ঢাকা ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আবারও বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর মেয়াদ বাড়ানো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে যে দু’টি শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে সরকার তাকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে, মেয়াদ বাড়ানো হলে সেই শর্তই বহাল থাকবে।

এসময় আনিসুল হক বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদা জিয়ার ভাই একটা আবেদন করেছেন তার শর্তযুক্ত মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য। সেই ফাইলটা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমার কাছে এখনো আসেনি। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর ফাইলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

আনিসুল হক আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অভিমত দেওয়া ছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে ফাইলটা পাঠানো হয়েছে। যখন আমার কাছে আসবে, তখন আমি এটা নিষ্পত্তি করতে পারব। তখন আমি অবশ্যই আপনাদের জানাব’।

খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জামিন দেওয়ার এখতিয়ার কিন্তু আদালতের, সরকারের না। আমি যেটা মনে করি, যে শর্ত আছে সেই শর্তই থাকবে। এটাই আমার বিশ্বাস’।

২০২০ সালের ২৫শে মার্চ ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’র ধারা-৪০১ (১)-এর ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেয়। এরপর ওইদিনই হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর গত প্রায় তিন বছরে দফায় দফায় বাড়ে মুক্তির মেয়াদ।

খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে নিজ বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯শে অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সাত বছরের সাজা হয়।

রইস/৯

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে

আপডেট সময় : ১১:৪৮:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আবারও বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর মেয়াদ বাড়ানো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে যে দু’টি শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে সরকার তাকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে, মেয়াদ বাড়ানো হলে সেই শর্তই বহাল থাকবে।

এসময় আনিসুল হক বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খালেদা জিয়ার ভাই একটা আবেদন করেছেন তার শর্তযুক্ত মুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানোর জন্য। সেই ফাইলটা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসেছে। আমার কাছে এখনো আসেনি। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর ফাইলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

আনিসুল হক আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অভিমত দেওয়া ছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে ফাইলটা পাঠানো হয়েছে। যখন আমার কাছে আসবে, তখন আমি এটা নিষ্পত্তি করতে পারব। তখন আমি অবশ্যই আপনাদের জানাব’।

খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জামিন দেওয়ার এখতিয়ার কিন্তু আদালতের, সরকারের না। আমি যেটা মনে করি, যে শর্ত আছে সেই শর্তই থাকবে। এটাই আমার বিশ্বাস’।

২০২০ সালের ২৫শে মার্চ ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’র ধারা-৪০১ (১)-এর ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে প্রথমবারের মতো শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেয়। এরপর ওইদিনই হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসায় ফেরেন তিনি। একই বছরের সেপ্টেম্বরে তার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এরপর গত প্রায় তিন বছরে দফায় দফায় বাড়ে মুক্তির মেয়াদ।

খালেদা জিয়া বর্তমানে গুলশানে নিজ বাসা ‘ফিরোজায়’ রয়েছেন। তিনি আর্থারাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯শে অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সাত বছরের সাজা হয়।

রইস/৯