাপাতার পেস্ট মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণমুক্ত রাখবে ত্বক। এ ছাড়া শসা ত্বককে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখবে।

কমলার ফেসপ্যাক

মুখের অতিরিক্ত তেল কন্ট্রোল করতে কমলালেবুর খোসার জুড়ি নেই। ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়া, ৪ চামচ দুধ, ১ চামচ কাঁচা হলুদবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা শুধু অতিরিক্ত তেলই কন্ট্রোল করবে না, ত্বককে করে তুলবে গ্লোয়িং। সপ্তাহে এক বা দুদিন করুন। কাঁচা হলুদবাটা, চালের গুঁড়া, কমলার খোসার গুঁড়া এবং সামান্য মসুর ডালবাটা একসঙ্গে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক টানটান হবে।

কমলার ফেসপ্যাক
ফাইল ফটো

পাকা কলার ফেসপ্যাক

কলা তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য আর কোমলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

লেবুর রস ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে।

মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। ১টি পাকা কলা, ২ চা-চামচ পাতি লেবুর রস, ১ চা-চামচ মধু নিন। কলার খোসা ছাড়িয়ে সেটিকে ভালো করে চটকে এর সঙ্গে মধু আর পাতি লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই পেস্ট হাতে, মুখে ও গলার ত্বকে ভালো করে মেখে নিয়ে মিনিট ১৫ রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে একটি নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন।

সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারলে খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শসার প্যাক

শসা খুব ভালো টোনারের কাজ করে। ত্বকের ভেতরের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বককে ভেতর থেকে ফ্রেশ রাখে। ২ টেবিল চামচ শসার পেস্ট, ১ চা-চামচ গোলাপজল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস নিয়ে নিন। একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাকটি মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এটা রোজও করতে পারেন। তাহলে খুব ভালো তেল কন্ট্রোল হবে। আর রোজ সময় না থাকলে সপ্তাহে তিন দিন করুন। ত্বক থাকবে ফ্রেশ ও তেলমুক্ত।

শসার প্যাক
ফাইল ফটো

লেবুর রস ও মধুর প্যাক

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে লেবু সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া উপাদান, লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড তৈলাক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ত্বকে পিম্পল হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে গাঢ় লিকুইড তৈরি করুন । এই লিকুইড ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকে ব্রণ কমে আসবে, ব্রণের দাগ হালকা হতে শুরু করবে এবং আপনার ত্বকও উজ্জ্বল হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ প্রতিরোধে এই প্যাক সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দিয়ে খুব সহজেই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করা যায়। ভালো ফলাফল পেতে এক দিন পরপর বা প্রতিদিনই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে রাতারাতি পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকুন।

আরও পড়ুন:

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয়

এম.নাসির/২৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের বিড়ম্বনাও যেন একটু বেশি। তেলতেলে ত্বকে খুব সহজে ধুলাবালি আটকে যায়। আবার এ ধরনের ত্বকে ব্রণের প্রকোপও বেশি দেখা যায়। ময়লা জমে লোমকূপ আটকে ব্ল্যাকহেডস ও ব্রণ দেখা দিতে পারে তৈলাক্ত ত্বকে। যত্ন নিয়ে কমাতে পারেন ত্বকের তৈলাক্ত ভাব।

লেবুর রস ও বেকিং সোডার ফেস প্যাক ব্যবহার করে এক্সফোলিয়েট করতে পারেন ত্বক। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে এই দুই উপাদান। পাশাপাশি মৃত কোষ পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে।

লেবুর রস ও বেকিং সোডার ফেস প্যাক
ফাইল ফটো

হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে তৈরি করুন ফেসপ্যাক। সপ্তাহে একদিন ফেসপ্যাকটি মুখ ও গলার ত্বকে লাগান। দূর হবে অতিরিক্ত তেল।

শসার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রাকৃতিকভাবে ত্বক পরিষ্কার করে। বন্ধ হওয়া লোমকূপ থেকে মুক্তি দেয় এটি। ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে পারে না।

শসা পেস্ট করে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর পানির ঝাপটায় ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ভাব কমে যাবে।

২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ শসার রস মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।

১ টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চা চামচ ওটমিল গুঁড়া মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে চক্রাকারে ঘষুন। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন ঠান্ডা পানি দিয়ে।

কাঁচা দুধ ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমায়। পাশাপাশি উজ্জ্বল ও কোমল করে ত্বক। দুধে তুলা ভিজিয়ে চেপে চেপে লাগান ত্বকে। ৩০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের মরা চামড়া দূর করে ত্বক উজ্জ্বল করে পাকা পেঁপে। পেঁপের টুকরা চটকে ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন। কমে যাবে ত্বকের তেলতেলে ভাব।

ঠান্ডা ভিনেগার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই কার্যকর। পানি ও ভিনেগারের মিশ্রণ ঠান্ডা করে তুলার সাহায্যে ত্বকে লাগান। বরফ তৈরি করেও ত্বকে ঘষতে পারেন।

তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া প্যাক

শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—যেকোনো ঋতুতেই ত্বক সুস্থ রাখতে প্রয়োজন সঠিক যত্নের। আলাদা আলাদা ত্বকের সমস্যাও থাকে আলাদা, যত্নের পদ্ধতিও আলাদা।

যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক, তাঁদের যেন ভোগান্তি একটু বেশিই। তাঁরাই বোঝেন এর যন্ত্রণা কতটা। যতই সুন্দর করে মেকআপ করা হোক, কিছুক্ষণ পর মুখ আবার সেই তেলতেলে, চিটচিটে। রাস্তায় বেরোলেই মুখে ময়লা জমে একাকার। বাইরের ধুলা-ময়লা তৈলাক্ত ত্বকে আটকে গিয়ে দেখা দেয় নানা সমস্যা। এর মধ্যে ব্রণের সমস্যা সবচেয়ে বেশি। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে বাইরের রাসায়নিকসমৃদ্ধ প্রসাধনীর চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বেশি কার্যকর। আসুন জেনে নিই প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরোয়াভাবে তৈরি কিছু ফেসপ্যাক সম্পর্কে, যা তৈলাক্ত ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে, ব্রণ কমিয়ে মুখে ফিরিয়ে আনবে উজ্জ্বলতা।

বেসনের ফেসপ্যাক

বেসন হলো প্রাকৃতিক ফেসওয়াশ, যা মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে চটজলদি উজ্জ্বলতা বাড়ায়। সেই সঙ্গে ত্বকের দাগও দূর করে। ২ চামচ বেসন ও ৪ চামচ দুধ একসঙ্গে ভালো করে গুলিয়ে নিন। এবার এই পেস্ট মুখে, গলায় লাগান। ১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ দিন ব্যবহার করুন। তারপর তফাতটা নিজেই দেখুন। ত্বক কতটা ফরসা আর তেলমুক্ত লাগছে।

বেসনের ফেসপ্যাক
ফাইল ফটো

ডিম, শসা ও পুদিনার প্যাক

ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে, ত্বক টানটান করতে সাহায্য করে। একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে শসার রস ও পুদিনাপাতার পেস্ট মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণমুক্ত রাখবে ত্বক। এ ছাড়া শসা ত্বককে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখবে।

কমলার ফেসপ্যাক

মুখের অতিরিক্ত তেল কন্ট্রোল করতে কমলালেবুর খোসার জুড়ি নেই। ২ চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়া, ৪ চামচ দুধ, ১ চামচ কাঁচা হলুদবাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটা শুধু অতিরিক্ত তেলই কন্ট্রোল করবে না, ত্বককে করে তুলবে গ্লোয়িং। সপ্তাহে এক বা দুদিন করুন। কাঁচা হলুদবাটা, চালের গুঁড়া, কমলার খোসার গুঁড়া এবং সামান্য মসুর ডালবাটা একসঙ্গে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক টানটান হবে।

কমলার ফেসপ্যাক
ফাইল ফটো

পাকা কলার ফেসপ্যাক

কলা তৈলাক্ত ত্বকের পরিচর্যার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য আর কোমলতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে।

লেবুর রস ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে।

মধু হলো প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। ১টি পাকা কলা, ২ চা-চামচ পাতি লেবুর রস, ১ চা-চামচ মধু নিন। কলার খোসা ছাড়িয়ে সেটিকে ভালো করে চটকে এর সঙ্গে মধু আর পাতি লেবুর রস ভালো করে মিশিয়ে ঘন পেস্টের মতো তৈরি করুন। এই পেস্ট হাতে, মুখে ও গলার ত্বকে ভালো করে মেখে নিয়ে মিনিট ১৫ রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে একটি নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছে নিন।

সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার এই প্যাক ব্যবহার করতে পারলে খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে।

শসার প্যাক

শসা খুব ভালো টোনারের কাজ করে। ত্বকের ভেতরের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ও ত্বককে ভেতর থেকে ফ্রেশ রাখে। ২ টেবিল চামচ শসার পেস্ট, ১ চা-চামচ গোলাপজল ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস নিয়ে নিন। একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাকটি মুখে লাগিয়ে নিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। এটা রোজও করতে পারেন। তাহলে খুব ভালো তেল কন্ট্রোল হবে। আর রোজ সময় না থাকলে সপ্তাহে তিন দিন করুন। ত্বক থাকবে ফ্রেশ ও তেলমুক্ত।

শসার প্যাক
ফাইল ফটো

লেবুর রস ও মধুর প্যাক

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে লেবু সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া উপাদান, লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড তৈলাক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে ত্বকে পিম্পল হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

১ টেবিল চামচ তাজা লেবুর রসের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু নিয়ে একসঙ্গে মিশিয়ে গাঢ় লিকুইড তৈরি করুন । এই লিকুইড ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকে ব্রণ কমে আসবে, ব্রণের দাগ হালকা হতে শুরু করবে এবং আপনার ত্বকও উজ্জ্বল হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ প্রতিরোধে এই প্যাক সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দিয়ে খুব সহজেই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করা যায়। ভালো ফলাফল পেতে এক দিন পরপর বা প্রতিদিনই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারে রাতারাতি পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত ব্যবহার করতে থাকুন।

আরও পড়ুন:

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয়

এম.নাসির/২৯