ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

রিলাক্স মুডে ক্ষমতাসীন দলের ৩২ প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭২ বার পড়া হয়েছে

রিলাক্স মুডে ক্ষমতাসীন দলের ৩২ প্রার্থী

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি হলেও ৩২টি আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। আসনগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট কয়েক জন প্রার্থীর আসন রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী বা ডামি প্রর্থী না দেওয়ার কারণে এসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। নামমাত্র কয়েকটি দল অংশ নেওয়ায় নৌকার প্রার্থীরা চিন্তামুক্ত হয়েই সময় পার করছেন তারা।

ইসির তথ্যানুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি ৩২ আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ক ম রুহুল হক, সাবের হোসেন চৌধুরী, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের আসন।

ইসির হিসেব অনুসারে ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন; যা গতবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ২৬০ জন বেশি। এবার যে ৩২টি আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪. কুমিল্লা-৯ ও কুমিল্লা-১০, নোয়াখালী-৫, চট্টগ্রাম-৭, ৯ ও ১৩, কক্সবাজার-২, পঞ্চগড়-২, মাগুরা-১, বাগেরহাট-১, পটুয়াখালী-১, শরীয়তপুর-৩, সিলেট-৪ ও ৬, কিশোরগঞ্জ-৪, মানিকগঞ্জ-৩, ঢাকা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা ১৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১ ও ২, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল ৮, ময়মনসিংহ-৯, ভোলা-২, বরিশাল-১, ঝালকাঠি-২, বগুড়া-৫ সিরাজগঞ্জ-২ এবং পাবনা-৫ আসন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী না হওয়া আসনগুলোতে বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের আসন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল মজুমদার, চিফ হুইফ নূর-ই-আলম চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ক ম রুহুল হক। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটে দাঁড়াননি।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট হবে ৭ জানুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৪৪টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব দল নিজেদের প্রার্থী ও প্রতীক চূড়ান্তকরণের জন্য স্বাক্ষর নির্দিষ্ট করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে কমিশনকে অবহিত করে। অন্যদিকে সরকারবিরোধী বিএনপিসহ বাকি ১৫টি দল নির্বাচনের বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন বর্জনকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগকেও স্থান দিয়েছে ইসি, যা নিয়ে দলের মহাসচিব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দলটি নির্বাচন বর্জনে থাকলেও দিনাজপুর-৩ আসনে আব্দুস সালাম ও লালমনিরহাট-২ আসনে মো. বাদশা মিয়াকে প্রার্থী দিয়েছে বলে তথ্য দেয় ইসি।

৩২ আসনের প্রতিযোগিতামূলক স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। সেখানে নামমাত্র ভোটে বিজয় নিশ্চিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে দলীয় কোনো বিষয় নেই, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কমিশন আচরণবিধি অনুযায়ী চলছে। প্রার্থীরা আদালত পর্যন্ত যেতে পারে। সেখানে আলটিমেটলি যে সিদ্ধান্তে আসবে সেটার ওপর আমাদের কোনো হাত নেই। এ ব্যাপারে বাধাগ্রস্ত করার কোনো প্রক্রিয়াতে আমরা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিবিহীন ভোটে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন আওয়ামী লীগ, তাদের জোট ও সমমনা দলের প্রার্থীরা। এবার বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় জয়ী হওয়া ঠেকাতে ‘ডামি’ প্রার্থী রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ না করতে দলীয় প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু দলীয় প্রধানের এমন নির্দেশনার পরও প্রভাবশালী নেতারা নামমাত্র ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়েছেন। যাকে কেউ চিনেও না। যার নাম কেউ কখনো শুনেনি।

শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত ২৬ এমপি, সদ্য পদত্যাগকৃত উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতারা।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বলছেন, তারা মনে করেছিলেন নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই দলের সিদ্ধান্ত আসবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাছাই শেষে ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনের যোগ্য বলে ঘোষণা করেছে।

নির্বাচনের আগে এসব আসনে দলীয় ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ইতোমধ্যে ঘটেছে।

যদিও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক গত বুধবার টাঙ্গাইলের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, নৌকার বাইরে যারা নির্বাচন করছে, আমার দৃষ্টিতে তারা অবশ্যই বিদ্রোহী প্রার্থী। আমি মনে করি, দলের কোনো নেতাকর্মীর দল বা নৌকার বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা দলের আদর্শ মেনে চলে তাদের অবশ্যই নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। এই নৌকাকে আমরা বলি হক ভাসানীর নৌকা, এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এই নৌকা আওয়ামী লীগের নৌকা, এই নৌকা শেখ হাসিনার নৌকা। তাই নৌকার বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই।

দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী নয়, ‘ডামি’ প্রার্থীর কথা বলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আর ডামি প্রার্থী এক জিনিস নয়। ডামি প্রার্থী জেতার প্রার্থী নয়। এটা বলা হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাতে নির্বাচন না হয় সেজন্য। আর স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাখ্যা অন্য জিনিস। নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে অনেকেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনেছিলেন তারা কোনো অবস্থাতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না। কেউ করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তৃণমূলকে সহজ-সরল ভাষায় পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা। দলের প্রধান শিগগিরই নির্দেশনা দেবেন এ বিষয়ে। যারা মানবে না, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আরকে/০৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রিলাক্স মুডে ক্ষমতাসীন দলের ৩২ প্রার্থী

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি হলেও ৩২টি আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। আসনগুলোর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট কয়েক জন প্রার্থীর আসন রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী বা ডামি প্রর্থী না দেওয়ার কারণে এসব আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। নামমাত্র কয়েকটি দল অংশ নেওয়ায় নৌকার প্রার্থীরা চিন্তামুক্ত হয়েই সময় পার করছেন তারা।

ইসির তথ্যানুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি ৩২ আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য আমির হোসেন আমু, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ক ম রুহুল হক, সাবের হোসেন চৌধুরী, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের আসন।

ইসির হিসেব অনুসারে ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন; যা গতবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ২৬০ জন বেশি। এবার যে ৩২টি আসনে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই সেগুলো হচ্ছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪. কুমিল্লা-৯ ও কুমিল্লা-১০, নোয়াখালী-৫, চট্টগ্রাম-৭, ৯ ও ১৩, কক্সবাজার-২, পঞ্চগড়-২, মাগুরা-১, বাগেরহাট-১, পটুয়াখালী-১, শরীয়তপুর-৩, সিলেট-৪ ও ৬, কিশোরগঞ্জ-৪, মানিকগঞ্জ-৩, ঢাকা-১, ঢাকা-৯, ঢাকা ১৫, নারায়ণগঞ্জ-৫, মাদারীপুর-১ ও ২, টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল ৮, ময়মনসিংহ-৯, ভোলা-২, বরিশাল-১, ঝালকাঠি-২, বগুড়া-৫ সিরাজগঞ্জ-২ এবং পাবনা-৫ আসন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী না হওয়া আসনগুলোতে বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের আসন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল মজুমদার, চিফ হুইফ নূর-ই-আলম চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ক ম রুহুল হক। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটে দাঁড়াননি।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট হবে ৭ জানুয়ারি।

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৪৪টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি-জেপি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিসহ ২৯টি রাজনৈতিক দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, এসব দল নিজেদের প্রার্থী ও প্রতীক চূড়ান্তকরণের জন্য স্বাক্ষর নির্দিষ্ট করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে কমিশনকে অবহিত করে। অন্যদিকে সরকারবিরোধী বিএনপিসহ বাকি ১৫টি দল নির্বাচনের বাইরে রয়ে গেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন বর্জনকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মুসলিম লীগকেও স্থান দিয়েছে ইসি, যা নিয়ে দলের মহাসচিব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। দলটি নির্বাচন বর্জনে থাকলেও দিনাজপুর-৩ আসনে আব্দুস সালাম ও লালমনিরহাট-২ আসনে মো. বাদশা মিয়াকে প্রার্থী দিয়েছে বলে তথ্য দেয় ইসি।

৩২ আসনের প্রতিযোগিতামূলক স্বতন্ত্র প্রার্থী নেই। সেখানে নামমাত্র ভোটে বিজয় নিশ্চিত হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে দলীয় কোনো বিষয় নেই, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কমিশন আচরণবিধি অনুযায়ী চলছে। প্রার্থীরা আদালত পর্যন্ত যেতে পারে। সেখানে আলটিমেটলি যে সিদ্ধান্তে আসবে সেটার ওপর আমাদের কোনো হাত নেই। এ ব্যাপারে বাধাগ্রস্ত করার কোনো প্রক্রিয়াতে আমরা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিবিহীন ভোটে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন আওয়ামী লীগ, তাদের জোট ও সমমনা দলের প্রার্থীরা। এবার বিনা প্রতিদ্বদ্বিতায় জয়ী হওয়া ঠেকাতে ‘ডামি’ প্রার্থী রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চাপ প্রয়োগ না করতে দলীয় প্রার্থীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু দলীয় প্রধানের এমন নির্দেশনার পরও প্রভাবশালী নেতারা নামমাত্র ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়েছেন। যাকে কেউ চিনেও না। যার নাম কেউ কখনো শুনেনি।

শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের জয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী। এসব প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন দলের মনোনয়ন বঞ্চিত ২৬ এমপি, সদ্য পদত্যাগকৃত উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী নেতারা।

আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বলছেন, তারা মনে করেছিলেন নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই দলের সিদ্ধান্ত আসবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাছাই শেষে ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনের যোগ্য বলে ঘোষণা করেছে।

নির্বাচনের আগে এসব আসনে দলীয় ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ইতোমধ্যে ঘটেছে।

যদিও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক গত বুধবার টাঙ্গাইলের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, নৌকার বাইরে যারা নির্বাচন করছে, আমার দৃষ্টিতে তারা অবশ্যই বিদ্রোহী প্রার্থী। আমি মনে করি, দলের কোনো নেতাকর্মীর দল বা নৌকার বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। যারা দলের আদর্শ মেনে চলে তাদের অবশ্যই নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে। এই নৌকাকে আমরা বলি হক ভাসানীর নৌকা, এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এই নৌকা আওয়ামী লীগের নৌকা, এই নৌকা শেখ হাসিনার নৌকা। তাই নৌকার বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই।

দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী নয়, ‘ডামি’ প্রার্থীর কথা বলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আর ডামি প্রার্থী এক জিনিস নয়। ডামি প্রার্থী জেতার প্রার্থী নয়। এটা বলা হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যাতে নির্বাচন না হয় সেজন্য। আর স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাখ্যা অন্য জিনিস। নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করতে অনেকেই ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনেছিলেন তারা কোনো অবস্থাতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে পারবেন না। কেউ করলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তৃণমূলকে সহজ-সরল ভাষায় পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা। দলের প্রধান শিগগিরই নির্দেশনা দেবেন এ বিষয়ে। যারা মানবে না, তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আরকে/০৮