ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪

অবন্তিকার অভিযোগে নিরব নানান অর্জনকারী সাবেক প্রক্টর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

অবন্তিকার অভিযোগে নিরব নানান অর্জনকারী সাবেক প্রক্টর

নিউজ ফর জাস্টিস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

Jagannath University: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী অবন্তিকা ফায়রুজ গত বছরের নভেম্বরে প্রক্টর অফিসে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগ আমলে নেননি সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল।

গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লা শহরের নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। ফেসবুক পোস্টে তিনি সহপাঠী ও সহকারী প্রক্টরের নাম উল্লেখ করেছেন। পরে শনিবার রাতে সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকী ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার
কথা শোনা গেছে। তাদের মতো অবন্তিকা অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে জানা গেছে।

তিন বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডাব পাড়ায় প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়ে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সেখানে দাঁড় করিয়ে মানসিক হয়রানির শিকার হয়। এমন তুচ্ছ ঘটনায় প্রক্টর অফিস ছাত্রদের বাসায় ডেকে চোর ও মাদকসেবী আখ্যা দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একজন তৌহিদুল ইসলাম শান্ত বলেন, সেদিনের কথা মনে হলেই কেঁপে ওঠেন। ক্যাম্পাসের ফল খেলে শিক্ষার্থীদের কি দোষ? শিক্ষার্থীরা সব ক্যাম্পাসে ফল খায়। এ কথা বলার পর আমাদেরকে ডাব ব্যবসায়ী, মাদকসেবীসহ বিভিন্ন উপাধি দেওয়া হয়। পরিবারকে ডাকা হয়েছিল, এমনকি পুলিশকেও ডাকা হয়েছিল। সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল কখনোই ছাত্রবান্ধব ছিলেন না।

প্রক্টর অফিসে হয়রানির শিকার ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বাদশা (ছদ্মনাম) বলেন, আমাদের এক বন্ধু মারা গেছে। ব্যাচের বন্ধুরা পরীক্ষা আগামী দিনে পিছিয়ে দিতে চায়। পরীক্ষা দেরি করায় আমাকে সহ আরও কয়েকজনকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে হয়রানি করা হয়। স্যাররা আমার বাবা-মাকে ডেকে আমার নামে অনেক খারাপ কথা বলেছেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমার মা কাঁদতে কাঁদতে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলেন।

অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িকে সাইড না দেওয়ায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামি তালিকায় না থাকা শিক্ষার্থীদের নাম দেন মোস্তফা কামাল।

ইংরেজি বিভাগের একাদশ ব্যাচের ছাত্র কামরুল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি যশোরে ছিলাম। তবে আমার নাম ঢুকেছেন সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল। এমনই আরেক শিকার মারুফ, নবম ব্যাচের ছাত্র।

আহমেদুল কবির নামে আরেক ভুক্তভোগী ছাত্র বলেন, ২০২৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে রাত ১০টায় আমরা সিনিয়র জুনিয়ররা শান্ত স্কয়ারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলাম। প্রক্টররা আমাদের বিনা কারণে চলে যেতে বলেন। আমরা কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ডাকা হয়। তারপর আমাদের ধরিয়ে দিতে চান। শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলে চাপের মুখে চলে যেতে বাধ্য হয় তারা।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা এলেও সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল সবার সঙ্গে এমন আচরণ করতেন। কিন্তু সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ বন্ধ করে সারারাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আড্ডা দিতেন।

প্রক্টর মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে দেখে বিয়ে করতে বলা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া, বিকেলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে তালা দেওয়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াসহ আরও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল জানান, গত নভেম্বরে তিনি একটি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে অফিসে ফোন করা হলে তিনি যোগাযোগ করেননি। তাই পরবর্তীতে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরকে/১৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অবন্তিকার অভিযোগে নিরব নানান অর্জনকারী সাবেক প্রক্টর

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪

Jagannath University: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী অবন্তিকা ফায়রুজ গত বছরের নভেম্বরে প্রক্টর অফিসে শ্লীলতাহানি ও হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগ আমলে নেননি সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল।

গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুমিল্লা শহরের নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন অবন্তিকা। ফেসবুক পোস্টে তিনি সহপাঠী ও সহকারী প্রক্টরের নাম উল্লেখ করেছেন। পরে শনিবার রাতে সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকী ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে আটক করে পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার
কথা শোনা গেছে। তাদের মতো অবন্তিকা অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে জানা গেছে।

তিন বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডাব পাড়ায় প্রক্টর অফিসে নিয়ে গিয়ে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সেখানে দাঁড় করিয়ে মানসিক হয়রানির শিকার হয়। এমন তুচ্ছ ঘটনায় প্রক্টর অফিস ছাত্রদের বাসায় ডেকে চোর ও মাদকসেবী আখ্যা দেয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের একজন তৌহিদুল ইসলাম শান্ত বলেন, সেদিনের কথা মনে হলেই কেঁপে ওঠেন। ক্যাম্পাসের ফল খেলে শিক্ষার্থীদের কি দোষ? শিক্ষার্থীরা সব ক্যাম্পাসে ফল খায়। এ কথা বলার পর আমাদেরকে ডাব ব্যবসায়ী, মাদকসেবীসহ বিভিন্ন উপাধি দেওয়া হয়। পরিবারকে ডাকা হয়েছিল, এমনকি পুলিশকেও ডাকা হয়েছিল। সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল কখনোই ছাত্রবান্ধব ছিলেন না।

প্রক্টর অফিসে হয়রানির শিকার ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বাদশা (ছদ্মনাম) বলেন, আমাদের এক বন্ধু মারা গেছে। ব্যাচের বন্ধুরা পরীক্ষা আগামী দিনে পিছিয়ে দিতে চায়। পরীক্ষা দেরি করায় আমাকে সহ আরও কয়েকজনকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে হয়রানি করা হয়। স্যাররা আমার বাবা-মাকে ডেকে আমার নামে অনেক খারাপ কথা বলেছেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমার মা কাঁদতে কাঁদতে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেলেন।

অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িকে সাইড না দেওয়ায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আসামি তালিকায় না থাকা শিক্ষার্থীদের নাম দেন মোস্তফা কামাল।

ইংরেজি বিভাগের একাদশ ব্যাচের ছাত্র কামরুল হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি যশোরে ছিলাম। তবে আমার নাম ঢুকেছেন সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল। এমনই আরেক শিকার মারুফ, নবম ব্যাচের ছাত্র।

আহমেদুল কবির নামে আরেক ভুক্তভোগী ছাত্র বলেন, ২০২৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে রাত ১০টায় আমরা সিনিয়র জুনিয়ররা শান্ত স্কয়ারের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলাম। প্রক্টররা আমাদের বিনা কারণে চলে যেতে বলেন। আমরা কারণ জানতে চাইলে পুলিশ ডাকা হয়। তারপর আমাদের ধরিয়ে দিতে চান। শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করলে চাপের মুখে চলে যেতে বাধ্য হয় তারা।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা এলেও সাবেক প্রক্টর মোস্তফা কামাল সবার সঙ্গে এমন আচরণ করতেন। কিন্তু সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ বন্ধ করে সারারাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আড্ডা দিতেন।

প্রক্টর মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে দেখে বিয়ে করতে বলা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া, বিকেলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে তালা দেওয়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়াসহ আরও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল জানান, গত নভেম্বরে তিনি একটি অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে অফিসে ফোন করা হলে তিনি যোগাযোগ করেননি। তাই পরবর্তীতে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরকে/১৮