ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

জোটভুক্তদের বার্তা দেয়নি আওয়ামী লীগ

ধোঁয়াশায় দিন পার করছেন জোটের নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩ ১৬৩৪ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাসীন দল ও ১৪ জোট

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গত রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন দলটি। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। একক ভাবে প্রার্থী ঘোষণার পর শরিক দলের নেতাদের মধ্যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়।  এতে করে ক্ষমতাসীন দল ও জোট নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগ দুটি আসন বাদে সব আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। মিত্রদের জন্য কোনো আসন খালি রাখেনি ক্ষমতাসীনরা। এতে আরও মন খারাপের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন শরিক নেতারা।

এদিকে, জোটের প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয় আওয়ামী লীগের মধ্যে। দলটির  নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ভিন্নধর্মী। সবকিছু মিলে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশায় দিন পার করছেন জোটের নেতারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ, তবে সমঝোতা হলে জোটকে কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, কৌশলগত কারণে দুটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তবে শরিকদের জন্য আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিপক্ষ যদি বড় জোট করে, তবে আওয়ামী লীগেরও জোট হবে। এর বাইরে প্রয়োজন না থাকলে জোট করবে না আওয়ামী লীগ। তাহলে কি এবার জোটহীন নির্বাচনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ- এমন প্রশ্নই ঘুরছে শরিকদের মধ্যে।

কয়েকজন শরিক নেতা বলছেন, এবারের নির্বাচনে জোটভুক্তদের কতগুলো আসন ছেড়ে দেয়া হবে- তা নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়নি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির দিকেই তাকিয়ে আছেন জোটভুক্ত দলের নেতারা। তারা বলছেন- ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোকে কতটা আসন ছেড়ে দেয়া হবে- তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই জোট নেতাদের সাথে বৈঠক করে আসন বণ্টন করবেন তিনি।

আওয়ামী লীগ যে দুটি আসন খালি রেখেছে সেই আসন দুটি হলো ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এ কে এম সেলিম ওসমানের। গত সোমবার জাতীয় পার্টি ওই আসনে সেলিম ওসমানকে তাদের প্রার্থী বলে ঘোষণা দিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটকে (বিকল্প ধারা, জাতীয় পার্টি) ছেড়ে দেওয়া ৩১টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৪ দলের নেতারা বলছেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন না করার বিষয়টি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নতুন করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অন্যান্য নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে জোট নেতাদের বৈঠক হয়। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। জোটগতভাবে নির্বাচন ও আসন ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলতি মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার আভাস ছিল, সেটাও এখনো হয়নি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনি যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু শরিকদের বিষয়ে এখনো কিছু ক্লিয়ার করেনি।

গত ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করেছে। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মহাজোট শরিকদের নিয়ে নতুন করে ভাবছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের পরিকল্পনা, না এলে অন্য পরিকল্পনায় নির্বাচনে যাবে। বিএনপি নির্বাচনে আসা-না আসা নিয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর সবকিছু ঝুলে আছে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, আমরা ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচন করব এটা আগে থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনের বিষয় নিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়নি।

গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে শিকদার বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিছু ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন বলবেন ১৪ দলের নেতারা সেদিন বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে সূত্রে মতে, সর্বশেষ সরকারের রাখা হয়নি ১৪ দলের কোনো প্রতিনিধি। জোটের নেতাদের অভিযোগ- দীর্ঘদিন দিন ধরেই একলা চলা নীতিতে আওয়ামী লীগ। গুরুত্ব কমিয়ে দেয়া হয়েছে জোটভুক্ত দলগুলোকে। সরকারের প্রতিনিধিত্বেও রাখা হচ্ছে জোট শরিকের কোনো নেতাকে। দলটির একলা চলা নীতিতে ক্ষুব্ধ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলের শীর্ষ নেতারা। তবে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটভুক্তভাবে করার পরিকল্পনায় রয়েছে জোটের নোতারা। সেজন্যই নিজেরাও অনেকটাই কৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন তারা।

মূলত নির্বাচনের আগে নিজেদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চান যে কোনো মূল্যেই। সেক্ষেত্রে বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের সাথে আসন বণ্টনে দর কষাকষিতে যাবেন তারা। তবে এ বিষয়ে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই জোট নেতাদের সঙ্গে বসবে আওয়ামী লীগ।

চানতে চাইলে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জোট শরিক দলগুলোকে ঠিক কত আসন ছেড়ে দেয়া হবে? সে বিষয় এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। জোট প্রধান দলের পক্ষ থেকে জোটভুক্ত দলগুলোকে বার্তাও দেয়া হয়নি। কাজেই শেষ মুহূর্তে জোটভুক্তরা কতটা আসন পাবে, তা বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী ডাকলেই আমরা তার সঙ্গে বৈঠক করব।

জোটভুক্ত দলগুলোকে কতটা আসন ছাড় দেয়া হবে- তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। এ বিষয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, জোটভুক্তদের কতটা আসন ছেড়ে দেয়া হবে, আমরা জোট থেকে কতটা আসন চাইব তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে। তবে এখন পর্যন্ত এগুলো নিয়ে আলাচনা হয়নি।

ভোটের আগে শরিকদের আসন বণ্টনে সতর্ক আওয়ামী লীগ। নিজেদের ঘর ঠিক রেখেই আসন ছেড়ে দেবে দলটি। মূলত নিজ দলের নেতাকর্মীদের নানা বিষয় বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে ক্ষমতাসীন দলটির সূত্রে জানা গেছে।

এজন্যই জোটভুক্ত দলগুলোকে কতগুলো আসন ছেড়ে দেয়া হবে- তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়নি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ৩০ টা আসন সিলেক্ট করেছি। এই আসনে দলীয় নেতাদের কাছে মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছি। দেখা যাক জোটের আসন কখন বণ্টন হয়। জোটের আসন বার্গেনিংয়ের বিষয়। সেটার উপর নির্ভর করবে আমরা জোট থেকে কতটা আসন চাইব। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জোট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের কেন এমন কথা বললেন এটার ব্যাখ্যা উনিই ভালো দিতে পারবেন। আমার সঙ্গে পাঁচ দিন আগেও কথা হয়েছে। তখনো সব কিছু ঠিক ছিল। আওয়ামী লীগ নিজে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিল। এখন যদি এই পাঁচ দিনের মধ্যে বড় কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা হবে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি এটা চূড়ান্ত। আওয়ামী লীগ জোটে না গেলে আমরা জোটের বাইরে নির্বাচন করব। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শরিকদের সঙ্গে বসার সময় দেননি। হাতে সময় বেশি নেই। হয়তো উনি (শেখ হাসিনা) খুব বেশি ব্যস্ত। আজ সকালে মিটিংয়ের পর দেখি আমাদের সময় দেন কি না।

আরও পড়ুন:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা আওয়ামী লীগের

আরকে/২৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জোটভুক্তদের বার্তা দেয়নি আওয়ামী লীগ

ধোঁয়াশায় দিন পার করছেন জোটের নেতারা

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গত রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে ক্ষমতাসীন দলটি। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। একক ভাবে প্রার্থী ঘোষণার পর শরিক দলের নেতাদের মধ্যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়।  এতে করে ক্ষমতাসীন দল ও জোট নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগ দুটি আসন বাদে সব আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। মিত্রদের জন্য কোনো আসন খালি রাখেনি ক্ষমতাসীনরা। এতে আরও মন খারাপের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন শরিক নেতারা।

এদিকে, জোটের প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয় আওয়ামী লীগের মধ্যে। দলটির  নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ভিন্নধর্মী। সবকিছু মিলে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশায় দিন পার করছেন জোটের নেতারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ, তবে সমঝোতা হলে জোটকে কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, কৌশলগত কারণে দুটি আসন খালি রাখা হয়েছে। তবে শরিকদের জন্য আসন ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিপক্ষ যদি বড় জোট করে, তবে আওয়ামী লীগেরও জোট হবে। এর বাইরে প্রয়োজন না থাকলে জোট করবে না আওয়ামী লীগ। তাহলে কি এবার জোটহীন নির্বাচনে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ- এমন প্রশ্নই ঘুরছে শরিকদের মধ্যে।

কয়েকজন শরিক নেতা বলছেন, এবারের নির্বাচনে জোটভুক্তদের কতগুলো আসন ছেড়ে দেয়া হবে- তা নিয়ে পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়নি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। তবে আসন বণ্টন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির দিকেই তাকিয়ে আছেন জোটভুক্ত দলের নেতারা। তারা বলছেন- ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোকে কতটা আসন ছেড়ে দেয়া হবে- তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই জোট নেতাদের সাথে বৈঠক করে আসন বণ্টন করবেন তিনি।

আওয়ামী লীগ যে দুটি আসন খালি রেখেছে সেই আসন দুটি হলো ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং জাতীয় পার্টির (এরশাদ) এ কে এম সেলিম ওসমানের। গত সোমবার জাতীয় পার্টি ওই আসনে সেলিম ওসমানকে তাদের প্রার্থী বলে ঘোষণা দিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটকে (বিকল্প ধারা, জাতীয় পার্টি) ছেড়ে দেওয়া ৩১টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৪ দলের নেতারা বলছেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন না করার বিষয়টি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নতুন করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অন্যান্য নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে জোট নেতাদের বৈঠক হয়। কিন্তু এবার সেটা হয়নি। জোটগতভাবে নির্বাচন ও আসন ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলতি মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করার আভাস ছিল, সেটাও এখনো হয়নি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনি যাত্রা শুরু করেছে। কিন্তু শরিকদের বিষয়ে এখনো কিছু ক্লিয়ার করেনি।

গত ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটের ব্যানারে নির্বাচন করেছে। তবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে হিসাব-নিকাশ কষছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মহাজোট শরিকদের নিয়ে নতুন করে ভাবছে। সেক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে এলে এক ধরনের পরিকল্পনা, না এলে অন্য পরিকল্পনায় নির্বাচনে যাবে। বিএনপি নির্বাচনে আসা-না আসা নিয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর সবকিছু ঝুলে আছে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, আমরা ১৪ দল জোটগতভাবে নির্বাচন করব এটা আগে থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনের বিষয় নিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক হয়নি।

গণআজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে শিকদার বলেন, নির্বাচন নিয়ে কিছু ঠিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন বলবেন ১৪ দলের নেতারা সেদিন বৈঠকে অংশ নেবেন। বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে সূত্রে মতে, সর্বশেষ সরকারের রাখা হয়নি ১৪ দলের কোনো প্রতিনিধি। জোটের নেতাদের অভিযোগ- দীর্ঘদিন দিন ধরেই একলা চলা নীতিতে আওয়ামী লীগ। গুরুত্ব কমিয়ে দেয়া হয়েছে জোটভুক্ত দলগুলোকে। সরকারের প্রতিনিধিত্বেও রাখা হচ্ছে জোট শরিকের কোনো নেতাকে। দলটির একলা চলা নীতিতে ক্ষুব্ধ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত দলের শীর্ষ নেতারা। তবে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটভুক্তভাবে করার পরিকল্পনায় রয়েছে জোটের নোতারা। সেজন্যই নিজেরাও অনেকটাই কৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন তারা।

মূলত নির্বাচনের আগে নিজেদের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চান যে কোনো মূল্যেই। সেক্ষেত্রে বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের সাথে আসন বণ্টনে দর কষাকষিতে যাবেন তারা। তবে এ বিষয়ে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই জোট নেতাদের সঙ্গে বসবে আওয়ামী লীগ।

চানতে চাইলে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, জোট শরিক দলগুলোকে ঠিক কত আসন ছেড়ে দেয়া হবে? সে বিষয় এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। জোট প্রধান দলের পক্ষ থেকে জোটভুক্ত দলগুলোকে বার্তাও দেয়া হয়নি। কাজেই শেষ মুহূর্তে জোটভুক্তরা কতটা আসন পাবে, তা বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী ডাকলেই আমরা তার সঙ্গে বৈঠক করব।

জোটভুক্ত দলগুলোকে কতটা আসন ছাড় দেয়া হবে- তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। এ বিষয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, জোটভুক্তদের কতটা আসন ছেড়ে দেয়া হবে, আমরা জোট থেকে কতটা আসন চাইব তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ হবে। তবে এখন পর্যন্ত এগুলো নিয়ে আলাচনা হয়নি।

ভোটের আগে শরিকদের আসন বণ্টনে সতর্ক আওয়ামী লীগ। নিজেদের ঘর ঠিক রেখেই আসন ছেড়ে দেবে দলটি। মূলত নিজ দলের নেতাকর্মীদের নানা বিষয় বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে ক্ষমতাসীন দলটির সূত্রে জানা গেছে।

এজন্যই জোটভুক্ত দলগুলোকে কতগুলো আসন ছেড়ে দেয়া হবে- তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেয়া হয়নি।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ৩০ টা আসন সিলেক্ট করেছি। এই আসনে দলীয় নেতাদের কাছে মনোনয়ন বিক্রি শুরু করেছি। দেখা যাক জোটের আসন কখন বণ্টন হয়। জোটের আসন বার্গেনিংয়ের বিষয়। সেটার উপর নির্ভর করবে আমরা জোট থেকে কতটা আসন চাইব। এর আগে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, জোট প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের কেন এমন কথা বললেন এটার ব্যাখ্যা উনিই ভালো দিতে পারবেন। আমার সঙ্গে পাঁচ দিন আগেও কথা হয়েছে। তখনো সব কিছু ঠিক ছিল। আওয়ামী লীগ নিজে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছিল। এখন যদি এই পাঁচ দিনের মধ্যে বড় কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা হবে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি এটা চূড়ান্ত। আওয়ামী লীগ জোটে না গেলে আমরা জোটের বাইরে নির্বাচন করব। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শরিকদের সঙ্গে বসার সময় দেননি। হাতে সময় বেশি নেই। হয়তো উনি (শেখ হাসিনা) খুব বেশি ব্যস্ত। আজ সকালে মিটিংয়ের পর দেখি আমাদের সময় দেন কি না।

আরও পড়ুন:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২৯৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা আওয়ামী লীগের

আরকে/২৮