ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

তেতুলের উপকারিতা ও অপকারিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ১৭৬৪ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তেতুলের উপকারিতা-অপকারিতা অথবা উপকার না ক্ষতি কোনটা বেশি? তেঁতুল এমন একটি ফল যা নানা ভাবে খাওয়া যায়। রান্না কিংবা আচারেও এটি বেশ মজাদার ও জনপ্রিয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেললে ভালোর থেকে খারাপই বেশি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেললে ভালোর থেকে খারাপই বেশি হতে পারে।

প্রাচীনকাল থেকে তেঁতুল তার ঔষধি গুণের জন্য অনন্য। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, গলা ব্যথা, এমনকি সানস্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আর কী কী উপকার রয়েছে এতে।

তেতুলের উপকারিতা

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে এই টক ফলটি। বেশি ওজন হলে হৃদরোগ, কিডনি, লিভারের সমস্যা বেড়ে যায়। তেঁতুল খেলে শরীরের ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, খারাপ কোলেস্টেরল কমে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তেঁতুল শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কাটাতেও সাহায্য করে।

২. নিয়মিত তেঁতুল খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ। তাই আমাদের অন্ত্রের গতিবিধি সহজ করে। প্রাচীনকাল থেকে তেঁতুল কোষ্ঠকাঠিন্যর ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যালিক এবং টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে।

৩. গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুলের নির্যাস গ্রহণের ফলে লিভারের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস পায়। এতে থাকা প্রোকিয়ানিডিনগুলো লিভারের ফ্রি র‍্যাডিকাল ক্ষতির বিরুদ্ধেও লড়াই করে। তেঁতুল খনিজ সমৃদ্ধ। যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে।
হার্টের স্বাস্থ্যর উন্নতি করে

তেতুলের উপকারিতা
ফাইল ফটো

৪. তেঁতুল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল হ্রাস করে। ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

৫. তেঁতুলে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ফ্রি র‍্যাডিকালগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এটিতে প্রচুর পরিমাণে টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে। যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তেঁতুল গলা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা দূর করতেও সহায়তা করে।

৬. তেঁতুল চোখের ড্রপ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এটি নজেক্টিভাইটিসের চিকিৎসায় সহায়তা করে। প্রাচীনকালে চোখ সম্পর্কিত সমস্যাগুলি মোকাবেলা করার জন্য তেঁতুল ব্যবহৃত হত।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এটি। তেঁতুলের রস স্বাস্থ্যের জন্য যাদুর মত কাজ করবে। সর্দি, কাশি, ফ্লু দুর করবে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

৮. তেঁতুলে সক্সলেট মিথেনলিক এক্সট্রাক্ট রয়েছে। যা ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। যেহেতু তেঁতুল উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। তাই এটি ক্যানসারের কোষগুলো নির্মূল করে।

৯.ত্বক উজ্জ্বলতা বাড়াতে তেঁতুল সাহায্যে করে। তাছাড়া তেঁতুল জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী।

১০. বুক ধড়ফর করা, মাথা ঘোরানো রোগে তেঁতুল খুব উপকারী।

তেতুলের অপকারিতা

১. বেশি তেঁতুল খেলে রক্তচাপ কমাতে পারে।

২. অ্যালার্জি হতে পারে- যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে। বেশি খেলে অ্যালার্জি হতে পারে। কিছু লোক ফুসকুড়ি, চুলকানি, ঘা, অজ্ঞান, বমি বা শ্বাস নিতে অসুবিধার মতো উপসর্গগুলি অনুভব করতে পারে।

৩. বেশি পরিমান তেঁতুল খেলে শরীরে রক্তপাত বৃদ্ধি করে।

৪. তেঁতুল গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

তেতুলের অপকারিতা
ফাইল ফটো

৫. বেশি তেঁতুল খেলে ওজন দ্রুত কমে যায়।

৬. তেঁতুলের মধ্যে টারটারিক এসিড থাকে, দাঁত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সবদিক বিবেচনা করলে তেঁতুল অপকারের চেয়ে উপাকারিতাই বেশি। সুতরাং বাসাবাড়িতে সবার তেঁতুল রাখা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তেতুলের উপকারিতা ও অপকারিতা

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

তেতুলের উপকারিতা-অপকারিতা অথবা উপকার না ক্ষতি কোনটা বেশি? তেঁতুল এমন একটি ফল যা নানা ভাবে খাওয়া যায়। রান্না কিংবা আচারেও এটি বেশ মজাদার ও জনপ্রিয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেললে ভালোর থেকে খারাপই বেশি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে ফেললে ভালোর থেকে খারাপই বেশি হতে পারে।

প্রাচীনকাল থেকে তেঁতুল তার ঔষধি গুণের জন্য অনন্য। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, গলা ব্যথা, এমনকি সানস্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া আর কী কী উপকার রয়েছে এতে।

তেতুলের উপকারিতা

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে এই টক ফলটি। বেশি ওজন হলে হৃদরোগ, কিডনি, লিভারের সমস্যা বেড়ে যায়। তেঁতুল খেলে শরীরের ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, খারাপ কোলেস্টেরল কমে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, তেঁতুল শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কাটাতেও সাহায্য করে।

২. নিয়মিত তেঁতুল খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি ফাইবার সমৃদ্ধ। তাই আমাদের অন্ত্রের গতিবিধি সহজ করে। প্রাচীনকাল থেকে তেঁতুল কোষ্ঠকাঠিন্যর ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যালিক এবং টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে।

৩. গবেষণায় দেখা গেছে, তেঁতুলের নির্যাস গ্রহণের ফলে লিভারের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস পায়। এতে থাকা প্রোকিয়ানিডিনগুলো লিভারের ফ্রি র‍্যাডিকাল ক্ষতির বিরুদ্ধেও লড়াই করে। তেঁতুল খনিজ সমৃদ্ধ। যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে।
হার্টের স্বাস্থ্যর উন্নতি করে

তেতুলের উপকারিতা
ফাইল ফটো

৪. তেঁতুল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল হ্রাস করে। ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে।

৫. তেঁতুলে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ফ্রি র‍্যাডিকালগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এটিতে প্রচুর পরিমাণে টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে। যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তেঁতুল গলা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা দূর করতেও সহায়তা করে।

৬. তেঁতুল চোখের ড্রপ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। এটি নজেক্টিভাইটিসের চিকিৎসায় সহায়তা করে। প্রাচীনকালে চোখ সম্পর্কিত সমস্যাগুলি মোকাবেলা করার জন্য তেঁতুল ব্যবহৃত হত।

৭. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এটি। তেঁতুলের রস স্বাস্থ্যের জন্য যাদুর মত কাজ করবে। সর্দি, কাশি, ফ্লু দুর করবে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে। যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

৮. তেঁতুলে সক্সলেট মিথেনলিক এক্সট্রাক্ট রয়েছে। যা ক্যানসার প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে। যেহেতু তেঁতুল উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। তাই এটি ক্যানসারের কোষগুলো নির্মূল করে।

৯.ত্বক উজ্জ্বলতা বাড়াতে তেঁতুল সাহায্যে করে। তাছাড়া তেঁতুল জন্ডিস রোগের জন্য বেশ উপকারী।

১০. বুক ধড়ফর করা, মাথা ঘোরানো রোগে তেঁতুল খুব উপকারী।

তেতুলের অপকারিতা

১. বেশি তেঁতুল খেলে রক্তচাপ কমাতে পারে।

২. অ্যালার্জি হতে পারে- যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে। বেশি খেলে অ্যালার্জি হতে পারে। কিছু লোক ফুসকুড়ি, চুলকানি, ঘা, অজ্ঞান, বমি বা শ্বাস নিতে অসুবিধার মতো উপসর্গগুলি অনুভব করতে পারে।

৩. বেশি পরিমান তেঁতুল খেলে শরীরে রক্তপাত বৃদ্ধি করে।

৪. তেঁতুল গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।

তেতুলের অপকারিতা
ফাইল ফটো

৫. বেশি তেঁতুল খেলে ওজন দ্রুত কমে যায়।

৬. তেঁতুলের মধ্যে টারটারিক এসিড থাকে, দাঁত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

সবদিক বিবেচনা করলে তেঁতুল অপকারের চেয়ে উপাকারিতাই বেশি। সুতরাং বাসাবাড়িতে সবার তেঁতুল রাখা প্রয়োজন।