ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩ ১১৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী পরামর্শ নেওয়ার জন্য তার কাছে গেলে তাকে যৌন হয়রানি করেন।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের কাছে অভিযোগপত্র দেন তিনি। পরে উপাচার্য অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত করবেন বলে ভুক্তভোগীকে জানান। এদিকে, ঘটনার বিচারের দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. নুরুল ইসলাম। এর আগেও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছিল।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘গত ১১ সেপ্টেম্বর হল বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ইনস্টিটিউটের অফিস কক্ষের সামনে গেলে তিনি আমাকে নিজে থেকে তার কক্ষে ডাকেন। তখন আমি স্যারের কক্ষে যাই। স্যার আমাকে প্রয়োজনীয় দু’একটা কথা বলার পরপরই অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে শুরু করেন। আমার বাবা মৃত জানার পর তিনি আমাকে নানা রকমের সাহায্যের প্রলোভন দেখান এবং আমাকে বলতে থাকেন আমি যেন একা তার সাথে দেখা করি এবং বই নেই তার কাছে গিয়ে। তাছাড়া তার বিষয়ে বা তার সাহায্যের বিষয়ে যেন কাউকে কোনো কথা না বলি।’

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ‘তিনি আমার সেল ফোন নাম্বার নেন এবং এক রকম জোর করেই আমার মেসেঞ্জারে নক করেন এবং যুক্ত হন। তার কথার ধরণ এবং অঙ্গভঙ্গি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়াই এবং তখন তিনি নিজেও তার নিজ আসন ছেড়ে আমার কাছে উঠে আসেন এবং আমাকে যৌন নিপীড়ন করেন। তিনি বার বার বলতে থাকেন, ‘তোমাকে আমার ভালো লেগেছে’-কথাটি বলেন। তিনি আমার শরীরের আপত্তিকর স্থানে স্পর্শ করেন, ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে উঠতে না পেরে আমি ভয়ে তার কক্ষ হতে দৌঁড়ে পালিয়ে যাই।’

অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এরপর আমি এতটাই ভয় পাই যে মেসে ফিরে যাওয়ার শক্তিও পাচ্ছিলাম না, তাই আমি ক্যান্টিনে কিছু সময় অবস্থান করি। কিছু সময় পর আমাকে পুনরায় ফোন করে তার সাথে দুপুরের খাবার অথবা হালকা নাস্তা বা চা খাওয়ার প্রস্তাব জানান। তখনও আমাকে বারবার এই বিষয়ে যেন কাউকে না জানাই, তা সাবধান করতে থাকেন। আমি মানসিক ট্রমা থেকে বের হতে না পেরে প্রচণ্ড ভয়ে দেশের বাসায় চলে যাই যার কারণে আমি আমার চলমান পাঠদান থেকে বিরত থাকি। এমন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

তবে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম ও ইনস্টিটিউটের পারিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম আজমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কেউ সাড়া দেননি। এ রকম দুই একজন শিক্ষকের কারণে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

এম.নাসির/২৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী পরামর্শ নেওয়ার জন্য তার কাছে গেলে তাকে যৌন হয়রানি করেন।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামালের কাছে অভিযোগপত্র দেন তিনি। পরে উপাচার্য অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত করবেন বলে ভুক্তভোগীকে জানান। এদিকে, ঘটনার বিচারের দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করার ঘোষণা দিয়েছে ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. নুরুল ইসলাম। এর আগেও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছিল।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘গত ১১ সেপ্টেম্বর হল বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ইনস্টিটিউটের অফিস কক্ষের সামনে গেলে তিনি আমাকে নিজে থেকে তার কক্ষে ডাকেন। তখন আমি স্যারের কক্ষে যাই। স্যার আমাকে প্রয়োজনীয় দু’একটা কথা বলার পরপরই অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে শুরু করেন। আমার বাবা মৃত জানার পর তিনি আমাকে নানা রকমের সাহায্যের প্রলোভন দেখান এবং আমাকে বলতে থাকেন আমি যেন একা তার সাথে দেখা করি এবং বই নেই তার কাছে গিয়ে। তাছাড়া তার বিষয়ে বা তার সাহায্যের বিষয়ে যেন কাউকে কোনো কথা না বলি।’

ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ‘তিনি আমার সেল ফোন নাম্বার নেন এবং এক রকম জোর করেই আমার মেসেঞ্জারে নক করেন এবং যুক্ত হন। তার কথার ধরণ এবং অঙ্গভঙ্গি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়াই এবং তখন তিনি নিজেও তার নিজ আসন ছেড়ে আমার কাছে উঠে আসেন এবং আমাকে যৌন নিপীড়ন করেন। তিনি বার বার বলতে থাকেন, ‘তোমাকে আমার ভালো লেগেছে’-কথাটি বলেন। তিনি আমার শরীরের আপত্তিকর স্থানে স্পর্শ করেন, ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে উঠতে না পেরে আমি ভয়ে তার কক্ষ হতে দৌঁড়ে পালিয়ে যাই।’

অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এরপর আমি এতটাই ভয় পাই যে মেসে ফিরে যাওয়ার শক্তিও পাচ্ছিলাম না, তাই আমি ক্যান্টিনে কিছু সময় অবস্থান করি। কিছু সময় পর আমাকে পুনরায় ফোন করে তার সাথে দুপুরের খাবার অথবা হালকা নাস্তা বা চা খাওয়ার প্রস্তাব জানান। তখনও আমাকে বারবার এই বিষয়ে যেন কাউকে না জানাই, তা সাবধান করতে থাকেন। আমি মানসিক ট্রমা থেকে বের হতে না পেরে প্রচণ্ড ভয়ে দেশের বাসায় চলে যাই যার কারণে আমি আমার চলমান পাঠদান থেকে বিরত থাকি। এমন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

তবে, এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক নুরুল ইসলাম ও ইনস্টিটিউটের পারিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম আজমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কেউ সাড়া দেননি। এ রকম দুই একজন শিক্ষকের কারণে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

এম.নাসির/২৯