ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

পরশের পরশে যুবলীগ অনন্য উচ্চতায়, বেড়েছে সাংগঠনিক স্পন্দন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩ ১২৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
জাহিদুল ইসলাম রনি

তার পরশে সব যেন বদলে গেলো । পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উদাহরণ হিসেবে লোক মুখে উচ্চারিত হয় নামটি। তার পরশে অনন্য উচ্চতায় যুবলীগ এখন উদাহরণ দেয়ার মতো একটি রাজনৈতিক সংগঠন। বেড়েছে দলটির সাংগঠনিক স্পন্দন।

মিছিলের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে অন্তহীন বির্তক। নানান সময়ে শীর্ষ সংগঠনগুলোর বির্তকিত নেতৃত্ব কোনঠাসা করে ফেলে শত বছরের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা আদর্শিক দর্শনকে। কিছু মানুষের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাশুল দিতে হয় সংগঠনকে। ২০১৯ সালে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিলো যুবলীগকে। সে সময়ে বিতর্কের মুখে যুবলীগের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সংগঠনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে। এ ছাড়াও বহিস্কার করা হয় প্রায় ডজন খানেক নেতাকে।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে

একটি ইমেজ সংকটে পড়তে দেখা যায় যুবলীগকে। তবে সেটা খুব দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে। অব্যাহতি ও বহিস্কারের পর সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে বয়স সীমা নির্ধারণসহ সংগঠনটির অষ্টম জাতীয় কংগ্রেস আয়োজনের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সংগঠনটির অষ্টম জাতীয় কংগ্রেস সম্মেলন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে বেশকিছু নতুন নাম ওঠে আসে। কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে তার নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে শামস পরশ

সকল গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে যুবলীগের হাল ধরতে শেখ ফজলে শামস পরশের হাতে তুলে দেয়া হয় যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব। কিন্তু কে এই পরশ? দেশের সবখানে সেভাবে পরিচিতি তখনও পেয়ে ওঠেননি তিনি। সংবাদমাধ্যম জানিয়ে দেয় ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা শেখ মনি ও মা আরজু মণিকে চিরতরে হারান পরশ। তখন তার বয়স মাত্র ৬। ছোট ভাই তাপস মাত্র ৪ বছরের শিশু। বঙ্গবন্ধুর বোন শেখ আছিয়া বেগমের বড় ছেলে শেখ ফজলুল হক মনি।

স্মৃতির এ্যালবাম।। পিতা যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির সাথে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয় পরশ-তাপসকে। কখনও আত্মীয়দের বাসায় লুকিয়ে থাকতে হয়েছে, কখনোবা পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। এভাবে দুই বছর কাটার পর ১৯৭৮ সালে তারা ভারতে চলে যায়। শেখ আছিয়া বেগম তাদের ভারতে নিয়ে যান। চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, ফুপু শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা তারাও তখন বিদেশে শরণার্থী।

মাঝখানে কেটে  যায় জীবনের অনেকটা সময়, উচ্চতর শিক্ষা অর্জন, সেই সাথে নিজেকে তৈরি করতে সময় ব্যয় করেন তিনি। শেখ পরিবারের উত্তরাধিকারী পরশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে কলরাডো স্টেট ইউনির্ভাসিটি থেকে স্নাতকোত্তর করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় সংস্কৃতিমনা পরশ গান বাজনার প্রতিও বেশ সৌখিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্যে আবেগঘন পরিবেশে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস

শুভ্র সৌম্য দর্শনধারী এই মানুষটি যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার পর অল্প সময়ে দেশের রাজনীতিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে  ওঠেন। একজন কর্মী বান্ধব আগামী দিনের কাণ্ডারী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন । শেখ পরশের ছোট ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

পিতার হাতে গড়া যুবলীগের মাঝে সেই ঘামে ভেজা কাপড়ের গন্ধ খুঁজে পান শেখ পরশ। যতটুকু আবেগ তাড়িত করে তার চাইতে বেশি সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে পেয়ে ফিরে যান নষ্টালজিয়ায়। যুবলীগের প্রতিটি স্তরে খুঁজে ফিরেন পিতার স্পর্শ। এ ক’টা বছরে যুবলীগ তার হৃত ঐহিত্য ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। বিগত সময়গুলোর চেয়ে যুবলীগ এখন অনেক সুসংহত ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে শেখ ফজলে শামস পরশ ও নাহিদ সুলতানা যুথি 

দায়িত্ব পাওয়ার দিনটির কথা কখন ভুলবার নয়। সপ্তম কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ছোট ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস, চাচাত ভাই শেখ ফাহিম, শেখ নাঈমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্মেলনে যোদেন শেখ পরশ। ঝাঁকড়া চুলের দীর্ঘদেহী মানুষটি যখন মূল মঞ্চের দিকে যেতে থাকেন তখন সেখানে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাকে অভিবাদন জানান। এরপর যুবলীগের একজন নেতা মূল মঞ্চে তুলে নেন। মঞ্চে থাকা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে প্রথম সারির ৫টি চেয়ারের সর্বডানে বসেন তিনি। তার বামে বসেন ওবায়দুল কাদের, তার বামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এরপর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আসন গ্রহণ করেন। এক এক ঘোষণা করা হয় নতুন নেতৃত্বের নাম।

জনসভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ ফজলে শামস পরশ

আওয়ামী যুবলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যুবলীককে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নেতৃত্ব সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফল হয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে যুবলীগ এক নতুন যাত্রা শুরু করে। আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির যোগ্য উত্তরসূরির হাতে সংগঠনটির নবযাত্রা শুরু হয়। আওয়ামী যুবলীগ অতীতের মতোই উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে।

শেখ ফজলে শামস পরশের পাশে সহযোদ্ধা নাহিদ সুলতানা যুথি 

ব্যক্তিগত জীবনে উত্তরের সিরাজগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথির সাথে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ হন । তিনি সুপ্রিম  কোর্টের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে রাজনীতি করে আসা অ্যাডভোকেট যুথি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের (রুলা) প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে প্রচারণায় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে দেশের সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিতে আসেন ।

মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন নাহিদ সুলতানা যুথি 

করোনার মহামারীতে দুঃসময়ে মানবতার ফেরিওয়ালার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক এই ট্রেজারার নাহিদ সুলতানা যুথি।  করোনার সময় ২৫ মে বিবাহ বার্ষিকীর দিনেও মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন। তার বাবা ছিলেন পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান। শিক্ষকের সন্তান হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা তিনি ভুলে যাননি। সে সময়ে তিনি হাজার হাজার মানুষকে উপহার হিসেবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ও নগদ অর্থ অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেন।

শেখ ফজলে শামস পরশের পাশে নাহিদ সুলতানা যুথি সহযোদ্ধা হয়ে, একজন বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাজ করছেন। চিন্তা-চেতনা মননে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের প্রথম সারির যোদ্ধা তারা। দেশের লক্ষ প্রাণের আশাস্থল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পরশের পরশে যুবলীগ অনন্য উচ্চতায়, বেড়েছে সাংগঠনিক স্পন্দন

আপডেট সময় : ০২:৩৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩
জাহিদুল ইসলাম রনি

তার পরশে সব যেন বদলে গেলো । পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উদাহরণ হিসেবে লোক মুখে উচ্চারিত হয় নামটি। তার পরশে অনন্য উচ্চতায় যুবলীগ এখন উদাহরণ দেয়ার মতো একটি রাজনৈতিক সংগঠন। বেড়েছে দলটির সাংগঠনিক স্পন্দন।

মিছিলের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে অন্তহীন বির্তক। নানান সময়ে শীর্ষ সংগঠনগুলোর বির্তকিত নেতৃত্ব কোনঠাসা করে ফেলে শত বছরের ঐতিহ্যে গড়ে ওঠা আদর্শিক দর্শনকে। কিছু মানুষের অরাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাশুল দিতে হয় সংগঠনকে। ২০১৯ সালে একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিলো যুবলীগকে। সে সময়ে বিতর্কের মুখে যুবলীগের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সংগঠনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে। এ ছাড়াও বহিস্কার করা হয় প্রায় ডজন খানেক নেতাকে।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে

একটি ইমেজ সংকটে পড়তে দেখা যায় যুবলীগকে। তবে সেটা খুব দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে। অব্যাহতি ও বহিস্কারের পর সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে বয়স সীমা নির্ধারণসহ সংগঠনটির অষ্টম জাতীয় কংগ্রেস আয়োজনের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সংগঠনটির অষ্টম জাতীয় কংগ্রেস সম্মেলন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কংগ্রেসে বেশকিছু নতুন নাম ওঠে আসে। কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে তার নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে শামস পরশ

সকল গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে যুবলীগের হাল ধরতে শেখ ফজলে শামস পরশের হাতে তুলে দেয়া হয় যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব। কিন্তু কে এই পরশ? দেশের সবখানে সেভাবে পরিচিতি তখনও পেয়ে ওঠেননি তিনি। সংবাদমাধ্যম জানিয়ে দেয় ১৯৭২ সালের ১১ই নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাবা শেখ মনি ও মা আরজু মণিকে চিরতরে হারান পরশ। তখন তার বয়স মাত্র ৬। ছোট ভাই তাপস মাত্র ৪ বছরের শিশু। বঙ্গবন্ধুর বোন শেখ আছিয়া বেগমের বড় ছেলে শেখ ফজলুল হক মনি।

স্মৃতির এ্যালবাম।। পিতা যুবলীগ প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির সাথে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয় পরশ-তাপসকে। কখনও আত্মীয়দের বাসায় লুকিয়ে থাকতে হয়েছে, কখনোবা পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। এভাবে দুই বছর কাটার পর ১৯৭৮ সালে তারা ভারতে চলে যায়। শেখ আছিয়া বেগম তাদের ভারতে নিয়ে যান। চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, ফুপু শেখ হাসিনা, শেখ রেহেনা তারাও তখন বিদেশে শরণার্থী।

মাঝখানে কেটে  যায় জীবনের অনেকটা সময়, উচ্চতর শিক্ষা অর্জন, সেই সাথে নিজেকে তৈরি করতে সময় ব্যয় করেন তিনি। শেখ পরিবারের উত্তরাধিকারী পরশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে কলরাডো স্টেট ইউনির্ভাসিটি থেকে স্নাতকোত্তর করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় সংস্কৃতিমনা পরশ গান বাজনার প্রতিও বেশ সৌখিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্যে আবেগঘন পরিবেশে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস

শুভ্র সৌম্য দর্শনধারী এই মানুষটি যুবলীগের দায়িত্ব নেয়ার পর অল্প সময়ে দেশের রাজনীতিতে জনপ্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে  ওঠেন। একজন কর্মী বান্ধব আগামী দিনের কাণ্ডারী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন । শেখ পরশের ছোট ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

পিতার হাতে গড়া যুবলীগের মাঝে সেই ঘামে ভেজা কাপড়ের গন্ধ খুঁজে পান শেখ পরশ। যতটুকু আবেগ তাড়িত করে তার চাইতে বেশি সাংগঠনিক দায়িত্ব কাঁধে পেয়ে ফিরে যান নষ্টালজিয়ায়। যুবলীগের প্রতিটি স্তরে খুঁজে ফিরেন পিতার স্পর্শ। এ ক’টা বছরে যুবলীগ তার হৃত ঐহিত্য ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। বিগত সময়গুলোর চেয়ে যুবলীগ এখন অনেক সুসংহত ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে শেখ ফজলে শামস পরশ ও নাহিদ সুলতানা যুথি 

দায়িত্ব পাওয়ার দিনটির কথা কখন ভুলবার নয়। সপ্তম কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে চাচা শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ছোট ভাই শেখ ফজলে নূর তাপস, চাচাত ভাই শেখ ফাহিম, শেখ নাঈমসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্মেলনে যোদেন শেখ পরশ। ঝাঁকড়া চুলের দীর্ঘদেহী মানুষটি যখন মূল মঞ্চের দিকে যেতে থাকেন তখন সেখানে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ তাকে অভিবাদন জানান। এরপর যুবলীগের একজন নেতা মূল মঞ্চে তুলে নেন। মঞ্চে থাকা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে প্রথম সারির ৫টি চেয়ারের সর্বডানে বসেন তিনি। তার বামে বসেন ওবায়দুল কাদের, তার বামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এরপর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ আসন গ্রহণ করেন। এক এক ঘোষণা করা হয় নতুন নেতৃত্বের নাম।

জনসভায় বক্তব্য রাখছেন শেখ ফজলে শামস পরশ

আওয়ামী যুবলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল যুবলীককে তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নেতৃত্ব সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সফল হয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে যুবলীগ এক নতুন যাত্রা শুরু করে। আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির যোগ্য উত্তরসূরির হাতে সংগঠনটির নবযাত্রা শুরু হয়। আওয়ামী যুবলীগ অতীতের মতোই উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে এগিয়ে চলছে সামনের দিকে।

শেখ ফজলে শামস পরশের পাশে সহযোদ্ধা নাহিদ সুলতানা যুথি 

ব্যক্তিগত জীবনে উত্তরের সিরাজগঞ্জে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথির সাথে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বৈবাহিকসূত্রে আবদ্ধ হন । তিনি সুপ্রিম  কোর্টের একজন স্বনামধন্য আইনজীবী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে রাজনীতি করে আসা অ্যাডভোকেট যুথি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের (রুলা) প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে প্রচারণায় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে দেশের সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টিতে আসেন ।

মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন নাহিদ সুলতানা যুথি 

করোনার মহামারীতে দুঃসময়ে মানবতার ফেরিওয়ালার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক এই ট্রেজারার নাহিদ সুলতানা যুথি।  করোনার সময় ২৫ মে বিবাহ বার্ষিকীর দিনেও মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন। তার বাবা ছিলেন পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান। শিক্ষকের সন্তান হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়বদ্ধতা তিনি ভুলে যাননি। সে সময়ে তিনি হাজার হাজার মানুষকে উপহার হিসেবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ও নগদ অর্থ অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছে দেন।

শেখ ফজলে শামস পরশের পাশে নাহিদ সুলতানা যুথি সহযোদ্ধা হয়ে, একজন বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাজ করছেন। চিন্তা-চেতনা মননে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের প্রথম সারির যোদ্ধা তারা। দেশের লক্ষ প্রাণের আশাস্থল।