ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ১০৩১ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে অনেক উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে এটি আমাদের ত্বকের শুস্কতা দূর করে ত্বকে গ্লামার এনে দিবে। অনেক সময় মুখে প্রচুর দাগ উঠে, তখন আমরা বিভিন্ন ক্রিম, ফেসওয়াশ ব্যবহার করে থাকি। এসব ক্রিম এবং ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে অনেক সময় ত্বকের ক্ষতি হয়। ত্বকের দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা অনেক উপকারী একটি উপাদান। অ্যালোভেরা পাতা কিনে চামচ বা ছুরি দিয়ে পাতার ভিতর থেকে জেল বের করে সেটি মুখে মাখলে কিছুদিন পরেই লক্ষ্য করবেন মুখের দাগ দূর হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও, অনেকেই ব্রণ এর জ্বালায় অতিস্ট হয়ে গেছেন। অনেক ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পরেও আবার ফিরে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি যদি প্রতিদিন মুখে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করেন, তবে আপনার ত্বকে থাকা ব্রণ দূর হবে। ব্রণ চলে গেলে মুখে অনেক দাগ পড়ে যায়, এ দাগ দূর করতেও অ্যালোভেরা অনেক উপকারী একটি উপাদান হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে।

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয় সেটা এভাবে লিখে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। অনেকেই ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে থাকে। অ্যালোভেরা এর এত ঔষধি গুন থাকার কারণে, ত্বকের যত্নে যেসব ক্রিম,ফেসওয়াশ পাওয়া যায়, সেগুলোতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রোদে ত্বক পুড়ে গেলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে এই ক্ষতি সাধন করা সম্ভব। এটি আমাদের ত্বকের শুস্ক ভাব দূর করে দেয়। শুধু কি তাই? বয়সের কারণে আমাদের ত্বকের জেল্লা কমে যায়, চেহারায় পড়ে বয়সে ছাপ। চেহারার তরুণত্ব ধরে রাখতে অ্যালোভেরা অনেক উপকারী একটি উপাদান।

প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল মুখে মাখলে চেহারায় পড়বে না বয়সের ছাপ। অ্যালোভেরাকে বলা হয় জাদুকরি ভেসজ ঔষধ। বাইরে প্রচণ্ড গরম, গরমে বাইরে যেতে অনেকেই সানস্ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু, আমরা চাইলে অ্যালোভেরা জেল মুখে মেখে বাইরে যেতে পারি। অ্যালোভেরা জেল আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ত্বক থাকে ঠাণ্ডা। ব্রনে দাগ এবং ত্বকের কালচে দাগ তুলতে তো অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার।

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম

মুখ বা ত্বকে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি কসমেটিক্স বা পন্যে অ্যালোভেরা থাকে। কারণ এলোভেরাতে রয়েছে ত্বককে সজীব করার সকল উপাদান। কসমেটিক্স পন্য ব্যবহার না করেই আপনি এলোভেরা গাছের পাতা কিনে ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরার ভিতর থেকে ছুরি দিয়ে জেল বের করে ত্বকে লাগালে ত্বক হবে মসৃণ , উজ্জ্বল এবং নরম। বাসায় বসে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন নেয়ার জন্য আপনি বাজার থেকে অ্যালোভেরা এর পাতা কিনে নিয়ে আসতে পারেন। এছাড়া, অ্যালোভেরা এর গাছ লাগাতে পারেন। অ্যালোভেরা এর পাতা থেকে ছুরি বা চামচ ব্যবহার করে জেল বের করতে হবে।

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম
ফাইল ফটো

এরপর সেই জেল ব্যবহার করতে পারেন আপনার ত্বকে। ত্বক কিংবা চুল সবখানেই এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এটাই ছিলো অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম। এখন চলুন, অ্যালোভেরা এর অন্যান্য ব্যবহার সমূহ দেখে নেয়া যাক।

রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহার
গ্রীষ্মকালে রোদে একটু বের হলেই ত্বক পুড়বে। এ যেন চিরন্তন সত্য। সানবার্ন হলে অনেকেই বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু, আমরা শুধুমাত্র অ্যালেভেরা দিয়ে সানবার্ন হওয়া ত্বকের যত্ন নিতে পারি। এজন্য অ্যালোভেরা এর পাতার ভিতরের জেল বের করে নিতে হবে। এরপর, সেই জেল মুখের ত্বকে ব্যবহার করতে হবে। ত্বকে অ্যালোভেরা লাগালে সেই স্থানে সুরক্ষিত বলয় তৈরি হয়। যা আপনার ত্বকের পুড়ে যাওয়া কোষ আবারও সতেজ করে তোলে। প্রচন্ড রোদে বাইরে যেতে হলে, অ্যালোভেরা মুখে লাগিয়ে যাবেন। এতে করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

বয়সের ছাপ দূর করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার
বয়সের ভারে আমাদের ত্বকে ভাঁজ পরে যায়। ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ। অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস, যা আমাদের ত্বকের ভাঁজ দূর করে দিতে সক্ষম। আপনার ত্বকে যদি এমন ভাঁজ পড়ে যায়, তবে ত্বক আবারও সজীব করতে পারেন অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে। অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম তো ইতোমধ্যে জেনেছেন। অ্যালোভেরা পাতা থেকে অ্যালোভেরা জেল বের করে সেটি মুখে এবং চেহারার যেসব জায়গায় বয়সের ছাপ পড়েছে, সেসব জায়গায় ব্যবহার করুন।

অনেক দ্রুত আপনার ত্বকে আবারও উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। অ্যালোভেরা প্রতিদিন ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকে থাকা সকল দাগ উঠে যায়। আপনি অ্যালোভেরা এর পাতা থেকে জেল বের করে ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা, অ্যালোভেরা জেল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন কসমেটিক্স এর দোকানে পেয়ে যাবেন। প্রতিদিন ব্যবহার করলে আলাদা করে সৌন্দর্য বর্ধনে আপনাকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না।

ঠোঁট এর রঙ উজ্জ্বল রাখতে অ্যালোভেরা ব্যবহার
গোলাপি ঠোঁট কে না চায়? বাইরের ধুলা-বালু, ময়লা, সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার না করা, ঠোঁটের যত্ন না নেয়ার কারণে আমাদের ঠোঁটের রং হয়ে যায় কালচে। এজন্য অনেকেই ডিপ্রেশন এ ভুগে থাকেন। কেউ তো বিভিন্ন ক্রিম এবং ওষুধ কিনে ব্যবহার করেন। কিন্তু, দিন শেষে এসব পন্য আমাদের ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে পারে না। তাহলে আমরা আমাদের ঠোঁটের গোলাপি রং ধরে রাখবো কিভাবে? এজন্য ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা। ঠোঁটের রং উজ্জ্বল রাখতে এবং ঠোঁট নরম ও মসৃণ করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের রং উজ্জ্বল হবে। ঠোঁটে থাকা সকল কালচে দাগ উঠে যাবে।

অ্যালোভেরা দিয়ে মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়

মুখের কালো দাগ কমানোর সঙ্গে অ্যালোভেরার সম্পর্ক বিষয়ে নানান গবেষণায় দেখা গেছে এটা পোড়া ও অস্ত্রচিকিৎসা থেকে হওয়া দাগ কমাতে সক্ষম। আর ব্রণের দাগ দূর করতেও খুব ভালো কাজ করে।

‘ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত গবেষণায় দাবি করা হয়, পুরাতন দাগ দূর করতে নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

২০১৮ সালে ‘দি জার্নাল অফ ক্লিনিকাল অ্যান্ড অ্যাসথেটিক ডার্মাটলজি’তে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়, অ্যালোভেরায় থাকা ‘অ্যালোসিন’ নামক যৌগ ব্রণের দাগ ও ‘হাইপারপিগ্মেন্টেইশন’ কমাতে সাহায্য করে।

‘অ্যালোসিন’ ত্বকে অতিরিক্ত মেলেনিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। এই কালচে রঞ্জক ব্রণের দাগকে আরও বেশি সুস্পষ্ট করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের করা এই পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া অংশগ্রহণকারীরা ১৫ দিন চারবার করে অ্যালোভেরা ও ‘আরবিউটিন’ নামক উপাদান ব্যবহার করেন। দেখা গেছে, এই দুইটি যৌগ এক সঙ্গে দাগ কমানোর ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, দাগ পড়ার চেয়ে তা দূর হতে বেশি সময় নেয়। তবে, এক্ষেত্রে দিনে দুতিনবার বা তার বেশি উপকারী যৌগ যেমন- অ্যালোভেরা কয়েক সপ্তাহ বা মাস ব্যবহারের সব প্রকার কালো দাগ দূর হতে দেখা যায়।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা প্যাক

চুল মজবুত ও ঝলমলে করতে অ্যালোভেরার প্যাক-এর ভূমিকা অসীম। অ্যালভেরার প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় ঘন ও কোমল। খুশকি, চুল পড়া, চুল ভেঙে যাওয়াসহ চুলের প্রায় সব সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে এই ভেষজে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা প্যাক
ফাইল ফটো

অ্যালভেরার জেল কৌটা বন্দি অবস্থায় বাজারে পাওয়া গেলেও তাজা পাতা থেকে জেল সংগ্রহ করে নিলেই ভালো করবেন। জেনে নিন অ্যালোভেরার কিছু হেয়ার প্যাক সম্পর্কে।

১। ক্যাস্টর অয়েল ও অ্যালোভেরা
চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে চাইলে এই প্যাকের জুড়ি নেই। নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করবে ক্যাস্টর অয়েলের এই প্যাক। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। শাওয়ার ক্যাপ পরে অপেক্ষা করুন ১ ঘণ্টা। মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

২। নারিকেলের দুধ ও অ্যালোভেরা
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে এই প্যাক নরম ও কোমল রাখবে চুল। ৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা, ৪ টেবিল চামচ নারিকেলের দুধ ও ১ টেবিল চামচ নারিকেলের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

৩। অ্যালোভেরা ও আমলকী
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই প্যাক চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে। আমলকী থেঁতো করে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চুলে লাগান। শাওয়ার ক্যাপ পরে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৪। গ্রিন টি ও অ্যালভেরা
চায়ের লিকারের সঙ্গে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে নিন। মিহি মিশ্রণ চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। চুল ধুয়ে ফেলুন পানি দিয়ে।

৫। পেঁয়াজ ও অ্যালোভেরা
পেঁয়াজ বেটে রস বের করে নিন। এই রসের সঙ্গে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। ঘণ্টাখানেক রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল। নিয়মিত ব্যবহার করলে খুশকি দূর হবে ও নতুন চুল গজাবে।

আরও পড়ুন:

হাত-পা ফর্সা করার উপায়

এম.নাসির/২৫

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয়

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে অনেক উপকারিতা পাওয়া সম্ভব। প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে এটি আমাদের ত্বকের শুস্কতা দূর করে ত্বকে গ্লামার এনে দিবে। অনেক সময় মুখে প্রচুর দাগ উঠে, তখন আমরা বিভিন্ন ক্রিম, ফেসওয়াশ ব্যবহার করে থাকি। এসব ক্রিম এবং ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে অনেক সময় ত্বকের ক্ষতি হয়। ত্বকের দাগ দূর করতে অ্যালোভেরা অনেক উপকারী একটি উপাদান। অ্যালোভেরা পাতা কিনে চামচ বা ছুরি দিয়ে পাতার ভিতর থেকে জেল বের করে সেটি মুখে মাখলে কিছুদিন পরেই লক্ষ্য করবেন মুখের দাগ দূর হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও, অনেকেই ব্রণ এর জ্বালায় অতিস্ট হয়ে গেছেন। অনেক ফেসওয়াশ ব্যবহার করার পরেও আবার ফিরে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি যদি প্রতিদিন মুখে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করেন, তবে আপনার ত্বকে থাকা ব্রণ দূর হবে। ব্রণ চলে গেলে মুখে অনেক দাগ পড়ে যায়, এ দাগ দূর করতেও অ্যালোভেরা অনেক উপকারী একটি উপাদান হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসছে।

অ্যালোভেরা মুখে মাখলে কি হয় সেটা এভাবে লিখে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। অনেকেই ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে থাকে। অ্যালোভেরা এর এত ঔষধি গুন থাকার কারণে, ত্বকের যত্নে যেসব ক্রিম,ফেসওয়াশ পাওয়া যায়, সেগুলোতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রোদে ত্বক পুড়ে গেলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে এই ক্ষতি সাধন করা সম্ভব। এটি আমাদের ত্বকের শুস্ক ভাব দূর করে দেয়। শুধু কি তাই? বয়সের কারণে আমাদের ত্বকের জেল্লা কমে যায়, চেহারায় পড়ে বয়সে ছাপ। চেহারার তরুণত্ব ধরে রাখতে অ্যালোভেরা অনেক উপকারী একটি উপাদান।

প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল মুখে মাখলে চেহারায় পড়বে না বয়সের ছাপ। অ্যালোভেরাকে বলা হয় জাদুকরি ভেসজ ঔষধ। বাইরে প্রচণ্ড গরম, গরমে বাইরে যেতে অনেকেই সানস্ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু, আমরা চাইলে অ্যালোভেরা জেল মুখে মেখে বাইরে যেতে পারি। অ্যালোভেরা জেল আমাদেরকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে সুরক্ষা প্রদান করবে। অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করলে ত্বক থাকে ঠাণ্ডা। ব্রনে দাগ এবং ত্বকের কালচে দাগ তুলতে তো অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার।

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম

মুখ বা ত্বকে ব্যবহৃত প্রত্যেকটি কসমেটিক্স বা পন্যে অ্যালোভেরা থাকে। কারণ এলোভেরাতে রয়েছে ত্বককে সজীব করার সকল উপাদান। কসমেটিক্স পন্য ব্যবহার না করেই আপনি এলোভেরা গাছের পাতা কিনে ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরার ভিতর থেকে ছুরি দিয়ে জেল বের করে ত্বকে লাগালে ত্বক হবে মসৃণ , উজ্জ্বল এবং নরম। বাসায় বসে অ্যালোভেরা ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন নেয়ার জন্য আপনি বাজার থেকে অ্যালোভেরা এর পাতা কিনে নিয়ে আসতে পারেন। এছাড়া, অ্যালোভেরা এর গাছ লাগাতে পারেন। অ্যালোভেরা এর পাতা থেকে ছুরি বা চামচ ব্যবহার করে জেল বের করতে হবে।

অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম
ফাইল ফটো

এরপর সেই জেল ব্যবহার করতে পারেন আপনার ত্বকে। ত্বক কিংবা চুল সবখানেই এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। এটাই ছিলো অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম। এখন চলুন, অ্যালোভেরা এর অন্যান্য ব্যবহার সমূহ দেখে নেয়া যাক।

রোদে পোড়া ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহার
গ্রীষ্মকালে রোদে একটু বের হলেই ত্বক পুড়বে। এ যেন চিরন্তন সত্য। সানবার্ন হলে অনেকেই বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু, আমরা শুধুমাত্র অ্যালেভেরা দিয়ে সানবার্ন হওয়া ত্বকের যত্ন নিতে পারি। এজন্য অ্যালোভেরা এর পাতার ভিতরের জেল বের করে নিতে হবে। এরপর, সেই জেল মুখের ত্বকে ব্যবহার করতে হবে। ত্বকে অ্যালোভেরা লাগালে সেই স্থানে সুরক্ষিত বলয় তৈরি হয়। যা আপনার ত্বকের পুড়ে যাওয়া কোষ আবারও সতেজ করে তোলে। প্রচন্ড রোদে বাইরে যেতে হলে, অ্যালোভেরা মুখে লাগিয়ে যাবেন। এতে করে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

বয়সের ছাপ দূর করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার
বয়সের ভারে আমাদের ত্বকে ভাঁজ পরে যায়। ত্বক হয়ে যায় রুক্ষ। অ্যালোভেরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টস, যা আমাদের ত্বকের ভাঁজ দূর করে দিতে সক্ষম। আপনার ত্বকে যদি এমন ভাঁজ পড়ে যায়, তবে ত্বক আবারও সজীব করতে পারেন অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে। অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহারের নিয়ম তো ইতোমধ্যে জেনেছেন। অ্যালোভেরা পাতা থেকে অ্যালোভেরা জেল বের করে সেটি মুখে এবং চেহারার যেসব জায়গায় বয়সের ছাপ পড়েছে, সেসব জায়গায় ব্যবহার করুন।

অনেক দ্রুত আপনার ত্বকে আবারও উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। অ্যালোভেরা প্রতিদিন ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকে থাকা সকল দাগ উঠে যায়। আপনি অ্যালোভেরা এর পাতা থেকে জেল বের করে ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা, অ্যালোভেরা জেল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন কসমেটিক্স এর দোকানে পেয়ে যাবেন। প্রতিদিন ব্যবহার করলে আলাদা করে সৌন্দর্য বর্ধনে আপনাকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না।

ঠোঁট এর রঙ উজ্জ্বল রাখতে অ্যালোভেরা ব্যবহার
গোলাপি ঠোঁট কে না চায়? বাইরের ধুলা-বালু, ময়লা, সঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার না করা, ঠোঁটের যত্ন না নেয়ার কারণে আমাদের ঠোঁটের রং হয়ে যায় কালচে। এজন্য অনেকেই ডিপ্রেশন এ ভুগে থাকেন। কেউ তো বিভিন্ন ক্রিম এবং ওষুধ কিনে ব্যবহার করেন। কিন্তু, দিন শেষে এসব পন্য আমাদের ঠোঁটের কালো দাগ দূর করতে পারে না। তাহলে আমরা আমাদের ঠোঁটের গোলাপি রং ধরে রাখবো কিভাবে? এজন্য ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা। ঠোঁটের রং উজ্জ্বল রাখতে এবং ঠোঁট নরম ও মসৃণ করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন অ্যালোভেরা জেল ঠোঁটে লাগালে ঠোঁটের রং উজ্জ্বল হবে। ঠোঁটে থাকা সকল কালচে দাগ উঠে যাবে।

অ্যালোভেরা দিয়ে মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়

মুখের কালো দাগ কমানোর সঙ্গে অ্যালোভেরার সম্পর্ক বিষয়ে নানান গবেষণায় দেখা গেছে এটা পোড়া ও অস্ত্রচিকিৎসা থেকে হওয়া দাগ কমাতে সক্ষম। আর ব্রণের দাগ দূর করতেও খুব ভালো কাজ করে।

‘ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত গবেষণায় দাবি করা হয়, পুরাতন দাগ দূর করতে নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া গেছে।

২০১৮ সালে ‘দি জার্নাল অফ ক্লিনিকাল অ্যান্ড অ্যাসথেটিক ডার্মাটলজি’তে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে জানানো হয়, অ্যালোভেরায় থাকা ‘অ্যালোসিন’ নামক যৌগ ব্রণের দাগ ও ‘হাইপারপিগ্মেন্টেইশন’ কমাতে সাহায্য করে।

‘অ্যালোসিন’ ত্বকে অতিরিক্ত মেলেনিনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে। এই কালচে রঞ্জক ব্রণের দাগকে আরও বেশি সুস্পষ্ট করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের করা এই পর্যবেক্ষণে অংশ নেওয়া অংশগ্রহণকারীরা ১৫ দিন চারবার করে অ্যালোভেরা ও ‘আরবিউটিন’ নামক উপাদান ব্যবহার করেন। দেখা গেছে, এই দুইটি যৌগ এক সঙ্গে দাগ কমানোর ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, দাগ পড়ার চেয়ে তা দূর হতে বেশি সময় নেয়। তবে, এক্ষেত্রে দিনে দুতিনবার বা তার বেশি উপকারী যৌগ যেমন- অ্যালোভেরা কয়েক সপ্তাহ বা মাস ব্যবহারের সব প্রকার কালো দাগ দূর হতে দেখা যায়।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা প্যাক

চুল মজবুত ও ঝলমলে করতে অ্যালোভেরার প্যাক-এর ভূমিকা অসীম। অ্যালভেরার প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল হয় ঘন ও কোমল। খুশকি, চুল পড়া, চুল ভেঙে যাওয়াসহ চুলের প্রায় সব সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে এই ভেষজে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা প্যাক
ফাইল ফটো

অ্যালভেরার জেল কৌটা বন্দি অবস্থায় বাজারে পাওয়া গেলেও তাজা পাতা থেকে জেল সংগ্রহ করে নিলেই ভালো করবেন। জেনে নিন অ্যালোভেরার কিছু হেয়ার প্যাক সম্পর্কে।

১। ক্যাস্টর অয়েল ও অ্যালোভেরা
চুলের বৃদ্ধি বাড়াতে চাইলে এই প্যাকের জুড়ি নেই। নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করবে ক্যাস্টর অয়েলের এই প্যাক। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। শাওয়ার ক্যাপ পরে অপেক্ষা করুন ১ ঘণ্টা। মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

২। নারিকেলের দুধ ও অ্যালোভেরা
প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে এই প্যাক নরম ও কোমল রাখবে চুল। ৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা, ৪ টেবিল চামচ নারিকেলের দুধ ও ১ টেবিল চামচ নারিকেলের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

৩। অ্যালোভেরা ও আমলকী
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই প্যাক চুল পড়া কমাতে সাহায্য করবে। আমলকী থেঁতো করে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে চুলে লাগান। শাওয়ার ক্যাপ পরে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

৪। গ্রিন টি ও অ্যালভেরা
চায়ের লিকারের সঙ্গে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে নিন। মিহি মিশ্রণ চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। চুল ধুয়ে ফেলুন পানি দিয়ে।

৫। পেঁয়াজ ও অ্যালোভেরা
পেঁয়াজ বেটে রস বের করে নিন। এই রসের সঙ্গে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগান। ঘণ্টাখানেক রেখে ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন চুল। নিয়মিত ব্যবহার করলে খুশকি দূর হবে ও নতুন চুল গজাবে।

আরও পড়ুন:

হাত-পা ফর্সা করার উপায়

এম.নাসির/২৫