ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

মিধিলিকে দেখতে দু্ই সৈকতে পর্যটকের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র উপকূলে দেখানো হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত। এজন্য সমুদ্র স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা উত্তাল। তবে এর মধ্যেও সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করছেন পর্যটকরা। যদিও পর্যটকদের সৈকতে নামতে দিচ্ছে না টুরিস্ট পুলিশ।

উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি জামায়াতের ডাকা হরতাল ও ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের মধ্যে কিছু সংখ্যক পর্যটক পরিবার পরিজন নিয়ে মিধিলির প্রভাব উপভোগ করার জন্য ভিড় করেছেন দেশের ২ সমুদ্রসৈকতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্দেশনা মানছেন না উৎসুক জনতা। পাত্তা দিচ্ছেন না বিচ কর্মী, লাইফগার্ড কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে। উল্টো তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন উৎসুক জনতার অনেকেই।

চাঁদপুর থেকে এসেছেন শফিকুল ইসলাম। আজ শুক্রবার সকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কেন নেমেছেন তিনি? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, মূলত ঘূর্ণিঝড় দেখতে রুম থেকে সমুদ্রে এসেছি। এটি কখন আসবে সেই অপেক্ষায় আছি। তবে অনেক ভালো লাগছে।

ঢাকা থেকে অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে আসা ফয়সাল আহমেদ বলেন, আসছিলাম ঘুরতে। তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়েছে। এটি সত্যি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বড় বড় ঢেউ দেখে ছবি তুলে রাখছি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের বিচ কর্মী ও টুরিস্ট পুলিশ মাঠে আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকালে সাড়ে ৯টার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়।

৯ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র দেখতে শত শত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। এদিন সকাল থেকে সমুদ্রে গোসলসহ আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন আগতরা। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে সতর্কতার মাইকিং করা হলেও তা কর্ণপাত করছেন না তারা।

ক্রমেই কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বইছে দমকা ঝোড়ো বাতাস। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে। টানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতায় সংকেত পতাকা। প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। আবহাওয়া অধিদফতর ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও স্থানীয় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়নি। উপকূলের বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারীদের মাঝে এ নিয়ে তেমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি।

অপরদিকে, মিধিলির প্রভাবে ভাটার সময়েও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে সমুদ্রতীরে এসে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। ঢেউয়ের তাণ্ডবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে থাকা ভাসমান দোকান, ছাতা বেঞ্চ ভেসে যেতে দেখা গেছে। ঝোড়ো বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রে টিকতে না পেরে গভীর সমুদ্রে থাকা হাজারো মাছধরা ট্রলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে এসে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য আড়তদার সমিতির নেতারা। তবে অনেক ট্রলার এখনও সমুদ্র থেকে উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।

জামালপুর থেকে আসা পর্যটক আজিজুর রহমান বলেন, গত পরশু দিন সপরিবারে কুয়াকাটায় এসেছি। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যাচ্ছি না। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ দেখতে সৈকতে নেমেছি। উত্তাল ঢেউ দেখতে অনেকটা ভালো লেগেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তারপরও সৈকতে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করেছি।

অপর একজন পর্যটক আহমেদ শফিক বলেন, জীবনে এই প্রথম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে কুয়াকাটা সৈকতে এসেছি। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ দেখার প্রথম অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম। ঘূর্ণিঝড়ে আতঙ্ক থাকলেও সৈকতে আমার মতো অনেক পর্যটক-দর্শনার্থী ভিড় করছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ হাসনাইন পারভেজ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সমুদ্র অনেকটা উত্তাল রয়েছে। যার কারণে মাইকিং করে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সৈকতের নেমে গোসল করতে নিষেধ করা হচ্ছে। তারপরও সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কিছু সংখ্যক পর্যটক আনন্দ উপভোগ করছেন। তবে কেউ যাতে গভীর সমুদ্রে না যায় সেদিকে আমাদের খেয়াল আছে।

উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুপুরের পর থেকেই কলাপাড়া উপকূলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সিপিপির সদস্যরা প্রস্তুত আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জরুরি সভা ডেকে সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাইকিং করতে বলা হয়েছে। উপজেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। বেড়িবাঁধের বাইরের সকল জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় সন্ধ্যা নাগাদ আঘাত হানতে পারে।

আরকে/১৭

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মিধিলিকে দেখতে দু্ই সৈকতে পর্যটকের ভিড়

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৩

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র উপকূলে দেখানো হয়েছে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত। এজন্য সমুদ্র স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটা উত্তাল। তবে এর মধ্যেও সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘোরাঘুরি করছেন পর্যটকরা। যদিও পর্যটকদের সৈকতে নামতে দিচ্ছে না টুরিস্ট পুলিশ।

উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি জামায়াতের ডাকা হরতাল ও ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের মধ্যে কিছু সংখ্যক পর্যটক পরিবার পরিজন নিয়ে মিধিলির প্রভাব উপভোগ করার জন্য ভিড় করেছেন দেশের ২ সমুদ্রসৈকতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্দেশনা মানছেন না উৎসুক জনতা। পাত্তা দিচ্ছেন না বিচ কর্মী, লাইফগার্ড কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশকে। উল্টো তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন উৎসুক জনতার অনেকেই।

চাঁদপুর থেকে এসেছেন শফিকুল ইসলাম। আজ শুক্রবার সকালে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন তিনি। ঘূর্ণিঝড়ের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কেন নেমেছেন তিনি? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, মূলত ঘূর্ণিঝড় দেখতে রুম থেকে সমুদ্রে এসেছি। এটি কখন আসবে সেই অপেক্ষায় আছি। তবে অনেক ভালো লাগছে।

ঢাকা থেকে অফিস সহকর্মীদের সঙ্গে আসা ফয়সাল আহমেদ বলেন, আসছিলাম ঘুরতে। তার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়েছে। এটি সত্যি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। বড় বড় ঢেউ দেখে ছবি তুলে রাখছি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। তাই পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের বিচ কর্মী ও টুরিস্ট পুলিশ মাঠে আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকালে সাড়ে ৯টার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়।

৯ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর, ফেনী, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র দেখতে শত শত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমিয়েছেন কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে। এদিন সকাল থেকে সমুদ্রে গোসলসহ আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন আগতরা। ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে সতর্কতার মাইকিং করা হলেও তা কর্ণপাত করছেন না তারা।

ক্রমেই কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বইছে দমকা ঝোড়ো বাতাস। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে। টানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতায় সংকেত পতাকা। প্রবল গতিতে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মিধিলি। আবহাওয়া অধিদফতর ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে ২৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও স্থানীয় মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়নি। উপকূলের বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারীদের মাঝে এ নিয়ে তেমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা যায়নি।

অপরদিকে, মিধিলির প্রভাবে ভাটার সময়েও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়ে সমুদ্রতীরে এসে আছড়ে পড়ছে বড় বড় ঢেউ। ঢেউয়ের তাণ্ডবে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে থাকা ভাসমান দোকান, ছাতা বেঞ্চ ভেসে যেতে দেখা গেছে। ঝোড়ো বাতাস ও উত্তাল সমুদ্রে টিকতে না পেরে গভীর সমুদ্রে থাকা হাজারো মাছধরা ট্রলার আলীপুর-মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে এসে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য আড়তদার সমিতির নেতারা। তবে অনেক ট্রলার এখনও সমুদ্র থেকে উঠে আসছে বলে জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।

জামালপুর থেকে আসা পর্যটক আজিজুর রহমান বলেন, গত পরশু দিন সপরিবারে কুয়াকাটায় এসেছি। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় ফিরে যাচ্ছি না। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ দেখতে সৈকতে নেমেছি। উত্তাল ঢেউ দেখতে অনেকটা ভালো লেগেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। তারপরও সৈকতে নেমে ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করেছি।

অপর একজন পর্যটক আহমেদ শফিক বলেন, জীবনে এই প্রথম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে কুয়াকাটা সৈকতে এসেছি। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ দেখার প্রথম অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম। ঘূর্ণিঝড়ে আতঙ্ক থাকলেও সৈকতে আমার মতো অনেক পর্যটক-দর্শনার্থী ভিড় করছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ হাসনাইন পারভেজ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে সমুদ্র অনেকটা উত্তাল রয়েছে। যার কারণে মাইকিং করে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সৈকতের নেমে গোসল করতে নিষেধ করা হচ্ছে। তারপরও সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কিছু সংখ্যক পর্যটক আনন্দ উপভোগ করছেন। তবে কেউ যাতে গভীর সমুদ্রে না যায় সেদিকে আমাদের খেয়াল আছে।

উপজেলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, দুপুরের পর থেকেই কলাপাড়া উপকূলে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সিপিপির সদস্যরা প্রস্তুত আছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জরুরি সভা ডেকে সকল ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাইকিং করতে বলা হয়েছে। উপজেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। বেড়িবাঁধের বাইরের সকল জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় সন্ধ্যা নাগাদ আঘাত হানতে পারে।

আরকে/১৭