ঢাকা ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আমাদেরকে আস্থায় নেওয়া : ইসি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩ ১২০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আমাদেরকে আস্থায় নেওয়া বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন করেছি, কেউ বলতে পারবে না কোনো পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছি।

বুধবার (১ মার্চ) নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আলমগীর বলেন, ইতোমধ্যে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলোর নানারকম পরিস্থিতি ছিল। একটি বড় রাজনৈতিক দল কোনো নির্বাচনেই অংশ নিচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই তাদের যারা সাপোর্টার তারা তো ভোট দিতে আসেন না। এ জন্য ভোট কাস্টিং কমে যাচ্ছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনার মধ্যে আমাদের কিছু নির্বাচন করতে হয়েছে। স্বাভাবিক কারণে তখন অনেকে ভয়ে ভোট দিতে আসেননি। এছাড়া উপ-নির্বাচনগুলো যখন হয়, তার মেয়াদ থাকে অল্প এবং এতে সরকারের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই ভোটদানেও জনগণের আগ্রহ কম থাকে। সামনে যে জাতীয় নির্বাচন হবে তাতে কিন্তু সরকার পরিবর্তন হতে পারে। সেই সুযোগ যেহেতু এখানে রয়েছে, তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে দলকে ভোট দেবে, তারা সরকার গঠন করবে। তো সেক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন করেছি প্রত্যেকটাই সুষ্ঠুভাবে করার চেষ্টা করেছি। আশা করি সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যত রকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা নেব। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আমরা মনে করি।

যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না তাদেরকে আনার জন্য শেষ পর্যন্ত ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো আছে, শেষ পর্যন্ত থাকবে। বুঝতে হবে আমাদের ভূমিকাটা কী। আমরা আশাও করি যে, সবদল নির্বাচনে আসবে। কারণ আমাদের কাজ হলো নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করা। আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করি, তাহলে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। যারা আসছেন না তারা বলছেন যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এটা তারা মনে করেন না। কিন্তু এই মনে করার পেছনে অন্তত আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। সংবিধান এবং আইন আমাদের যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছে, আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তার পুরোটা প্রয়োগ করে সুষ্ঠু নির্বাচন করব। সেই প্রতিশ্রুতি আমরা ভোটারদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে দিতে চাই।

ভোটার দিবসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে- সার্কভুক্ত দেশগুলোর একটা সংস্থা আছে। তারা একসময় দেখলেন যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভোটারদের যে অধিকার, দায়িত্বগুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা চর্চার ক্ষেত্রে ভোট এবং ভোটারের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। জনগণ যদি ভোটার হওয়া এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিস্ক্রীয় থাকে, তারা যদি আগ্রহ না দেখায়, তাহলে তো গণতন্ত্রের যে সুষ্ঠু চর্চা, সেটা কিন্তু অনেকটা নিখুঁত হয় না। এজন্যই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, প্রতিবছর সার্কভুক্ত দেশগুলো তাদের বিধানমত বছরে একটি দিন ভোটার দিবস হিসেবে পালন করবেন। যাতে দেশের সব মানুষ জানতে পারেন যে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটারদের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে, গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে, ভোটদানে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। এই জিনিসটা একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানানো। সে অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে আমরা এটি করে আসছি। আগে ১ মার্চ এই দিবসটি পালন করা হতো। এখন ২ মার্চ পালন করা হয়। এদিন যারা আগের ভোটার আছেন, যারা মারা গেছেন তাদের নাম কাটা, নতুন ভোটার হয়েছেন এটি হিসাব করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে কতজন ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তা এদিন জানতে পারবেন।

রইস/১

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আমাদেরকে আস্থায় নেওয়া : ইসি

আপডেট সময় : ১২:০৮:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

সব রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত আমাদেরকে আস্থায় নেওয়া বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন করেছি, কেউ বলতে পারবে না কোনো পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছি।

বুধবার (১ মার্চ) নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আলমগীর বলেন, ইতোমধ্যে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলোর নানারকম পরিস্থিতি ছিল। একটি বড় রাজনৈতিক দল কোনো নির্বাচনেই অংশ নিচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই তাদের যারা সাপোর্টার তারা তো ভোট দিতে আসেন না। এ জন্য ভোট কাস্টিং কমে যাচ্ছে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনার মধ্যে আমাদের কিছু নির্বাচন করতে হয়েছে। স্বাভাবিক কারণে তখন অনেকে ভয়ে ভোট দিতে আসেননি। এছাড়া উপ-নির্বাচনগুলো যখন হয়, তার মেয়াদ থাকে অল্প এবং এতে সরকারের কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই ভোটদানেও জনগণের আগ্রহ কম থাকে। সামনে যে জাতীয় নির্বাচন হবে তাতে কিন্তু সরকার পরিবর্তন হতে পারে। সেই সুযোগ যেহেতু এখানে রয়েছে, তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে দলকে ভোট দেবে, তারা সরকার গঠন করবে। তো সেক্ষেত্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে এ পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন করেছি প্রত্যেকটাই সুষ্ঠুভাবে করার চেষ্টা করেছি। আশা করি সংসদ নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আমাদের পক্ষ থেকে যত রকম ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা নেব। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে বলে আমরা মনে করি।

যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না তাদেরকে আনার জন্য শেষ পর্যন্ত ইসির কোনো ভূমিকা থাকবে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এখনো আছে, শেষ পর্যন্ত থাকবে। বুঝতে হবে আমাদের ভূমিকাটা কী। আমরা আশাও করি যে, সবদল নির্বাচনে আসবে। কারণ আমাদের কাজ হলো নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করা। আমরা যদি নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করি, তাহলে সব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। যারা আসছেন না তারা বলছেন যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এটা তারা মনে করেন না। কিন্তু এই মনে করার পেছনে অন্তত আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। সংবিধান এবং আইন আমাদের যে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছে, আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তার পুরোটা প্রয়োগ করে সুষ্ঠু নির্বাচন করব। সেই প্রতিশ্রুতি আমরা ভোটারদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে দিতে চাই।

ভোটার দিবসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটার দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে- সার্কভুক্ত দেশগুলোর একটা সংস্থা আছে। তারা একসময় দেখলেন যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভোটারদের যে অধিকার, দায়িত্বগুলো রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা চর্চার ক্ষেত্রে ভোট এবং ভোটারের ভূমিকা সবচেয়ে বড়। জনগণ যদি ভোটার হওয়া এবং ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিস্ক্রীয় থাকে, তারা যদি আগ্রহ না দেখায়, তাহলে তো গণতন্ত্রের যে সুষ্ঠু চর্চা, সেটা কিন্তু অনেকটা নিখুঁত হয় না। এজন্যই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, প্রতিবছর সার্কভুক্ত দেশগুলো তাদের বিধানমত বছরে একটি দিন ভোটার দিবস হিসেবে পালন করবেন। যাতে দেশের সব মানুষ জানতে পারেন যে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভোটারদের রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে, গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে, ভোটদানে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। এই জিনিসটা একটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জানানো। সে অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে আমরা এটি করে আসছি। আগে ১ মার্চ এই দিবসটি পালন করা হতো। এখন ২ মার্চ পালন করা হয়। এদিন যারা আগের ভোটার আছেন, যারা মারা গেছেন তাদের নাম কাটা, নতুন ভোটার হয়েছেন এটি হিসাব করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে কতজন ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তা এদিন জানতে পারবেন।

রইস/১