ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে ফেলে গেল দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৪৬৪ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মাসুদ রানা (৩৫) নামের এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

গতকাল শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুদ রানা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত মাসুদ রানা লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগসোশা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। বিলমাড়িয়া বাজারে তার প্রসাধনীর দোকান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মাসুদ রানা বিলমাড়িয়া বাজারে নিজের দোকান বন্ধ করে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাগসোশা গ্রামে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের পশ্চিম পাশের সড়কে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি ওই মাইক্রোবাসের কাছাকাছি পৌঁছালে ছয় থেকে সাতজন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে থানায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। কারণ, জানতে চাইলে তারা তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় তার ডান পা ও ডান হাতের নিচের অংশ কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তার মাথায়ও একটা ফোলা জখম রয়েছে। পরে তাকে সেখানে ফেলে রেখে মাইক্রোবাসটি চলে যায়।

পথচারীরা মাসুদ রানাকে পড়ে থাকতে দেখে তার পকেটে থাকা মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। তখন তিনি ও তার পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মাসুদ রানাকে অপহরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর মহিলা কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, মাসুদ রানার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও ডান হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথাতেও আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মাসুদ রানার সঙ্গে থাকা সালাহ উদ্দিন নামের এক স্বজন জানান, মাসুদ রানা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্বৃত্তরা তার হাত–পায়ের রগ কাটলেও কাছে থাকা টাকা-পয়সা নেয়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, পুলিশের কেউ এ ঘটনা ঘটায়নি। কারা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ ব্যাপারে শনিবার সকাল পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:

দুই ছাত্রদল নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

এম.নাসির/৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুবদল নেতাকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে ফেলে গেল দুর্বৃত্তরা

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ নভেম্বর ২০২৩

মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে মাসুদ রানা (৩৫) নামের এক যুবদল নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

গতকাল শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুদ রানা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত মাসুদ রানা লালপুরের বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগসোশা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। বিলমাড়িয়া বাজারে তার প্রসাধনীর দোকান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মাসুদ রানা বিলমাড়িয়া বাজারে নিজের দোকান বন্ধ করে অন্য একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাগসোশা গ্রামে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাজারের পশ্চিম পাশের সড়কে একটি মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি ওই মাইক্রোবাসের কাছাকাছি পৌঁছালে ছয় থেকে সাতজন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে থানায় যাওয়ার জন্য মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। কারণ, জানতে চাইলে তারা তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে ফেলেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তাকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এ সময় তার ডান পা ও ডান হাতের নিচের অংশ কুপিয়ে রগ কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। তার মাথায়ও একটা ফোলা জখম রয়েছে। পরে তাকে সেখানে ফেলে রেখে মাইক্রোবাসটি চলে যায়।

পথচারীরা মাসুদ রানাকে পড়ে থাকতে দেখে তার পকেটে থাকা মুঠোফোন থেকে স্ত্রীর নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। তখন তিনি ও তার পরিবারের লোকজন জানতে পারেন মাসুদ রানাকে অপহরণের স্থান থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গোপালপুর মহিলা কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, মাসুদ রানার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ও ডান হাতে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথাতেও আঘাত ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মাসুদ রানার সঙ্গে থাকা সালাহ উদ্দিন নামের এক স্বজন জানান, মাসুদ রানা সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুর্বৃত্তরা তার হাত–পায়ের রগ কাটলেও কাছে থাকা টাকা-পয়সা নেয়নি।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল হোসেন বলেন, পুলিশের কেউ এ ঘটনা ঘটায়নি। কারা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে এ ব্যাপারে শনিবার সকাল পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:

দুই ছাত্রদল নেতাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

এম.নাসির/৪