ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

দশ ট্রাক অস্ত্র পাড়া মহল্লায় বিতরণের পরিকল্পনা ছিলো !

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩ ১১০ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেস্ক রিপোর্ট

 

ভারতের আসামে গড়ে উঠা সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম-উলফা’র নামে বাংলাদেশে আনা ১০ ট্রাক অস্ত্রের বেশিরভাগই দেশের পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিকল্পনা ছিলো বিএনপি-জামায়াত সরকারের। ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জগজিৎ সিং একাত্তর টিভিতে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেছেন, এই অস্ত্র ধরা না পড়লে ২১ আগস্টের মতো আরও ঘটনা ঘটতো।

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজহিদীনের প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন ও ১০ ট্রাক অস্ত্রের ভাগ বাটোরায়া নিয়ে উলফার পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন। এমন সব তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দাদের জন্য ছিলো জ্বলন্ত কড়াইয়ের সঙ্গে চুলার আগুনে পড়ার মতো। পাঞ্জাবের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জগজিৎ সিং প্রথমসারির ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসাবে তখন সেভেন সিস্টার্সে উলফা আর তার প্রধান পরেশ বড়ুয়ার ষড়যন্ত্র ভাঙ্গার অ্যাসাইনমেন্টে। অস্ত্র আর জঙ্গির খবর দিয়ে সহায়তা চাইলেন বাংলাদেশ সরকারের।

জগজিৎ বলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের ঘটনাস্থলের কাছেই পরেশ বড়ুয়ার অবস্থান হলেও দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এনিয়ে চুপ ছিলো বিএনপি সরকার। তাদের ইচ্ছায় সেই সময় নীরব ছিলো সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পুলিশকেও দূরে সারিয়ে রাখে বিএনপি সরকার। তিনি বলেন, এসবের চেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ছিলো পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুহাহিদীন প্রধান জড়িত আছেন দশ ট্রাক অস্ত্র চালানের সঙ্গে। সোর্স জানালো, আগে থেকেই তার অবস্থান বাংলাদেশের ভেতরে। সেই তথ্য জানালো হলো বাংলাদেশ সরকারকে।

ভারতের সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশকে জানানোর পর সবাই সতর্ক হয়ে উঠে। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, পরেশ বড়ুয়া এবং সালাউদ্দিনের মধ্যে বৈঠকের খবর পেয়েও নীরব ভূমিকা পালন করেছিলো সেই সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

পরিস্থিতি সামলাতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই তখন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন অটল বিহারী বাজপেয়ী। গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েই তৎপর হলেন তিনি। জানান, সঠিক সময়ে এই তথ্য পাওয়া জরুরি ছিলো। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের চারমাসের মধ্যের ঘটনা। তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যে যে দুইয়ে দুই চারের অঙ্ক মিললো। জগজিতের ভাষায় তা হলো, বিএনপির কাঁধে সওয়ার জামায়াতের পাকিস্তানি এজেন্ডার গুটি। তিনের টার্গেটই অভিন্ন- আওয়ামী লীগ।

মেজর জেনারেল জগজিৎ বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের ৫০ থেকে ৫৫ ভাগ পাকিস্তানের দোসর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাড়া-মহল্লার কর্মীদের কাছে বিতরণের পরিকল্পনা ছিলো। এসব অস্ত্র বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে কাজে লাগবে, এমনটাই বোঝানো হয়েছিলো সেই সময়ে। তরুণ সেনা হিসাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া জগজিৎ সিং এখনও শিউরে ওঠেন সেই কথা ভেবে যে, সেদিন ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা না পরলে কেমন হতো আজকের বাংলাদেশ।

 

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের এক এপ্রিল মধ্যরাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইউএফএল জেটিঘাটে দুটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে অস্ত্র খালাস করে ট্রাকে তোলার সময় পুলিশ আটক করে। পরে তা ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার হিসেবে পরিচিতি পায়। এই চালান ধরা পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সেই সময় বলা হয়েছিলো, চীনের তৈরি এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমুদ্রপথে আনা হয় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘উলফা’র জন্য। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ওই চালান ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো।

 

সুত্র: একাত্তর টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দশ ট্রাক অস্ত্র পাড়া মহল্লায় বিতরণের পরিকল্পনা ছিলো !

আপডেট সময় : ০২:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মার্চ ২০২৩

ডেস্ক রিপোর্ট

 

ভারতের আসামে গড়ে উঠা সাবেক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ আসাম-উলফা’র নামে বাংলাদেশে আনা ১০ ট্রাক অস্ত্রের বেশিরভাগই দেশের পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিকল্পনা ছিলো বিএনপি-জামায়াত সরকারের। ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জগজিৎ সিং একাত্তর টিভিতে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেছেন, এই অস্ত্র ধরা না পড়লে ২১ আগস্টের মতো আরও ঘটনা ঘটতো।

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন হিজবুল মুজহিদীনের প্রধান সৈয়দ সালাউদ্দিন ও ১০ ট্রাক অস্ত্রের ভাগ বাটোরায়া নিয়ে উলফার পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছেন। এমন সব তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দাদের জন্য ছিলো জ্বলন্ত কড়াইয়ের সঙ্গে চুলার আগুনে পড়ার মতো। পাঞ্জাবের সন্তান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জগজিৎ সিং প্রথমসারির ভারতীয় সেনা গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসাবে তখন সেভেন সিস্টার্সে উলফা আর তার প্রধান পরেশ বড়ুয়ার ষড়যন্ত্র ভাঙ্গার অ্যাসাইনমেন্টে। অস্ত্র আর জঙ্গির খবর দিয়ে সহায়তা চাইলেন বাংলাদেশ সরকারের।

জগজিৎ বলেন, দশ ট্রাক অস্ত্র খালাসের ঘটনাস্থলের কাছেই পরেশ বড়ুয়ার অবস্থান হলেও দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এনিয়ে চুপ ছিলো বিএনপি সরকার। তাদের ইচ্ছায় সেই সময় নীরব ছিলো সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। পুলিশকেও দূরে সারিয়ে রাখে বিএনপি সরকার। তিনি বলেন, এসবের চেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য ছিলো পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুহাহিদীন প্রধান জড়িত আছেন দশ ট্রাক অস্ত্র চালানের সঙ্গে। সোর্স জানালো, আগে থেকেই তার অবস্থান বাংলাদেশের ভেতরে। সেই তথ্য জানালো হলো বাংলাদেশ সরকারকে।

ভারতের সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশকে জানানোর পর সবাই সতর্ক হয়ে উঠে। তবে আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, পরেশ বড়ুয়া এবং সালাউদ্দিনের মধ্যে বৈঠকের খবর পেয়েও নীরব ভূমিকা পালন করেছিলো সেই সময়ের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

পরিস্থিতি সামলাতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই তখন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন অটল বিহারী বাজপেয়ী। গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েই তৎপর হলেন তিনি। জানান, সঠিক সময়ে এই তথ্য পাওয়া জরুরি ছিলো। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের চারমাসের মধ্যের ঘটনা। তদন্তে বেরিয়ে আসা তথ্যে যে দুইয়ে দুই চারের অঙ্ক মিললো। জগজিতের ভাষায় তা হলো, বিএনপির কাঁধে সওয়ার জামায়াতের পাকিস্তানি এজেন্ডার গুটি। তিনের টার্গেটই অভিন্ন- আওয়ামী লীগ।

মেজর জেনারেল জগজিৎ বলেন, ১০ ট্রাক অস্ত্র চালানের ৫০ থেকে ৫৫ ভাগ পাকিস্তানের দোসর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাড়া-মহল্লার কর্মীদের কাছে বিতরণের পরিকল্পনা ছিলো। এসব অস্ত্র বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে কাজে লাগবে, এমনটাই বোঝানো হয়েছিলো সেই সময়ে। তরুণ সেনা হিসাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া জগজিৎ সিং এখনও শিউরে ওঠেন সেই কথা ভেবে যে, সেদিন ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা না পরলে কেমন হতো আজকের বাংলাদেশ।

 

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের এক এপ্রিল মধ্যরাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইউএফএল জেটিঘাটে দুটি মাছ ধরার ট্রলার থেকে অস্ত্র খালাস করে ট্রাকে তোলার সময় পুলিশ আটক করে। পরে তা ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার হিসেবে পরিচিতি পায়। এই চালান ধরা পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সেই সময় বলা হয়েছিলো, চীনের তৈরি এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমুদ্রপথে আনা হয় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘উলফা’র জন্য। বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ওই চালান ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো।

 

সুত্র: একাত্তর টিভি