ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

পিতা-মাতার খোঁজ

খুলনায় ডেনমার্কের আশা ওয়েসিস

খুলনা প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪ ৬০ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ফটো

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
Denmark hopes in Khulna :

স্বাধীনতা পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশের খুলনার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আশা ডেনমার্ক থেকে এসেছেন নাড়ির খোঁজে। হন্য হয়ে খুঁজছেন মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের। জন্মদাতা পিতা এবং গর্ভধারিণী মায়ের খোঁজে খুলনায় চষে বেড়াচ্ছেন আশা ওয়েসিস।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে একটি শিশু। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার ২৬ ইসলামপুর রোডের মিশনারিস অব চ্যারিটি থেকে ডেনমার্কের এক পরিবার শিশুটিকে তাদের দেশে দত্তক নিয়ে যায়। ডেনমার্কে গিয়ে শিশুটি নাম পায় আশা ওয়েলিস। এরপর কেটে গেছে ৫০ বছর।

বর্তমানে ডেনমার্কে স্বামী এবং দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে আশার সুখের সংসার। তারপরও আশা জন্মভূমি ও তাঁর ছেড়ে যাওয়া বাবা-মায়ের কথা ভুলতে পারেননি। তাদের সন্ধানে সম্প্রতি বাংলাদেশে আসেন তিনি। বর্তমানে আশা তাঁর আসল মা-বাবার সন্ধানে খুলনার পথে পথে ঘুরছেন। গত ৩ দিন তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন কয়েকটি মন্দির, গির্জা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানে। তবু হারানো সেই মা-বাবার পূর্ণাঙ্গ কোনো তথ্য পাননি।

দোভাষী মোস্তফা চৌধুরীর মাধ্যমে কথা হয় আশার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জানি না কে আমার মা-বাবা বা বাংলাদেশে আমার আত্মীয়-স্বজন আছে কি-না। গত ৯ মার্চ আমি আমার স্বামী মগেনস ফল্ককে নিয়ে বাংলাদেশে আসি। প্রথমে ঢাকায় মিশনারিস অব চ্যারিটিতে যাই। সেখানে কর্মরতরা পুরনো কাগজপত্র দেখে জানান, ডলি মন্ডল নামে এক নারী আমাকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার নির্মল হৃদয় শিশু সদনে রেখে এসেছিল।

আমি গত বৃহস্পতিবার খুলনায় নির্মল হৃদয় শিশু সদনে গিয়ে ডলি মন্ডলের ব্যাপারে খোঁজ নেই। তারা সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে খোঁজার পরামর্শ দেন। এরপর বাগমারা গোবিন্দ মন্দির ও শীতলাবাড়ি মন্দিরে গিয়ে খবর নিয়েছি। কেউ তেমন কোনোও তথ্য দিতে পারেনি।’

শনিবার (১৬ মার্চ) আশা স্বামীকে নিয়ে ডলি মন্ডলের খোঁজে গিয়েছিলেন গণনবাবু রোডের যোসেফপাড়ায়। সেখান থেকেও ডলি মন্ডলের ব্যাপারে কোনোও তথ্য মেলেনি। এক নারী বাবু খান রোডে সেন্ট যোসেফস ক্যাথিড্রালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাদের। ক্যাথিড্রালে গেলে ফাদার ও সিস্টাররা তাদের খালিশপুর নেভি গেটে খ্রিস্টান কলোনিতে খোঁজ নেয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে গিয়েও ডলি মন্ডলের খোঁজ না পাওয়ায় তারা যান সিমেট্রি রোডে খিস্ট্রান কবরস্থানে। সেখানকার কেয়ারটেকার পিটার তাদের ডলি মন্ডল নামে এক নারীর কবর দেখান। কিন্তু ডলি মন্ডলের বিস্তারিত পরিচয়ও কেউ বলতে পারেনি।

দোভাষী মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পিটার নথিপত্র দেখে এবং খোঁজখবর নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যে ডলি মন্ডলের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা যেসব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। সেখানকার লোকজনের কাছে মোবাইল নম্বর দিয়ে এসেছি। যদি তারা কোনো তথ্য পায় তাহলে আমাদের জানাবে।

রোববার সকালে আশা ও তার স্বামীকে নিয়ে আমরা মোংলা হয়ে যাব সুন্দরবন। আশা ও তার স্বামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন।’ এর তারা আবার ডেনমার্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন।

এম.নাসির/১৭

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পিতা-মাতার খোঁজ

খুলনায় ডেনমার্কের আশা ওয়েসিস

আপডেট সময় : ০৭:০৩:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মার্চ ২০২৪
Denmark hopes in Khulna :

স্বাধীনতা পরবর্তী বিধ্বস্ত বাংলাদেশের খুলনার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আশা ডেনমার্ক থেকে এসেছেন নাড়ির খোঁজে। হন্য হয়ে খুঁজছেন মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের। জন্মদাতা পিতা এবং গর্ভধারিণী মায়ের খোঁজে খুলনায় চষে বেড়াচ্ছেন আশা ওয়েসিস।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে একটি শিশু। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর ঢাকার ২৬ ইসলামপুর রোডের মিশনারিস অব চ্যারিটি থেকে ডেনমার্কের এক পরিবার শিশুটিকে তাদের দেশে দত্তক নিয়ে যায়। ডেনমার্কে গিয়ে শিশুটি নাম পায় আশা ওয়েলিস। এরপর কেটে গেছে ৫০ বছর।

বর্তমানে ডেনমার্কে স্বামী এবং দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে আশার সুখের সংসার। তারপরও আশা জন্মভূমি ও তাঁর ছেড়ে যাওয়া বাবা-মায়ের কথা ভুলতে পারেননি। তাদের সন্ধানে সম্প্রতি বাংলাদেশে আসেন তিনি। বর্তমানে আশা তাঁর আসল মা-বাবার সন্ধানে খুলনার পথে পথে ঘুরছেন। গত ৩ দিন তিনি খোঁজখবর নিয়েছেন কয়েকটি মন্দির, গির্জা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থানে। তবু হারানো সেই মা-বাবার পূর্ণাঙ্গ কোনো তথ্য পাননি।

দোভাষী মোস্তফা চৌধুরীর মাধ্যমে কথা হয় আশার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জানি না কে আমার মা-বাবা বা বাংলাদেশে আমার আত্মীয়-স্বজন আছে কি-না। গত ৯ মার্চ আমি আমার স্বামী মগেনস ফল্ককে নিয়ে বাংলাদেশে আসি। প্রথমে ঢাকায় মিশনারিস অব চ্যারিটিতে যাই। সেখানে কর্মরতরা পুরনো কাগজপত্র দেখে জানান, ডলি মন্ডল নামে এক নারী আমাকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকার নির্মল হৃদয় শিশু সদনে রেখে এসেছিল।

আমি গত বৃহস্পতিবার খুলনায় নির্মল হৃদয় শিশু সদনে গিয়ে ডলি মন্ডলের ব্যাপারে খোঁজ নেই। তারা সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে খোঁজার পরামর্শ দেন। এরপর বাগমারা গোবিন্দ মন্দির ও শীতলাবাড়ি মন্দিরে গিয়ে খবর নিয়েছি। কেউ তেমন কোনোও তথ্য দিতে পারেনি।’

শনিবার (১৬ মার্চ) আশা স্বামীকে নিয়ে ডলি মন্ডলের খোঁজে গিয়েছিলেন গণনবাবু রোডের যোসেফপাড়ায়। সেখান থেকেও ডলি মন্ডলের ব্যাপারে কোনোও তথ্য মেলেনি। এক নারী বাবু খান রোডে সেন্ট যোসেফস ক্যাথিড্রালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাদের। ক্যাথিড্রালে গেলে ফাদার ও সিস্টাররা তাদের খালিশপুর নেভি গেটে খ্রিস্টান কলোনিতে খোঁজ নেয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে গিয়েও ডলি মন্ডলের খোঁজ না পাওয়ায় তারা যান সিমেট্রি রোডে খিস্ট্রান কবরস্থানে। সেখানকার কেয়ারটেকার পিটার তাদের ডলি মন্ডল নামে এক নারীর কবর দেখান। কিন্তু ডলি মন্ডলের বিস্তারিত পরিচয়ও কেউ বলতে পারেনি।

দোভাষী মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পিটার নথিপত্র দেখে এবং খোঁজখবর নিয়ে দু-এক দিনের মধ্যে ডলি মন্ডলের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা যেসব জায়গায় খোঁজ নিয়েছি। সেখানকার লোকজনের কাছে মোবাইল নম্বর দিয়ে এসেছি। যদি তারা কোনো তথ্য পায় তাহলে আমাদের জানাবে।

রোববার সকালে আশা ও তার স্বামীকে নিয়ে আমরা মোংলা হয়ে যাব সুন্দরবন। আশা ও তার স্বামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন।’ এর তারা আবার ডেনমার্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন।

এম.নাসির/১৭