ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪

কাতারের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩ ১১৫ বার পড়া হয়েছে
নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অবকাঠামো, পর্যটন, জ্বালানি খাত ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে কাতারের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ মার্চ) কাতারে ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৩ দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অফ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ সংক্রান্ত ফোরামের ভাষণে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি বলেন, ‘দেশের ছেলে-মেয়েরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যোগদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। ধীরে ধীরে ৩৮টি হাই-টেক পার্ক তৈরি করছি। দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। আমরা দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাতারের বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত’।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা কাতারের ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি কাতারে বসবাসরত অনাবাসী বাংলাদেশিদেরকে দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং জাতি গঠন প্রচেষ্টায় তাদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশকে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ককে পুনঃস্থাপন করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাতে কাতারের বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় কাতারের দক্ষতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাঘাত বাংলাদেশের মতো দেশকে কঠিন জায়গায় ঠেলে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আমরা কাতার থেকে এলএনজি আমদানি বাড়াতে আগ্রহী। আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও রপ্তানির সুযোগ অন্বেষণ করতে কাতারকে অনুরোধ করছি’।

পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্ণফুলী নদীর টানেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত তৃতীয় টার্মিনাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো-রেল ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন মেগা-প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসব স্থাপনা আমাদের এগিয়ে যাবার আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের সাক্ষ্য দেয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি গ্রুপ থেকে স্নাতক হওয়ার পথে রয়েছে। মহামারীর ঠিক আগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারে পৌঁছেছিল। এমনকি মহামারী চলাকালীনও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৬.৯৪ শতাংশ, যখন এর মাথাপিছু আয় এখন ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে’।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন পূরণে তাঁর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কাতারের নেতৃত্ব ও জনগণ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন।

রইস/৬

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কাতারের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আপডেট সময় : ১০:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ মার্চ ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অবকাঠামো, পর্যটন, জ্বালানি খাত ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ করতে কাতারের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ মার্চ) কাতারে ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৩ দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অফ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ সংক্রান্ত ফোরামের ভাষণে এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এসময় তিনি বলেন, ‘দেশের ছেলে-মেয়েরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যোগদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। ধীরে ধীরে ৩৮টি হাই-টেক পার্ক তৈরি করছি। দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। আমরা দেশের বিভিন্ন সেক্টরে কাতারের বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত’।

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা কাতারের ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি কাতারে বসবাসরত অনাবাসী বাংলাদেশিদেরকে দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং জাতি গঠন প্রচেষ্টায় তাদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশকে পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমাদের সম্পর্ককে পুনঃস্থাপন করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি খাতে কাতারের বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান ও জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় কাতারের দক্ষতা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাঘাত বাংলাদেশের মতো দেশকে কঠিন জায়গায় ঠেলে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আমরা কাতার থেকে এলএনজি আমদানি বাড়াতে আগ্রহী। আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও রপ্তানির সুযোগ অন্বেষণ করতে কাতারকে অনুরোধ করছি’।

পদ্মা বহুমুখী সেতু, কর্ণফুলী নদীর টানেল, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারিত তৃতীয় টার্মিনাল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মেট্রো-রেল ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন মেগা-প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এসব স্থাপনা আমাদের এগিয়ে যাবার আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়ের সাক্ষ্য দেয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ২০২৬ সালে জাতিসংঘের এলডিসি গ্রুপ থেকে স্নাতক হওয়ার পথে রয়েছে। মহামারীর ঠিক আগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হারে পৌঁছেছিল। এমনকি মহামারী চলাকালীনও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৬.৯৪ শতাংশ, যখন এর মাথাপিছু আয় এখন ২,৮২৪ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, এক দশকে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে’।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্ন পূরণে তাঁর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং কাতারের নেতৃত্ব ও জনগণ এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন।

রইস/৬